টি-টোয়েন্টি সিরিজে প্রথম দুই ম্যাচই জিতে নিল অজিরা। এর মধ্য দিয়ে এক ম্যাচ হাতে রেখেই ২-০তে সিরিজ জয় নিশ্চিত করেছে মিচেল মার্শেল দল। ফলে আগামীকালের তৃতীয় ও শেষ ম্যাচটি রূপ নিল কেবলই আনুষ্ঠানিকতায়।

বীরশ্রেষ্ঠ ফ্লাইট লেফটেন্যান্ট মতিউর রহমান স্টেডিয়ামে স্নায়ুক্ষয়ী লড়াইয়ে বাংলাদেশকে সাত রানে হারিয়েছে অস্ট্রেলিয়া। সাগরিকায় ম্যাট রেনশের ঝড়ো ফিফটিতে ৫ উইকেটে ১৯৬ রানের সৌধ গড়ে অস্ট্রেলিয়া। জবাবে শীর্ষ ৫ ব্যাটারের প্রাণপণ লড়াইয়ে বাংলাদেশ জয়ের কাছাকাছি পৌঁছে গিয়েছিল। যদিও তীরে গিয়ে তরি ডোবে স্বাগতিকদের। সাত রানের জয় তুলে নেয় অতিথি দল।

বাংলাদেশের মাঠে এটাই অস্ট্রেলিয়ার প্রথম টি-টোয়েন্টি সিরিজ জয়। ২০২১ সালে ঢাকায় পাঁচ ম্যাচের টি-টোয়েন্টি সিরিজ খেলে ১-৪-এ হার মেনেছিল অজিরা। গতকাল ম্যাচ শেষে পুরস্কার বিতরণের সময় সঞ্চালক সেই কথা মনে করিয়ে দিলে অস্ট্রেলিয়ার দলনায়ক মিচেল মার্শ বলেন, ‘আমি মনে করি, সেবার আমরা ৪-১-এ হেরেছিলাম এবং ওই একটি জয় পাওয়ায় আমরা ভাগ্যবান ছিলাম। কাজেই এখন জিততে পারাটা দারুণ আনন্দের। তবে আমাদের জন্য এখনো একটি ম্যাচ বাকি আছে।’

পাওয়ার প্লেতে ৩ উইকেট হারানোর পর ৫২ বলে চারটি বাউন্ডারি ও ৫ ছক্কায় ৮৯ রানের বিস্ফোরক ইনিংস খেলে অস্ট্রেলিয়াকে বড় সংগ্রহ এনে দেন রেনশ। এ পথে টিম ডেভিডকে নিয়ে ৫০ বলে ৯৭ রানের দারুণ এক জুটি গড়েন তিনি। ডেভিড দুই বাউন্ডারি ও চার ছক্কায় খেলেন ২৬ বলে ৪৫ রানের কার্যকর এক ইনিংস।

শীর্ষ পেসার মুস্তাফিজুর রহমান (১/৩৪) ও নাহিদ রানা (১/৩৬) নির্বিষ বোলিং করায় এদিন অস্ট্রেলিয়াকে অল্প রান আটকাতে পারেনি স্বাগতিকরা। অভিষেকে ৩২ রানে ২ উইকেট উইকেট নেয়া আব্দুল গাফফার সাকলাইন গতকাল ৫৩ রান খরচ করে নিতে পেরেছেন মাত্র ১টি উইকেট। স্পিনার রিশাদ হোসেনও ছিলেন ব্যয়বহুল। তিনি ৪৬ রান দিয়েও উইকেটশূন্য।

এরপর তানজিদ হাসান (১৫ বলে ৩০), সাইফ হাসান (৩৩ বলে ৪২), সৌম্য সরকার (৯ বলে ১৫), পারভেজ হোসেন ইমন (২২ বলে ৩৬), তাওহীদ হৃদয় (২২ বলে ৩৫) দুর্দান্ত লড়াই করে দলকে শেষ পর্যন্ত জয়ের রেসে রাখলেও জয়ের নাগাল আর পাওয়া হয়নি। একপর্যায়ে ১৩তম ওভারে ২ উইকেটে ১৩০ রান নিয়ে জয়ের আশা জাগলেও শেষটা ভালো হয়নি স্বাগতিকদের। শেষ ১২ বলে ৩৪ রানের সমীকরণ মেলাতে পারেনি লাল-সবুজরা। শেষ দুই বলে ১২ রানের প্রয়োজন ছিল। তাওহীদ পঞ্চম বলে চার মারলে সব আশা শেষ হয়ে যায়। এরপর অ্যারন হার্ডির করা শেষ বলটিতে তিনি আউটই হয়ে যান!

সংক্ষিপ্ত স্কোর

অস্ট্রেলিয়া: ২০ ওভারে ১৯৬/৫ (রেনশ ৮৯*, ডেভিড ৪৫; নাসুম ২/২৭)। বাংলাদেশ: ২০ ওভারে ১৮৯/৬ (সাইফ ৪২, ইমন ৩৬, হৃদয় ৩৫; হার্ডি ২/৪০)। অস্ট্রেলিয়া ৭ রানে জয়ী। প্লেয়ার অব দ্য ম্যাচ: ম্যাট রেনশ। সিরিজ: অস্ট্রেলিয়া ২-০তে এগিয়ে।