যুব বিশ্বকাপের প্রস্তুতি ভালোভাবেই সারলো বাংলাদেশ অনূর্ধ্ব-১৯ দল। আগামী শুক্রবার থেকে শুরু হবে অনূর্ধ্ব-১৯ বিশ্বকাপের ১৪তম আসর। মূল আসরের আগে একটিই প্রস্তুতি ম্যাচ। সেটিতে এইচ মোল্লার দুর্দান্ত ব্যাটিং ও বোলারদের যৌথ পারফরম্যান্সে ডাকওয়ার্থ-লুইস-স্টার্ন (ডিএলএস) পদ্ধতিতে জিম্বাবুয়েকে ১৫৫ রানে হারিয়েছে বর্তমান চ্যাম্পিয়ন বাংলাদেশ।

মঙ্গলবার সেন্ট কিটসে আগে ব্যাটিং করে ৪৯.৫ ওভারে সবকটি উইকেট হারিয়ে ২৭৭ রান সংগ্রহ করে বাংলাদেশের যুবারা। আইচ মোল্লার ব্যাট থেকে আসে ৮২ রানের ইনিংসে। বাংলাদেশের ইনিংসের পর খেলায় কিছুক্ষণ বিঘ্ন ঘটায় বৃষ্টি। পরে ডিএলএস পদ্ধতিতে জিম্বাবুয়ের লক্ষ্য দাঁড়ায় ২৫৬ রান। নাইমুর রহমান ও আরিফুল ইসলামদের দারুণ বোলিংয়ে ৩৫.২ ওভারে ১১০ রানেই গুটিয়ে যায় জিম্বাবুয়ে অনূর্ধ্ব-১৯ দল।

একমাত্র প্রস্তুতি ম্যাচে টস জিতে ব্যাটিংয়ে নেমে বাংলাদেশের শুরুটা ভালো হয়নি। দলীয় ৭ রানের মাথায় ওপেনার ইফতেখার হোসাইনের উইকেট হারায় বাংলাদেশ। ১ রান আসে তার ব্যাট থেকে। ২৩ রানের মাথায় আরেক টপ অর্ডার প্রান্তিক নওরোজ নাবিল ফেরেন ব্যক্তিগত ১০ রানে। এতে বাংলাদেশ কিছুটা পিছিয়ে পড়ে। তৃতীয় উইকেটে এইচ মোল্লা ও ওপেনার আরিফুল ইসলামের ৬১ রানের জুটিতে সে চাপ কিছুটা কাটিয়ে ওঠে। দলের ৮৪ রানের মাথায় আরিফুল ফেরেন ব্যক্তিগত ৪০ রানে। এরপর মোহাম্মদ ফাহিমকে সঙ্গে নিয়ে রানের গতি বাড়াতে থাকেন নাবিল। চতুর্থ উইকেটে বাংলাদেশ তোলে ৮১ রান। এইচ মোল্লা তুলে নেন ফিফটি। ৩৩ রানে ফাহিম আউট হলে ভাঙে এ জুটি।

এরপরই সেঞ্চুরির কাছাকাছি গিয়ে ফেরেন এইচ মোল্লা। ৮২ বলে ৮২ রান আসে এই মিডলঅর্ডারের ব্যাট থেকে। পাঁচটি চার ও তিনটি ছক্কায় ইনিংসটি সাজিয়েছেন তিনি। পরে অধিনায়ক রাকিবুল হাসানের ৩৬ ও রিপন মণ্ডলের ঝড়ো ৩৯ রানে ভর করে ২৭৭ রান তোলে বাংলাদেশ। জিম্বাবুয়ের বোলারদের মধ্যে কোনোর মিচেল চারটি ও ম্যাথু শোনকেন দুটি উইকেট নেন।

বৃষ্টিবিঘ্নিত হওয়ায় ডিএলএস পদ্ধতিতে জিম্বাবুয়ের লক্ষ্য হয় ২৫৬ রান। এই রান তাড়ায় জিম্বাবুয়ে কোনো সম্ভাবনাই জাগাতে পারেনি। তেমন কোনো জুটি তারা গড়ে তুলতে পারেনি। তিনে নেমে সর্বোচ্চ স্টিভেন সাউল ৪৫ বলে ৩৯ করেন পাঁচটি চার ও একটি ছক্কায়। অন্য কোনো ব্যাটার সেভাবে দাঁড়াতে পারেনি। এছাড়া তাশিঙ্গা মাকোনি করেন ২২ রান। ১১০ রানেই অলআউট হয়ে যায় তারা।

বাংলাদেশের সাত বোলার বল হাতে নিয়ে উইকেটের দেখা পান ছয়জনই। ১০ ওভারে দুই মেইডেনসহ ১৮ রানের বিনিময়ে অর্থডক্স স্পিনার নাইমুর রহমান নেন তিনটি উইকেট। পেসার অলরাউন্ডার আরিফুল ইসলাম ও আব্দুল্লাহ আল মামুন দুটি করে, রিপন, মুশফিক হাসান ও তানজিম সাকিব একটি করে উইকেট নেন।

প্রস্তুতি শেষে এখন মূল লড়াই শুরুর পালা। বর্তমান চ্যাম্পিয়ন বাংলাদেশ তাদের মিশন শুরু করবে ১৬ জানুয়ারি ইংল্যান্ডের বিপক্ষে ম্যাচ দিয়ে। গ্রুপের অন্য দুই দল কানাডা ও সংযুক্ত আরব আমিরাত।