ওয়ানডে ফরম্যাটের পর এবার টি-টোয়েন্টিতেও এশিয়ার সেরা ভারত। ২০২৩ সালে ওয়ানডে বিশ্বকাপের আগে ১৬তম এশিয়া কাপ ক্রিকেটের ফাইনালে শ্রীলংকাকে ১০ উইকেটের বিশাল ব্যবধানে হারিয়ে অষ্টমবারের মতো মহাদেশীয় শ্রেষ্ঠত্ব পায় ভারত। তাদের মুকুটে যোগ হলো আরেকটি পালক। গতকাল দুবাইয়ে এশিয়া কাপ টি-টোয়েন্টিতে চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী পাকিস্তানকে ৫ উইকেটে হারাল সূর্যকুমার যাদবের দল। এর মধ্য দিয়ে দুই ফরম্যাটেই এশিয়ার শ্রেষ্ঠত্বের মুকুট পেল ‘মেন ইন ব্লু’রা। এটা ভারতের নবম এশিয়া কাপ শিরোপা। দ্বিতীয় সর্বোচ্চ ছয়বার চ্যাম্পিয়ন হয়েছে শ্রীলংকা, পাকিস্তান জিতেছে দুইবার।

চলতি আসরে গ্রুপ পর্ব ও সুপার ফোরে দুইবার পাকিস্তানকে হারায় ভারত। ফাইনালেও ভারতই ছিল ফেভারিট। এদিন অবশ্য আগের দুই ম্যাচের চেয়ে খানিকটা প্রতিদ্বন্দ্বিতা গড়ে তুলতে সমর্থ হয় সালমান আগার দল। এর পরও দিনশেষে পরাজিত দল তারাই। ফাইনালে বড় সংগ্রহের সম্ভাবনা জাগিয়েও শেষ পর্যন্ত ১৪৬ রানে গুটিয়ে যায় পাকিস্তান। এরপর পেসারদের কল্যাণে ২০ রানে ৩ উইকেট শিকার করে ভারতকে চলতি আসরে প্রথমবারের মতো পরীক্ষার মুখে ফেলে পাকিস্তান। যদিও শেষ রক্ষা হয়নি। তিলক ভার্মার লড়াকু ফিফটিতে শেষ হাসি হাসল ভারতই।

টস হেরে ব্যাটিং করতে নামা পাকিস্তান পাওয়ার প্লের ৬ ওভারে বিনা উইকেটে ৪৫ রান তোলে। ১০০ রান আসে ৬৮ বলে। একটি পর্যায়ে পাকিস্তানের সংগ্রহ ছিল ১১৩/১। সেখান থেকে অবিশ্বাস্য ব্যাটিং ধসে মাত্র ৩৩ রানের মধ্যে পরের ৯ উইকেট হারিয়ে ১৯.১ ওভারে ১৪৬ রানে গুটিয়ে যায় পাকিস্তান!

অথচ দুর্দান্ত সূচনা করেছিলেন পাকিস্তানের দুই ওপেনার শাহিবজাদা ফারহান ও ফখর জামান। পাওয়ার প্লের ৬ ওভার নির্বিঘ্নে কাটিয়ে দিয়ে তারা পাকিস্তানকে বড় সংগ্রহের আশা দেখান। ইন-ফর্ম ব্যাটার ফারহান ফিফটি তুলে নেন ৩৫ বলে। দশম ওভার থেকে শুরু হয় বিপর্যয়। ফিফটি তুলে নেয়ার পরের ওভারে স্পিনার বরুণ চক্রবর্তীকে ছক্কা মারেন ফারহান। পরের বলে আবারো ছক্কা মারতে গিয়ে ডিপ মিড উইকেটে ক্যাচ তুলে দেন তিলক ভার্মাকে। ৩৮ বলে ৫৭ রান করে বিদায় নেন তিনি।

সেখান থেকে ১৯ বলে ২৯ রানের জুটি গড়ে পাকিস্তানের সংগ্রহ একশ পার করান অভিজ্ঞ ফখর জামান (৩৫ বলে ৪৬) ও সাইম আইয়ুব (১১ বলে ১৪)। ১১.২ ওভারে ১০০ রান পেয়ে যায় পাকিস্তান। তখনো তারা ভাবেনি সামনে কত বড় বিপর্যয় অপেক্ষা করছে। ১৩তম ওভারে স্পিনার কুলদীপ যাদবের শিকার হয়ে সাজঘরে ফিরে গেলেন সাইম।

সাঁড়াশি স্পিন আক্রমণে বরুণ ও কুলদীপের সঙ্গে যোগ দেন অক্ষর প্যাটেল। এ তিনজনের ঘূর্ণিতে নাকাল হয়ে একের পর এক উইকেট হারাতে থাকে পাকিস্তান। পরের ওভারে মোহাম্মদ হারিসকে শূন্য রানে ফেরান অক্ষর। ফারহানের পর আরেক ওপেনার ফখরকেও সাজঘরে ফেরালেন স্পিনার বরুণ। ফারহানের মতো ফখরও ছক্কা মেরে পরের বলে ক্যাচ তুলে দিয়ে বিদায় নেন (১২৬/৪)।

এরপর উইকেট পতনের মিছিলে নামেন পাকিস্তানিরা। ৮ রানের মধ্যে আরো চার উইকেটের পতন ঘটে (১৩৪/৮)। এ উইকেটগুলো ভাগাভাগি করেন বরুণ, কুলদীপ ও অক্ষর। এরপর পাকিস্তানের শেষ দুই উইকেট শিকার করেন পেসার জশপ্রীত বুমরাহ। ১৮তম ওভারে হারিস রউফকে ও ২০তম ওভারে মোহাম্মদ নওয়াজকে ফেরান তিনি।

এরপর শুরুতে বোলিং সফলতা পায় পাকিস্তান। পাকিস্তান, বাংলাদেশ ও শ্রীলংকার সঙ্গে টানা তিন ফিফটির পর ফাইনালে দ্রুত আউট হলেন অভিষেক শর্মা। দ্বিতীয় ওভারে তাকে সাজঘরে ফেরান ফাহিম আশরাফ। মিড অনে হারিস রউফকে ক্যাচ দেন চলতি আসরের সর্বোচ্চ রান সংগ্রাহক। ৬ বলে ৫ রান করেন তিনি। পরের ওভারে অধিনায়ক সূর্যকুমার যাদবকে (১) ফেরান শাহিন শাহ আফ্রিদি। নিজের দ্বিতীয় ওভারে শুবমন গিলকে আউট করে পাকিস্তানকে সংহত অবস্থান দেন ফাহিম। ১০ বলে ১২ রান করেন গিল। ভারত ২০ রানে তিন উইকেট হারিয়ে নড়বড়ে হয়ে গেলেও সেই সুযোগটি নিতে পারেনি পাকিস্তান। তাদের ফিল্ডাররা বাজে ফিল্ডিং ও সুযোগ হারাতে থাকেন। আবরার আহমেদের বলে ব্যক্তিগত ১২ রানে ক্যাচ দিয়েছিলেন সাঞ্জু স্যামসন। সেই ক্যাচ ছেড়েছেন হুসাইন তালাত। পরে ২৪ রান করে সেই আবরারের বলেই আউট হয়েছেন তিনি।

এরপর শিবম দুবের সঙ্গে ৪০ বলে ৬০ রানের দারুণ এক জুটিতে ভারতকে নিরাপদ জায়গায় নিয়ে যান তিলক ভার্মা (৫৩ বলে ৬৯*)। অবশ্য ব্যক্তিগত ৩৭ রানে রানআউটের হাত থেকে বেঁচে যান তিলক। জীবন পেয়ে ৪১ বলে ফিফটি করেন তিনি। শেষ পর্যন্ত ভারতকে জিতিয়েই তিনি মাঠ ছাড়েন। দুবে ২২ বলে ৩৩ রান করে ফাহিম আশরাফের তৃতীয় শিকারে পরিণত হলেও রিংকু সিংকে নিয়ে ৪ বলে ১৩ রান তুলে ভারতের জয় নিশ্চিত করেন তিলক।

সংক্ষিপ্ত স্কোর

পাকিস্তান: ১৯.১ ওভারে ১৪৬/১০। ভারত: ১৯.৪ ওভারে ১৫০/৫। ফল: ভারত ৫ উইকেটে জয়ী।