শুটিং থেকে প্যারিস অলিম্পিকের প্রথম স্বর্ণ জয়ের কীর্তি গড়ার পর এবার ডাইভিংয়ের প্রথম স্বর্ণও জিতল চীন। মেয়েদের সিনক্রোনাইজড ৩ মিটার স্প্রিংবোর্ডে ৩৩৭.৬৮ পয়েন্ট পেয়ে চীনকে প্রথম পূর্ণ দিবসের দ্বিতীয় স্বর্ণ এনে দেন চ্যান ইয়ানি ও চেন ইওয়েন।

 

প্যারিসে ডাইভিংয়ের আটটি স্বর্ণের মধ্যে আটটিই জিততে চায় অলিম্পিক জায়ান্ট চীন। প্রথমটি জিতে নেয়ার এখন বাকি সাতটি স্বর্ণের জন্য লড়বে তারা।

 

মেয়েদের সিনক্রোনাইজড ৩ মিটার স্প্রিংবোর্ড ডাইভিংয়ে যুক্তরাষ্ট্রের সারাহ ব্যাকন ও কাসিডি কুক ৩১৪.৬৪ পয়েন্ট নিয়ে রৌপ্য এবং ব্রিটেনের ইয়াসমিন হার্পার ও স্কারলেট মিউ জেনসেন ৩০২.২৮ পয়েন্ট নিয়ে ব্রোঞ্জ জিতেছেন।


 

এই চীনা জুটি গত তিনটি বিশ্ব চ্যাম্পিয়নশিপে স্বর্ণ জয় করায় এবার প্যারিস অলিম্পিকেও হট ফেভারিট হিসেবে খেলতে নামেন এবং শেষ পর্যন্ত তারাই হেসেছেন স্বর্ণের হাসি।

 

আজ চীনাদের সাফল্যের পেছনে অনুপ্রেরণা জুগিয়েছেন সমর্থকরা। চীনা পতাকা নিয়ে উচ্ছল সমর্থকরা ‘জিয়াউ’ ধ্বনিতে মুখরিত করে তোলেন ডাইভি সেন্টারটি, যা বাংলায় অনুবাদ করলে দাঁড়ায় ‘এগিয়ে চলো’। চীনা ডাইভাররা যে সময়ই লড়াইয়ে নেমেছেন তখনই তাদের ‘জিয়াউ’ বলে সমর্থন জুগিয়েছেন চীনা দর্শক।

     

গত এক দশক ধরে ডাইভিংয়ে রাজত্ব করে চলেছে চীনারা। ২০২১ সালে টোকিও অলিম্পিক গেমসে তারা ডাইভিং থেকে সাতটি স্বর্ণপদক জয় করে। তবে কখনো আটটি স্বর্ণের সবগুলোই জেতা হয়নি। এবার সেই লক্ষ্যে ছুটছে চীনারা ডাইভাররা।

 

২০০০ সালে অলিম্পিকে অন্তর্ভুক্ত হয় এই ইভেন্টটি। সিডনিতে সেই গেমসে সাতটির মধ্যে ছয়টি স্বর্ণ জয় করে চীন। সেবার মাত্র একটিতে তারা পরাজিত হয় রাশিয়ার কাছে। তিন বছর আগে টোকিও অলিম্পিকে এই ইভেন্টে চীনকে স্বর্ণ এনে দেন শি তিনমাগো ও ওয়াং হ্যান।

 

১৯৮৪ সালের অলিম্পিকে ডাইভিং প্রথম অন্তর্ভুক্ত হয়। প্রথম স্বর্ণটি জিতে নেয় চীন। সেই থেকে এখন পার্যন্ত ৬৪টি স্বর্ণের ৪৭টি গেছে চীনে। এছঠাড়া ২৩টি রৌপ্য ও ১০টি ব্রোঞ্জও জিতেছেন চীনারা।

 

২০০৮ সালের বেইজিং অলিম্পিক থেকে যদি গোনা শুরু করা হয় তাহলে অলিম্পিকের ডাইভিংয়ে ৩২টি স্বর্ণের মধ্যে ২৭টি জিতেছে চীন। এটা প্যারিসের আগের হিসেব। ২০২৪ সালের আসরেও প্রথম ইভেন্টেই স্বর্ণ জিতে নিল চীন। সংখ্যা ক্রমেই বাড়তে থাকবে।

 

প্যারিসে চলমান ৩৩তম অলিম্পিকে ৩২টি ক্রীড়ায় মোট ৩২৯টি ইভেন্টে ১০ হাজারেরও বেশি অ্যাথলিট লড়াই করছেন।