১৯৮৭ সালের পর থেকে আর্জেন্টিনার বিপক্ষে ইতালির জয়ের খরা চলছে। পরবর্তীতে বিশ্বকাপ ও প্রীতি ম্যাচে দু’দল আরো পাঁচটি খেলায় মুখোমুখি হয়েছে, যেগুলোর দুটিতে ড্র ও তিনটিতেই হেরেছে আজ্জুরিরা। শেষ তিন ম্যাচের সবকটিতেই জয় আর্জেন্টিনার। শুধু তাই নয়, লিওনেল স্কালোনির বর্তমান আর্জেন্টিনা দল টানা ৩১ ম্যাচে অপরাজিত। অন্যদিকে ইউরোপের চ্যাম্পিয়ন হলেও ইতালি এবারো উৎরাতে পারেনি বিশ্বকাপ বাছাইপর্ব! এমন অর্জন নিয়ে ইংল্যান্ডের ওয়েম্বলি স্টেডিয়ামে আজ রাত ১২টা ৪৫ মিনিটে মুখোমুখি হচ্ছে লাতিন আমেরিকার বর্তমান চ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনা ও ইউরো চ্যাম্পিয়ন ইতালি। খেলাটি সরাসরি দেখাবে সনি টেন-১ এইচডি।

 

দুই মহাদেশের চ্যাম্পিয়নদের এই লড়াইটার কেতাবি নাম ‘দ্য ফাইনালিসিমা’। গত বছর ডিসেম্বরে সই করা সমঝোতা চুক্তি অনুসারে এই ম্যাচটি মাঠে গড়াচ্ছে। এতে ৯০ মিনিট খেলা হবে। কোনো অতিরিক্ত সময় নেই। কাজেই, নির্দিষ্ট সময় শেষে যদি সমতা থাকে তবে সরাসরি টাইব্রেকার।

 

দ্য ফাইনালিসিমায় এ নিয়ে তৃতীয়বারের মতো ইউরো ও লাতিন চ্যাম্পিয়নরা মুখোমুখি হচ্ছে। দুই মহাদেশের চ্যাম্পিয়নরা প্রথম মুখোমুখি হয় ১৯৮৫ সালে। সেবার প্যারিসে উরুগুয়েকে ২-০ গোলে হারায় ফ্রান্স। এর আট বছর পর (১৯৯৩ সালে) দ্বিতীয় ফাইনালিসিমায় মার ডেল প্লাটায় ডেনমার্ককে টাইব্রেকারে হারায় আর্জেন্টিনা।

 

এবারো ফেভারিট হিসেবে নামছে আলবিসেলেস্তেরা। টানা ৩১ ম্যাচ অপরাজেয় দলটির খেলোয়াড়রা রয়েছেন ফুরফুরে মেজাজে। তবে টানা এই অপরাজেয়কে অবিনশ্বর মানছেন না আর্জেন্টাইন কোচ স্কালোনি। নিজেদের অজেয় মনে করছে না তিনি। ম্যাচের আগে সংবাদ সম্মেলনে স্কালোনি বলেছেন, সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো, কখনোই মনে করা যাবে না যে আমরা অজেয়। লোকজন আমাদের চ্যাম্পিয়ন মনে করে এবং আমাদের অর্জন তারা উপভোগ করে, এটা ভালো। কিন্তু পথচলা থামে না, তাই আমরা নির্ভার হতেও পারি না। একজন কোচ হিসেবে আমাকে খেলোয়াড়দের সতর্ক করতে হবে।

 

গত ইউরোয় অপরাজিত চ্যাম্পিয়ন হয় ইতালি। দুই বছরেরও বেশি সময় ধরে রেকর্ড ৩৭ ম্যাচ অপরাজিত ছিল তারা। কিন্তু এরপরই আচমকা পথ হারিয়ে ফেলে দলটি। কাতার বিশ্বকাপের মূল পর্বে জায়গা করে নিতে ব্যর্থ হয় রবের্তো মানচিনির দল।

 

আবারো বিশ্ব মঞ্চে জায়গা না পাওয়া ইতালির প্রাপ্য ছিল না বলে মনে করেন স্কালোনি। তার চোখে ইতালি এখনো সেরা দল। তাই নিজেদের সেরাটা দিয়ে ট্রফি জিততে চান তিনি। আর্জেন্টিনার কোচ বলেন, সেরাদের বিপক্ষে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করা সবসময় গুরুত্বপূর্ণ। আমরা জিততে চাই, কারণ এটি একটি ট্রফির লড়াই। এই জার্সি পরে আমাদের সবসময় সেরাটা দিয়ে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে হবে। তবে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো বিশ্বকাপ বাছাইপর্বে ব্যর্থ হওয়ায় এবার কাতারে অনুষ্ঠেয় ফিফা বিশ্বকাপে দেখা যাবে না চারবারের বিশ্বজয়ী ইতালিকে। সেই দুঃখ ভুলতে ওয়েম্বলিতে জিততে মরিয়া হবে আজ্জুরিরা, যে মাঠে গত বছর তারা ইউরো চ্যাম্পিয়নশিপের শিরোপা জয় করে। এই ম্যাচটি আবার অধিনায়ক জর্জিনিও কিয়েল্লিনির জন্য বিশেষ আবেগের, এটিই তার শেষ আন্তর্জাতিক ম্যাচ।

 

কোচ রবার্তো মানচিনি এই ম্যাচে তার ইউরো ২০২০ জয়ী তারকাদের একাদশে প্রাধান্য দিতে পারেন। আবার ভবিষ্যতের কথাও তিনি ভাবতে পারেন। আলেসান্দ্রো বাসতোনি, স্যান্দ্রো তোলানি, নিকোলো জানিওলো ও জিয়ানলুকা স্কামাচ্চারা সবাই নীল জার্সিতে লড়াই করতে তৈরি।

 

মানচিনি বলেন, আমাদের বিশ্বকাপে উত্তীর্ণ হওয়া উচিত ছিল, যদিও কিছু খুটিনাটি বিষয় আমাদের পক্ষে কাজ করেনি। আমাদের দলটি তারুণ্যনির্ভর। সমর্থকরা আমাদের সঙ্গেই আছে। এক বছর আগে আমরা যোগ্যতর দল হিসেবেই ইউরো জয় করেছি। উয়েফা নেশন্স লিগে আমরা শক্ত গ্রুপে। ওয়েম্বলিতে প্রথম একাদশে খেলতে পারে জিওভানি লরেঞ্জো ও লিওনার্দো স্পিনজোলা।

 

প্রায় তিন বছর ধরে অপরাজিত আর্জেন্টিনা পূর্ণ আত্মবিশ্বাস নিয়ে ইতালির বিপক্ষে মাঠে নামবে। ২৮ বছরের খরা কাটিয়ে ২০২১ সালে কোপা আমেরিকা জয় করে আর্জেন্টিনা। বিশ্বকাপের মঞ্চে নামার আগে লাতিন চ্যাম্পিয়নরা কাল আজ্জুরিদের বিপক্ষে নিজেদের শক্তি-দুর্বলতাও পরীক্ষা করে নেয়ার সুযোগ পাবে। ইউরোপের দর্শকদের কাছে অবশ্য লিওনেল স্কালোনির দলের খেলোয়াড়রা কেউই অপরিচিত নন। একাদশে দেখা যাবে লিওনেল মেসি, পাওলো দিবালা, অ্যাঞ্জেল ডি মারিয়া ও লাউতারো মার্তিনেজের মতো তারকাকে।

 

এ পর্যন্ত আর্জেন্টিনা-ইতালি ১৫ ম্যাচে একদল অপরদলের মুখোমুখি হয়েছে। যেখানে ইতালি পাঁচ ও আর্জেন্টিনা চার ম্যাচে জয় পেয়েছে, ড্র হয়েছে ছয়টি ম্যাচে।