লর্ডস টেস্টে নিউজিল্যান্ডকে মাত্র ১৩২ রানে অলআউট করার পর ইংলিশরা নিজেরাও ব্যাটিং বিপর্যয়ের শিকার হয়ে ১৪১ রানে গুটিয়ে যায়। এরপর কিউইদের প্রতিরোধে জমে ওঠে ম্যাচ। তারা দ্বিতীয় ইনিংসে ২৮৫ রান তুলে ইংল্যান্ডকে ২৭৭ রানের টার্গেট ছুড়ে দেয়। প্রাথমিক ধাক্কা সামলে উঠে ৫ উইকেটের জয় নিয়ে মাঠ ছেড়ে তাক লাগিয়ে দিয়েছে স্বাগতিকরা। জো রুট হার না মানা সেঞ্চুরি করে ইংল্যান্ডের জয়ের নায়ক। এদিন তিনি ১০ হাজার রানের মাইলফলকেও পৌঁছেছেন।

 

২৭৭ রানের টার্গেটে নেমে শনিবার তৃতীয় দিন ৬৯ রানে চারটি উইকেট হারায় ইংল্যান্ড। সেই মুহূর্তে পঞ্চম উইকেটে অধিনায়ক বেন স্টোকসকে নিয়ে ৯০ রানের জুটি গড়ে দলের জয়ের ভিত গড়েন রুট। স্টোকস ৫৪ রান করে সাজঘরে ফিরে যান। তখন দলের সংগ্রহ ১৫৯/৫। এরপর ষষ্ঠ উইকেটে ১২০ রানের পার্টনারশিপ গড়ে দলকে জিতিয়ে মাঠ ছাড়েন রুট ও বেন ফোকস। আজ চতুর্থ দিন সকালে ১৩.৫ ওভারে কোনো উইকেট না হারিয়ে বাকি ৬১ রান তুলে নেয় ইংলিশরা।

 

গত বছর ভারতের বিপক্ষে হেডিংলিতে জয়ের পর দীর্ঘ জয়খরায় ভুগেছে ইংলিশরা। অ্যাশেজ সিরিজ ও ওয়েস্ট ইন্ডিজ সফরে ভরাডুবির কারণে নেতৃত্বও হারাতে হয় রুটকে। দলে আসে ব্যাপক রদবদল। নতুন অধিনায়ক বেন স্টোকস, আর নতুন টেস্ট কোচ হয়েছেন ব্রেন্ডন ম্যাককালাম। এই নতুন জুটির অধীনে আশঙ্কা কাটিয়ে প্রথম টেস্টেই জয়ের স্বাদ পেল ইংল্যান্ড। যদিও তাদের জয় এনে দেয়ার বড় কাণ্ডারি রুট।

 

আজ ১০৩ রান করে ইংল্যান্ডের দ্বিতীয় ও সব মিলে ১৪তম খেলোয়াড় হিসেবে টেস্টের ১০ হাজারি ক্লাবে নাম লেখান রুট। তিনি ৩১ বছর ১৫৭ দিন বয়সে এই মাইলফলকে পৌঁছলেন। কাকতালীয়ভাবে, অ্যালিস্টার কুকও ৩১ বছর ১৫৭ দিন বয়সে ১০ হাজার পূর্ণ করেন। তারা দুজনেই সবচেয়ে কম বয়সে ১০ হাজার টেস্ট রান করলেন।

 

এ দুজন ছাড়া শচীন টেন্ডুলকার, রিকি পন্টিং, জ্যাক ক্যালিস, রাহুল দ্রাবিড়, কুমার সাঙ্গাকারা, ব্রায়ান লারা, শিবনারায়ণ চন্দরপল, মাহেলা জয়াবর্ধনে, অ্যালান বর্ডার, স্টিভ ওয়াহ, সুনীল গাভাস্কার ও ইউনুস খান টেস্টে ১০ হাজার রান করার কৃতিত্ব দেখিয়েছেন। 

রুটকে নিয়ে অধিনায়ক স্টোকসের মূল্যায়ন, সেঞ্চুরি  ও দশ হাজার রান—কী অর্জন, কী খেলোয়াড়! কিউই দলনায়ক কেন উইলিয়ামসনও বললেন, অবিশ্বাস্য অর্জন।

  

রুটের প্রশংসা করে কুক বলেছেন, তার ইনিংসটি দেখে আমি আনন্দিত—অবিশ্বাস্য এক খেলোয়াড়ের অবিশ্বাস্য নক। সে সব ফরম্যাট মিলে ইংল্যান্ডের সবচেয়ে পরিপূর্ণ খেলোয়াড়।

 

গত বছর ইংল্যান্ড খারাপ করলেও রুট করেন ১ হাজার ৭০৮ রান, যা ইতিহাসের তৃতীয় সেরা। তার সেঞ্চুরি ২৬টি, যা দেশের হয়ে দ্বিতীয় সেরা। ইংল্যান্ডে সর্বোচ্চ ৩৩টি সেঞ্চুরি করেছেন কুক।

 

সংক্ষিপ্ত স্কোর

নিউজিল্যান্ড: ১৩২ ও ২৮৫। ইংল্যান্ড: ১৪১ ও ২৭৯/৫ (রুট ১১৫*, স্টোকস ৫৪, ফোকস ৩২*; জেমিসন ৪/৭৯, বোল্ট ১/৭৩)।