বিশ্বকাপের তৃতীয় স্থান নির্ধারণী ম্যাচ প্রায় প্রতিটি আসরেরই একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ। এ ম্যাচে করা গোল খেলোয়াড়দের ব্যক্তিগত গোলসংখ্যার সঙ্গে যোগ হয়। ফলে ২০২৬ বিশ্বকাপেও গোল্ডেন বুটের দৌড় শেষ পর্যন্ত গড়াতে পারে তৃতীয় স্থান নির্ধারণী ম্যাচ পর্যন্ত।
আগামীকাল শনিবার তৃতীয় স্থান নির্ধারণী ম্যাচে মুখোমুখি হবে ইংল্যান্ড ও ফ্রান্স। একদিন পর ফাইনালে খেলবে স্পেন ও আর্জেন্টিনা। সেমিফাইনাল থেকে বিদায় নিলেও ইংল্যান্ডের হ্যারি কেইন ও জুড বেলিংহ্যাম এবং ফ্রান্সের কিলিয়ান এমবাপ্পে ও উসমান দেম্বেলের সামনে এখনও গোল্ডেন বুট জয়ের সুযোগ রয়েছে।
ফুটবল বিশ্বকাপের এ আসরের শেষ দুই ম্যাচের আগে গোলদাতার তালিকায় যৌথভাবে শীর্ষে রয়েছেন আর্জেন্টিনার লিওনেল মেসি ও ফ্রান্সের এমবাপ্পে। দুজনেরই গোল আটটি করে। তবে একটি বেশি অ্যাসিস্ট থাকায় আপাতত গোল্ডেন বুটের দৌড়ে এগিয়ে আছেন মেসি। নরওয়ের আর্লিং হলান্ড সাত গোল নিয়ে পরের স্থানে থাকলেও কোয়ার্টার ফাইনালে বিদায় নিয়ে এ বিশ্বকাপে তার শেষ হয়ে গেছে। ইংল্যান্ডের কেইন ও বেলিংহ্যামের গোল ছয়টি করে। অন্যদিকে ফ্রান্সের দেম্বেলে এবং স্পেনের মিকেল ওইয়ারসাবালের গোল পাঁচটি করে।
বিশ্বকাপের তৃতীয় স্থান নির্ধারণী ম্যাচ ১৯৩৪ সালে প্রথম চালু হয়। এরপর শুধু ১৯৪২ ও ১৯৪৬ সালে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের কারণে বিশ্বকাপ অনুষ্ঠিত না হওয়ায় এবং ১৯৫০ সালে শেষ পর্ব রাউন্ড-রবিন পদ্ধতিতে হওয়ায় এ ম্যাচ আয়োজন করা হয়নি। ১৯৫৪ সাল থেকে প্রতিটি বিশ্বকাপেই তৃতীয় স্থান নির্ধারণী ম্যাচ অনুষ্ঠিত হয়ে আসছে।
সেমিফাইনালে হেরে বিদায় নেয়ার হতাশা নিয়ে আবার মাঠে নামতে হওয়ায় এ ম্যাচ অনেক ফুটবলারের কাছেই অনাকাঙ্ক্ষিত। ইংল্যান্ডের কোচ টমাস টুখেলও বলেছেন, ‘এ ম্যাচে কেউই খেলতে চায় না।’ তবে গোল্ডেন বুটের লড়াইয়ে থাকা ফুটবলারদের জন্য ম্যাচটি বাড়তি গুরুত্ব বহন করে।
ইতিহাসও বলছে, তৃতীয় স্থান নির্ধারণী ম্যাচ অনেক সময় গোল্ডেন বুট নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে। বিশ্বকাপের ইতিহাসে সাতজন গোল্ডেন বুটজয়ী এ ম্যাচে গোল করেছেন। তাদের মধ্যে ২০১০ সালে জার্মানির থমাস মুলার, ১৯৯৮ সালে ক্রোয়েশিয়ার দাভোর শুকার, ১৯৯০ সালে ইতালির সালভাতোরে স্কিলাচি এবং ১৯৩৮ সালে ব্রাজিলের লিওনিদাস তৃতীয় স্থান নির্ধারণী ম্যাচে করা গোলের সুবাদেই শেষ পর্যন্ত গোল্ডেন বুট জয় নিশ্চিত করেন।
এ ছাড়া ১৯৭৪ সালে পোল্যান্ডের গ্রেগোর্জ লাতো, ১৯৬৬ সালে পর্তুগালের ইউসেবিও এবং ১৯৫৮ সালে ফ্রান্সের জাস্ট ফন্টেইনও তৃতীয় স্থান নির্ধারণী ম্যাচে গোল করেছিলেন। যদিও ওই ম্যাচে গোল না করলেও তাদের গোল্ডেন বুট জয়ে কোনো প্রভাব পড়ত না।
২০১৮ বিশ্বকাপে তৃতীয় স্থান নির্ধারণী ম্যাচে বেলজিয়ামের বিপক্ষে ইংল্যান্ডের তৎকালীন কোচ গ্যারেথ সাউথগেট সেমিফাইনালের একাদশে পাঁচটি পরিবর্তন এনেছিলেন। সেই ম্যাচে গোল্ডেন বুটজয়ী হ্যারি কেইন খেললেও গোল করতে পারেননি। এবারও ইংল্যান্ড ও ফ্রান্স কতটা শক্তিশালী দল নিয়ে মাঠে নামে, তার ওপর নির্ভর করতে পারে ২০২৬ বিশ্বকাপের গোল্ডেন বুটের শেষ হিসাব।









