কাগজে-কলমে আয়োজক শ্রীলংকা হলেও এবারের এশিয়া কাপ আসর বসেছে সংযুক্ত আরব আমিরাতে। মধ্যপ্রাচ্যের দেশটিতে এ নিয়ে চতুর্থবারের মতো অনুষ্ঠিত হচ্ছে এশিয়া কাপ। আগের তিন আসরের মধ্যে দুবারই রানার্সআপ হয়েছিল শ্রীলংকা। এ নিয়ে তৃতীয়বার মরুর দেশে শিরোপা লড়াইয়ে নামছে লংকানরা, পাকিস্তান নামছে প্রথমবার। দুবাই আন্তর্জাতিক ক্রিকেট স্টেডিয়ামে আজ রাত ৮টায় এশিয়া কাপ টি২০-এর ফাইনালে মুখোমুখি হচ্ছে বাবর আজম ও দাসুন শানাকা বাহিনী। এটা শ্রীলংকার ষষ্ঠ আর পাকিস্তানের তৃতীয় শিরোপা জয়ের মিশন।
ইতিহাস বলছে, চ্যাম্পিয়ন হওয়ার দৌড়ে আমিরাতের মাটি কখনই ঘাঁটি ছিল না সিংহলিজদের জন্য। ১৯৮৪ সালে আরব আমিরাতে এশিয়া কাপের প্রথম আসর অনুষ্ঠিত হয়। খেলেছিল শুধু ভারত, শ্রীলংকা ও পাকিস্তান। লিগ পদ্ধতির খেলায় সুনীল গাভাস্কারের ভারত চ্যাম্পিয়ন হয় (৮ পয়েন্ট)। রানার্সআপ হয়েছিল দুলিপ মেন্ডিসের শ্রীলংকা (৪ পয়েন্ট)।
১৯৯৫ সালে আমিরাতের মাঠে ফাইনালে মুখোমুখি হয়েছিল ভারত-শ্রীলংকা। এবার অর্জুনা রানাতুঙ্গার দলকে ৮ উইকেটে উড়িয়ে দিয়েছিল আজহারউদ্দিনের ভারত। এশিয়া কাপের সর্বশেষ আসরও অনুষ্ঠিত হয়েছিল মরুর দেশটিতে। ২০১৮ সালের ফাইনালে বাংলাদেশকে ৩ উইকেটে হারায় ভারত। অর্থাৎ, আমিরাতের তিন আসরেই চ্যাম্পিয়ন হয়েছিল টিম ইন্ডিয়া, যারা এবার ফাইনালের আগেই বিদায় নিয়েছে।
সংযুক্ত আরব আমিরাতের মাঠকে পাকিস্তানের ‘দ্বিতীয় বাড়ি’ বলা হয়। মজার বিষয় হলো, এর আগে দেশটি কখনই সেখানে ফাইনালে পৌঁছতে পারেনি। শিরোপার ম্যাচে তারা এবারই প্রথম। দুবারের চ্যাম্পিয়ন পাকিস্তান প্রথম শিরোপা জয় করে ২০০০ সালে। ঢাকায় সেবার ফাইনালে মঈন খানের নেতৃত্বে সনাৎ জয়সুরিয়ার শ্রীলংকাকে ৩৯ রানে হারায় পাকিস্তান। এশিয়া কাপে আজ দ্বিতীয়বারের মতো ফাইনালে মুখোমুখি হচ্ছে পাকিস্তান-শ্রীলংকা।
২০১২ সালে শেরেবাংলা স্টেডিয়ামে স্বাগতিক বাংলাদেশকে ২ রানে হারিয়ে দ্বিতীয় শিরোপা জিতেছিল পাকিস্তান। তারা সব মিলিয়ে এশিয়া কাপের ফাইনালে খেলেছে চারবার।
এশিয়া কাপে শ্রীলংকার রেকর্ড উজ্জ্বল। ১৪ আসরের মধ্যে ১১ বারই ফাইনাল খেলেছে তারা। পাঁচবার চ্যাম্পিয়ন ও ছয়বার রানার্সআপ হয় সিংহলিজরা। শানাকাদের সাম্প্রতিক ফর্মও দুর্দান্ত। খাদের কিনারা থেকে উঠে আসা দলটি এখন অন্যদের জন্য আতঙ্কে পরিণত হয়েছে। শুক্রবার সুপার ফোরের শেষ ম্যাচে পাকিস্তানকে ৫ উইকেটে হারিয়ে ফাইনালের মহড়া দারুণভাবে সেরে নিয়েছে তারা। যদিও টি২০-তে ২২ ম্যাচের মুখোমুখিতে এগিয়ে আছে পাকিস্তান। ১৩ ম্যাচে পাকিস্তান ও নয়টিতে শ্রীলংকা জিতেছে।
সংক্ষিপ্ত ফরম্যাটের ক্রিকেটে যেকোনো কিছুই ঘটতে পারে। দুটি দলই একে অন্যকে হারিয়ে দেয়ার ক্ষমতা রাখে। শাদাব খান, নাসিম শাহ, হারিস রউফ ও মোহাম্মদ নওয়াজকে নিয়ে আসরের সেরা বোলিং আক্রমণ পাকিস্তানের। এ পর্যন্ত ১১ উইকেট নিয়ে আসরের সর্বোচ্চ শিকারি বোলার ভারতের ভুবনেশ্বর কুমার। এর পরই পাঁচ ম্যাচে ৬.০৫ ইকোনমি রেটে ৮ উইকেট নিয়ে নওয়াজ রয়েছেন দুইয়ে। ৫.৭৯ ইকোনমিতে চার ম্যাচে ৭ উইকেট নিয়ে তিনে শাদাব খান। এছাড়া নাসিম শাহ চার ম্যাচে ৬ উইকেট নিয়ে আছেন পাঁচে। হারিস রউফ নিয়েছেন ৫ উইকেট।
বোলিংয়ের সেরা পাঁচে নেই শ্রীলংকার কেউই। দিলশান মাদুশঙ্কা ও ধনাঞ্জয়া ডি সিলভা ৬টি করে উইকেট নিয়ে যথাক্রমে ছয় ও আট নম্বরে আছেন।
অবশ্য ব্যাট হাতে পাকিস্তানিদের চেয়ে এগিয়ে লংকানরা। ২৭৬ রান করে ভারতের বিরাট কোহলি আছেন শীর্ষে। ৫৬.৫০ গড়ে ২২৬ রান করে দ্বিতীয় পাকিস্তানের মোহাম্মদ রিজওয়ান। এছাড়া সেরা দশে কোনো পাকিস্তানি নেই। শ্রীলংকার চার ব্যাটার আছেন সেরা এগারোতে।
গ্রুপ পর্বে আফগানদের কাছে হেরে আসর শুরু করে শ্রীলংকা। দলটি এখন অপ্রতিরোধ্য। ভারত, পাকিস্তান, বাংলাদেশ ও আফগানিস্তানকে হারিয়ে উঠে যায় ফাইনালে। পাকিস্তান গ্রুপ পর্বে ভারতের কাছে হারলেও সুপার ফোরে তাদের এবং আফগানদের হারিয়ে ফাইনালে ওঠে।










