কাতার বিশ্বকাপ ফুটবলের ক্ষণ গণনা শুরু হয়ে গিয়েছে। শুরু হতে বাকি ৯১ দিন। বিশ্বকাপের ২২তম আসর আয়োজনের জন্য ভেন্যু, সড়ক পথ, থাকার হোটেল ও পর্যটন এলাকা সবই প্রস্তুত করেছে মরুর দেশটি। অপেক্ষা শুধু মাঠে খেলা গড়ানোর। বিশ্বকাপ ম্যাচে যেন কোনো ত্রুটি না থাকে সেটি নিশ্চিত করতে সর্বোচ্চ প্রস্তুতি নিচ্ছে ফিফা।

 

এ লক্ষ্যে ম্যাচ অফিশিয়ালদের প্রশিক্ষণ ও পরীক্ষা-নিরীক্ষা শুরু করেছে বিশ্ব ফুটবলের নিয়ন্ত্রক সংস্থা। গত মে-জুনে ফিফার রেফারিং ডিরেক্টর মাসিমো বুসাক্কা ও রেফারি কমিটির চেয়ারম্যান পিয়েরলুইগি কোলিনা কনফেডারেশনগুলোর রেফারিদের নিয়ে তিনটি সেমিনার করেন। প্যারাগুয়েতে লাতিন ও উত্তর আমেরিকা অঞ্চলের (কনকাকাফ-কনমেবল), কাতারের দোহায় এশিয়া, আফ্রিকা ও ওশেনিয়া এবং স্পেনের রাজধানী মাদ্রিদে ইউরোপের (উয়েফা) রেফারিদের নিয়ে আলাদা আলাদা তিন দিনের সেমিনার হয়।

 

এ সময় ম্যাচ অফিশিয়ালদের প্রতিদিন তাত্ত্বিক ক্লাস ও মাঠের প্রশিক্ষণ সেশনের ব্যবস্থা ছিল। এছাড়া তাদের ম্যাচ চলাকালীন পরিস্থিতি অনুকরণ এবং অনুশীলন করার অনুমতি দেয়।

 

রেফারি কমিটির চেয়ারম্যান ও সাবেক বিশ্বকাপ রেফারি পিয়েরলুইগি কোলিনা বলেন, আমাদের উদ্দেশ্য হলো প্রযুক্তির ব্যবহার এড়াতে রেফারিকে যতটা সম্ভব সর্বোত্তমভাবে প্রস্তুত করা। প্রযুক্তি রয়েছে যাতে রেফারিদের ভুল হওয়ার সম্ভাবনা কমায়। এটা ম্যাচের ফলাফলকে প্রভাবিত করতে পারে। এমনকি সেরা রেফারিও ভুল করতে পারেন। তিনি একজন মানুষ এবং আমরা তা জানি। এজন্যই প্রযুক্তি।

 

বিশ্বকাপে রেফারিং করা একটি পেশাদার স্বপ্নের চূড়ান্ত উপলব্ধি। নেদারল্যান্ডসের ড্যানি ম্যাকেলি যে স্বপ্ন দেখেছেন শৈশব থেকেই। এবার তিনি স্বপ্ন পূরণের পথে। তিনি বলছেন, যখন আমি আমন্ত্রণ পেয়েছিলাম এবং নিশ্চিত হয়েছিলাম যে নির্বাচিত হয়েছি, তখন এটি একটি অবিশ্বাস্য অনুভূতি ছিল। ১২ বছর বয়সে আমি রেফারি হিসেবে কাজ শুরু করি। লক্ষ্য ছিল শীর্ষে পৌঁছানো এবং আমি বিশ্বকাপের স্বপ্ন দেখছিলাম।

 

বিশ্বকাপ সামনে রেখে ১২৯ জন ম্যাচ অফিশিয়ালের নাম ঘোষণা করেছে ফিফা। যাদের মধ্যে ৩৬ জন রেফারি, ৬৯ জন অ্যাসিসট্যান্ট রেফারি এবং ২৪ জন ভিডিও রেফারি। প্রথমবারের মতো বিশ্বকাপে দেখা যাবে নারী রেফারি। এই আসরে ছয়জন নারী রেফারি থাকবেন। যাদের মধ্যে তিনজন করে রেফারি ও অ্যাসিসট্যান্ট রেফারি রয়েছেন। ফিফা ডটকম