অভাবনীয়, অতিমানবীয় চেজ। মাত্র ৫০ ওভারে ২৯৯ রান তুলে নটিংহ্যামের ট্রেন্ট ব্রিজে সিরিজের দ্বিতীয় টেস্টে ৫ উইকেটের অবিশ্বাস্য জয় তুলে নিল ইংল্যান্ড। এই জয়ে সবচেয়ে বড় অবদান রাখলেন হার্ডহিটার জনি বেয়ারস্টো। মাত্র ৭৭ বলে সেঞ্চুরি করেছেন তিনি, যা ইংল্যান্ডের ইতিহাসে দ্বিতীয় দ্রুততম টেস্ট সেঞ্চুরি। আর একটি বল কম খেললেই তিনি ছুঁয়ে ফেলতেন ১২০ বছরের পুরনো রেকর্ড।
অথচ ২৯৯ রান তাড়া করতে নেমে মধ্যাহ্ন ভোজের বিরিতর পর ৯৩ রানের মধ্যে
অ্যালেক্স লিস,
ওলি পোপ, জো রুটের বিদায়ে ইংল্যান্ডের স্কোর
দাঁড়ায় ৯৩/৪। এরপর পঞ্চম উইকেটে বেয়ারস্টো ও বেন স্টোকসের ১২১ বলে ১৭৯ রানের
মহাকাব্যিক জুটি। এই জুটিতে বেয়ারস্টোর অবদান ১২৯ বলে ১০৯ রান, আর স্টোকসের ১২০ বলে ৭২ রান।
বেয়ারস্টো মাত্র ৯২ বলে ১৪টি চার ও সাতটি ছক্কায় ১৩৬ রান করেন। দলীয় ২৭২ রানের সময়
ট্রেন্ট বোল্টের শিকার হয়ে বেয়ারস্টো সাজঘরের পথ ধরলেও ততক্ষণে জয়ের কাছাকাছি
পৌঁছে যায় স্বাগতিকরা। বাকি রানগুলো বেন ফোকসকে নিয়ে তুলে নেন স্টোকস। ফোকস ১২ ও
স্টোকস ৭৫ রানে অপরাজিত থেকে দলের জয় নিশ্চিত করে তবেই মাঠ ছাড়েন।
নিউজিল্যান্ড দ্বিতীয় ইনিংসে ২৮৪ রানে অলআউট হওয়ার পর ৭২ ওভারে ২৯৯
রানের টার্গেটের সামনে পড়ে ইংল্যান্ড। কঠিন এই চ্যালেঞ্জে শোচনীয়ভাবে প্রতিপক্ষকে
হারাল ইংলিশরা।
গতকাল সোমবার চতুর্থ দিন শেষ বিকেলে ৩৭ রানের মধ্যে নিউজিল্যান্ডের ৩
উইকেট তুলে নিয়ে জয়ের আশা জাগায় ইংল্যান্ড। দিনশেষে নিউজিল্যান্ডের সংগ্রহ ছিল
২২৪/৭। অতিথি দলের লিড ছিল তখন ২৩৮ রানের। ইন-ফর্ম ড্যারিল মিচেল ৩২ রানে অপরাজিত ছিলেন। বাকি তিন উইকেট হারিয়ে
কিউইরা বোর্ডে আরো ৬০ রান যোগ করতে সমর্থ হয়। মিচেলকে কেউই আউটই করতে পারেনি।
প্রথম ইনিংসে ১৯০ রান করা এই ব্যাটার এবার ৬২ রানে অপরাজিত থাকেন।
এর আগে সোমবার সকালে ঝড়ো সূচনা করলেও শেষ পর্যন্ত ২৩ রানের মধ্যে শেষ ৫
উইকেট হারিয়ে ৫৩৯ রানে অলআউট হয় ইল্যান্ড। জো রুট ১৭৬ রানের রাজসিক ইনিংস খেলেন।
ওলি পোপ করেন ১৪৫ রান। ট্রেন্ট বোল্ট নেন ৫ উইকেট। তাতে ১৪ রানের লিড পায়
নিউজিল্যান্ড।
এরপর ৪ রানের মাথায় টম ল্যাথাম আউট হয়ে গেলেও শত রানের জুটি গড়েন ডেভন
কনওয়ে ও উইল ইয়াং। অবশ্য দুজনই হাফসেঞ্চুরির পরপরই আউট হয়ে গেলে চাপে পড়ে কিউইরা।
ইয়াং ৫৬ ও কনওয়ে ৫২ রান করেন। প্রথম ইনিংসে ১৯০ রানের দুরন্ত ইনিংস খেলা ড্যারিল
মিচেল দ্বিতীয় ইনিংসেও দলের কাণ্ডারি হয়ে ওঠেন। টম ব্লান্ডেল (২৪) ও মাইকেল ব্রেসওয়েলের (২৫) সঙ্গে যথাক্রমে ৪৫ ও ২৮ রানের
দুটি জুটি গড়ে তিনি দলের সংগ্রহটা দুশ পার করেন। শেষ দিকে ম্যাট হেনরির সঙ্গে ৩২ ও
ট্রেন্ট বোল্টের সঙ্গে ৩৫ রানের জুটি জুটি গড়েন।
সংক্ষিপ্ত স্কোর
নিউজিল্যান্ড:
৫৫৩ ও ২৮৪।
ইংল্যান্ড:
৫৩৯ ও ২৯৯/৫
(বেয়ারস্টো ১৩৬,
স্টোকস ৭৫*; বোল্ট ৩/৯৪)। ফল: ইংল্যান্ড ৫ উইকেটে জয়ী। সিরিজ: তিন টেস্টের সিরিজে ইংল্যান্ড ২-০তে
এগিয়ে।










