সাইত্রিশ পেরিয়ে ছুটছেন আটত্রিশের দিকে। ক্রিস্টিয়ানো রোনালদোর কদরও তাই কমছে দিনদিন। তাকে পাওয়ার জন্য মরিয়া হতো বিশ্বের যে শীর্ষ ক্লাবগুলো, এখন তারাই ‘বুড়ো’ বলে তার প্রতি আগ্রহ হারায়। তাই চলে যেতে চেয়েও অনেকটা বাধ্য হয়েই এখন থাকছেন ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডে। কিন্তু সেখানেও আগের সেই সমাদর নেই। দলবদল ইস্যুতে তার মনের অবস্থা ভালো নেই, যা বাকিদের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে বলেই ধারণা ক্লাব কর্তাদের। তাই রোনালদোকে চলতি দলবদলেই চলে যেতে দেবে ইংলিশ ক্লাবটি।

 

কোচ এরিক টেন হাগ অবশ্য প্রকাশেই বলেছেন, ৩৭ বছর বয়সী রোনালদোকে বিক্রি করা হবে না এবং খেলোয়াড়টি তার পরিকল্পনাতেই রয়েছেন।

 

যদিও দলের উর্ধ্বতন কর্মকর্তারা আবিষ্কার করেছেন, থাইল্যান্ড ও অস্ট্রেলিয়ায় সফল প্রাক-মৌসুম সফরে দলের মধ্যে যতটা প্রাণশক্তি আর আনন্দঘন পরিবেশ ছিল এখন হঠাত্ করেই তা উধাও।

 

ম্যানইউর সঙ্গে পর্তুগিজ সুপারস্টারের চুক্তি এখনো এক বছর বাকি। ১২ মাস আগে জুভেন্টাস থেকে সাবেক ক্লাব ম্যানইউতে নাম লেখান পাঁচবারের ব্যালন ডি’অরজয়ী রোনালদো। এর আগে ২০০৯ সালে ম্যানইউ থেকে রিয়াল মাদ্রিদে যোগ দেন তিনি। ৯ বছর মাদ্রিদে খেলে ২০১৮ সালে পাড়ি জমানে তুরিনে। সেখান থেকে গন্তব্য ম্যানইউ।

 

গত মৌসুমে প্রিমিয়ার লিগে খারাপ করায় এবার চ্যাম্পিয়ন্স লিগে জায়গা পায়নি ম্যানইউ। এই হতাশা থেকে চলে যাওয়ার ইচ্ছা পোষণ করেন রোনালদো। যদিও একাধিক শীর্ষ ক্লাব তার বয়স বিবেচনায় আগ্রহ দেখায়নি। আশা ছাড়েননি তিনি। সঙ্গে যোগ হয়েছে ম্যানইউর পারফরম্যান্স। ব্রাইটন ও ব্রেন্টফোর্ডের কাছে টানা হার ম্যানইউকে মারাত্মক এক ঝাঁকুনি দিয়েছে, যার খানিকটা দায় রোনালদোর কাঁধেও চাপাতে চাইছেন কেউ কেউ।

 

বলা হচ্ছে, ক্লাবে পর্তুগিজ খেলোয়াড়ের উপস্থিতি এখন নেতিবাচক আবহ তৈরি করছেন। যেমন, ক্যান্টিনে তিনি খুব কম সতীর্থের সঙ্গে কথা বলেন।

 

ক্লাবের উর্ধ্বতন এক সূত্র বিবিসিকে বলেছেন, রোনালদো চলে না যাওয়া পর্যন্ত ম্যানইউর বর্তমান অবস্থা পাল্টাবে না। ধারণা করা হয়, রোনালদো চলে গেলে এবং তার জায়গায় কাউকে নেয়া হলে দলের পারফরম্যান্সে উন্নতি আসবে।

 

কোচ টেন হাগ, প্রধান নির্বাহী রিচার্ড আর্নল্ড ও ফুটবল পরিচালক জন মুরটাগ ১ সেপ্টেম্বরের আগেই এই বিষয়টির সমাধান করতে চান। ১ সেপ্টেম্বর শেষ হবে গ্রীষ্মকালীন দলবদল।

 

ম্যানইউর সাবেক ডিফেন্ডার গ্যারি নেভিল বলেন, রোনালদোকে নিয়ে বড় এক সিদ্ধান্তে পৌঁছতে হবে ম্যানইউকে। সে অবশ্যই এখানে সুখী নয়। কিন্তু সমস্যা হলো, সে চলে গেলে শূন্য জায়গায় কাউকে নেয়া হলে গোল করার মতো কাউকে আমি দেখি না এবং আাামার ধারণা, মৌসুম শেষে তারা টেবিলের নিচের অর্ধেকেই থাকতে পারে।

 

গত মৌসুমে ম্যানইউর সর্বোচ্চ স্কোরার ছিলেন রোনালদো, আর লিগে হন তৃতীয়। যদিও তার দলটি লিগে ষষ্ঠ হয়ে এবার চ্যাম্পিয়ন্স লিগে খেলার সুযোগ হারায়। রেড ডেভিলদের এবার খেলতে হবে ইউরোপা লিগে। কিন্তু রোনালদো তার ক্যারিয়ারে কখনই ইউরোপা লিগে খেলেননি। এটা তাই তিনি মানতে পারছেন না।

 

কিন্তু কোথায় যাবেন রোনালদো? চেলসি গত মাসে তার ব্যাপারে আগ্রহের সমাপ্তি টেনেছে। কথা উঠেছিল বায়ার্ন মিউনিখ আর অ্যাতলেটিকো মাদ্রিদকে নিয়েও। যদিও ওই দুটি ক্লাবও তাকে নিচ্ছে না। অ্যাতলেটিকোর সমর্থকরাই বলে দিয়েছে, রোনালদোর ব্যাপারে যেন আলোচনাতেই না যায় ক্লাবটি। আর বায়ার্নের সিইও অলিভার কান বলে দিয়েছেন, তাদের দর্শনের সঙ্গে রোনালদো মানানসই নন।   

জয়হীন ম্যানইউ এ মুহূর্তে প্রিমিয়ার লিগে পয়েন্ট টেবিলের তলানিতে অবস্থান করছে। তারা ২২ আগস্ট মুখোমুখি হবে লিভারপুলের, যারা রোববার রাতে ঘরের মাঠে ক্রিস্টাল প্যালেসের সঙ্গে ১-১ গোলে ড্র করে।