২০২১ সালে বাংলাদেশ সফরে এসে ৪-১ ব্যবধানে টি-টোয়েন্টি সিরিজ হেরে লজ্জার মুখোমুখি হয়েছিল অস্ট্রেলিয়া। পাঁচ বছর পর সেই হারের প্রতিশোধ নিল অজিরা। গতকাল সাগরিকায় পেসম্যান স্পেন্সার জনসন ভয়ংকর বোলিংয়ে চার ওভারে মাত্র ছয় রান খরচ করেছেন, এরপর ব্যাটে টর্নেডো বইয়ে দেন মিচেল মার্শ। দুজনের দাপটে বাংলাদেশকে সাত উইকেটের বড় ব্যবধানে হারিয়ে দেয় অজিরা।

ছেলেদের টি-টোয়েন্টিতে অস্ট্রেলিয়ার হয়ে চার ওভারের স্পেলে সবচেয়ে মিতব্যয়ী বোলিংয়ে রেকর্ড গড়েছেন স্পেন্সার। এছাড়া নাথান এলিস ২১ রানে ও অ্যাডাম জাম্পা ২২ রানে দুটি করে উইকেট নেন। নিখিল চৌধুরী এক উইকেট নেন ২৭ রানে। সফরকারী দলের অনবদ্য বোলিং নৈপুণ্যে বাংলাদেশ ২০ ওভার টিকে থেকে ৮ উইকেটে মাত্র ১০৯ রান তুলতে সমর্থ হয়। ১১ রানে তিন উইকেট ও ৩৬ রানে ৫ উইকেট পতনের পর অধিনায়ক তাওহীদ হৃদয় অন্যদের নিয়ে লড়াই করে যান। ৫১ বলে তিন বাউন্ডারি ও তিন ছক্কায় ৬১ রানে অপরাজিত থাকেন তিনি। স্বাগতিকদের পক্ষে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ ১৬ রান করেন রিশাদ হোসেন।

ছোট টার্গেট চেজ করতে নেমে বাংলাদেশের বোলিং অ্যাটাককে ছিন্নভিন্ন করেন অজি ওপেনার মিচেল মার্শ। তিনি সাত বাউন্ডারি ও চার ছক্কায় ৬০ রান করেন। এছাড়া জস ইংলিস ১৬ বলে ১৭, কুপার কনোলি ১৩ বলে ১৫ ও টিম ডেভিড ৩ বলে ১২ রান করেন। নাহিদ রানা এক ওভারে ২০, তাসকিন আহমেদ দুই ওভারে ২৭ ও শরিফুল ইসলাম দুই ওভারে ২৬ রান দেন।

৫১ বলে ৬১ রান করেও বাংলাদেশকে বড় সংগ্রহ এন দিতে পারেননি তাওহীদ হৃদয়। ১০৯ রানের পুঁজি নিয়ে অস্ট্রেলিয়ার মতো দলকে আটকানো কঠিন। কোথায় ভুল ছিল? ম্যাচ শেষে এমন প্রশ্নের মুখে বাংলাদেশ দলের ভারপ্রাপ্ত অধিনায়ক তাওহীদ হৃদয় বলেন, ‘শুরুর দিকেই আমরা কয়েকটি উইকেট হারাই। আপনি যদি উইকেট হারান তবে রান তোলা কঠিন হয়ে পড়ে। আমি নিজের সেরা চেষ্টাটা করেছি এবং পরিকল্পনা বাস্তবায়নের চেষ্টা করেছি। তেমন কঠিন ছিল না, উইকেট ভালোই ছিল। আসলে আমরা ভালো খেলিনি। আমাদের পার্টনারশিপের প্রয়োজন ছিল। পার্টনারশিপ পেলেই আমরা ১৭০-১৮০ রান পেতাম।’

বাংলাদেশকে হোয়াইটওয়াশ করে আনন্দিত অস্ট্রেলিয়ার দলনায়ক মিচেল মার্শ বলেন, ‘সিরিজটা ৩-০ করতে পারাটা দারুণ ব্যাপার। এ ছেলেগুলোকে নিয়ে আমি গর্বিত, তারা সর্বোচ্চ চেষ্টা করেছে। মাঠে পরিকল্পনাগুলো আমরা কাজে লাগাতে পেরেছি।’

২৮ বলে ৬০ রান করে ম্যাচসেরা হয়েছেন মার্শ। এ নিয়ে তিনি বলেন, ‘জানি না আমি কীভাবে ম্যাচসেরা হয়েছি। স্পেন্সার জনসন তো চার ওভারে মাত্র ছয় রান দিয়ে ২ উইকেট নিয়েছে।’ এরপর বোলিং নিয়ে তিনি বলেন, ‘মনে হয় আজ আমরা বল হাতে দুর্দান্ত ছিলাম। কিছু ছেলে নতুন এসেছে, কেউবা লম্বা সময় পরে দলে ফিরে এসে অবদান রাখছে। দলটি এখন দারুণ ব্যালান্সড।’

১১৩ রান করার পাশাপাশি ৩ উইকেট নিয়ে সিরিজসেরা খেলোয়াড়ের পুরস্কার জয় করা ম্যাট রেনশ অনুভূতি প্রকাশ করে বলেন, ‘সত্যিই বেশ ভালো লাগছে। ৩-০তে জিততে পেরে ও দলের জয়ে অবদান রাখতে পেরে আমি অনেক খুশি। আমরা ভালো সূচনা করেছি, পাওয়ার প্লেতে ছেলেরা ভালো করেছে এবং চেজটা দারুণ হয়েছে। এর আগে নিয়মিত উইকেট নিয়ে তাদের চাপে রেখেছি।’

বাংলাদেশের মাঠে খেলা নিয়ে তিনি বলেন, ‘সর্বশেষ ২০১৭ সালে এখানে খেলেছি আমি, সেবার ১-১ হয়েছিল (টেস্ট সিরিজ), এবারো ১-১ হলো (দুই ফরম্যাট মিলিয়ে)। এখানে খেলতে ভালোই লেগেছে। আশা করি, কয়েক মাসের মধ্যে দারুণ একটি টেস্ট সিরিজ হবে।’

সংক্ষিপ্ত স্কোর: বাংলাদেশ: ২০ ওভারে ১০৯/৮। অস্ট্রেলিয়া: ১১ ওভারে ১১২/৩। ফল: অস্ট্রেলিয়া ৭ উইকেটে জয়ী। সিরিজ: অস্ট্রেলিয়া ৩-০তে জয়ী। প্লেয়ার অব দ্য ম্যাচ: মিচেল মার্শ। প্লেয়ার অব দ্য সিরিজ: ম্যাট রেনশ।