নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে টানা তিন টেস্টে যথাক্রমে ২৭৭, ২৯৯ ও ২৯৬ রান তাড়া করে জেতার পর এজবাস্টন টেস্টে ভারতের বিপক্ষে মাঠে নামে ইংল্যান্ড। অবিশ্বাস্য ফর্ম ধরে রেখে এই টেস্টেও জিতল ইংলিশরা, তা-ও ৩৭৮ রান তাড়া করে। এটা ইংল্যান্ডের সর্বোচ্চ আর টেস্ট ইতিহাসে নবম সর্বোচ্চ রান তাড়া করে জয়ের রেকর্ড।

 

জো রুট ও জনি বেয়ারস্টোর সেঞ্চুরিতে আরেকটি অভাবনীয় জয় তুলে নিল ইংল্যান্ড। চতুর্থ দিন শেষে স্বাগতিকদের সংগ্রহ ছিল ২৫৯/৩; আজ পঞ্চম ও শেষ দিন জিততে আর ১১৯ রান প্রয়োজন ছিল। তারা দেড় ঘন্টার মধ্যেই রানগুলো তুলে নেয়। জনি বেয়ারস্টো অপরাজিত থাকেন ১১৪ রানে, এটা ম্যাচে তার দ্বিতীয় সেঞ্চুরি; আর জো রুট অপরাজিত থাকেন ১৪২ রানে। দুজনের ২৬৯ রানের পার্টনারশিপ ইংল্যান্ডকে সাত উইকেটের জয় এনে দিয়েছে। এই রান তারা করেছেন মাত্র ৩১৬ বল খেলে!



 অথচ ভারতের ৪১৪ রানের জবাবে একটি পর্যায়ে ৮৫ রানে পাঁচ উইকেট হারিয়ে বসে ইংলিশরা। সেখান থেকে বেয়ারস্টোর সেঞ্চুরিতে ২৮৪ রান তুলতে সমর্থ হয় স্বাগতিকরা। বোলিং সাফল্যে ভারতকে দ্বিতীয় ইনিংসে ২৪৫ রানে আটকে দেন বেন স্টোকসরা। এরপরও ৩৭৮ রানের বিশাল টার্গেট দিতে সমর্থ হয় ভারত। জসপ্রিত বুমরাহ, মোহাম্মদ শামি, মোহাম্মদ সিরাজরা অবশ্য বিশাল এই স্কোরকে পুঁজি করেও ভারতকে জেতাতে পারেননি।

 

চলতি গ্রীষ্মে নিজেদের পারফরম্যান্স অনন্য উচ্চতায় নিয়ে গেছে ইংল্যান্ড। মাত্র পাঁচ সপ্তাহ আগেও ধুঁকছিল ইংলিশরা। আগের ১৭ টেস্টের মধ্যে তাদের জয় ছিল মাত্র একটি। এর মধ্যে অ্যাশেজ পরাজয় আর ওয়েস্ট ইন্ডিজের মাটিতে সিরিজ পরাজয়ও অন্তর্ভুক্ত ছিল। অধিনায়ক জো রুটকে তাই সরেই যেতে হয়। তার জায়গায় দায়িত্ব পান বেন স্টোকস, আর কোচ হিসেবে বেছে নেয়া হয় নিউজিল্যান্ডের সাবেক অধিনায়ক ও মারকুটে ব্যাটসম্যান ব্রেন্ডন ম্যাককালামকে।

 

নতুন এই জুটির অধীনে প্রথম সিরিজেই নিউজিল্যান্ডকে ৩-০ ব্যবধানে হারায় ইংল্যান্ড এবং তিনটিতেই রান চেজ করে। এবার ভারতকেও উড়িয়ে দিল স্বাগতিকরা। স্টোকসের অধীনে এ নিয়ে চার টেস্টের চারটিই জিতল দেশটি।

 

জয় শেষে স্টোকস সতীর্থদের কৃতিত্বকেই বড় করে দেখলেন। তিনি বললেন, এ কৃতিত্ব খেলোয়াড়দের, তারা আমার কাজটি সহজ করে দিচ্ছেন। ৩৭৮ রান, পাঁচ সপ্তাহ আগে আমাদের কাছে ছিল আতঙ্কের, কিন্তু এখন সাবলীলভাবেই তাড়া করছি। জনি (বেয়ারস্টো) ও রুটি (জো রুট) বড় কৃতিত্বের অধিকারী, তবে আমাদের ওপেনাররা সুরটা তৈরি করে দিয়ে গেছেন বুমরাহ ও শামির বিরুদ্ধে।

 

তিনি আরো বলেন, আমরা টেস্ট ক্রিকেটটা নতুন করে লিখতে চাই, বিশেষ করে ইংল্যান্ডে যেভাবে খেলা হয়। শুধু ব্যাটিংই নয়, অবশ্যই ১০ উইকেট নেয়ার বিষয়ও থাকবে। টেস্টকে আমরা নতুন প্রাণ দিতে চাই। এ কাজে যে সমর্থন পাচ্ছি তা অবিশ্বাস্য। মাঠে নতুন সমর্থক দলও আমরা নিয়ে আসতে সমর্থ হচ্ছি। আমরা পদচিহ্ন এঁকে দিতে চাই।

 

এর মধ্য দিয়ে পাতৌদি ট্রফি ২-২-এ ড্র করতে সমর্থ হলো ইংলিশরা, যা গত গ্রীষ্মে কভিড-১৯ প্রাদুর্ভাবের কারণে ড্র হয়েছিল। ৭৩৭ রান করে সিরিজসেরা খেলোয়াড় রুট, যিনি সেঞ্চুরিই করেছেন চারটি।

 

আগামী আগস্টে দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে নিজেদের পরবর্তী টেস্ট সিরিজ খেলবে ইংল্যান্ড। আর জস বাটলারের নেতৃত্বাধীন সম্পূর্ণ ভিন্ন দল নিয়ে ভারতের বিপক্ষে তিন ম্যাচের টি২০ সিরিজে মাঠে নামছে স্বাগতিকরা, যা শুরু হবে বৃহস্পতিবার।

 

সংক্ষিপ্ত স্কোর

ভারত: ৪১৬ ও ২৪৫ (পুজারা ৬৬, পন্ত ৫৭; স্টোকস ৪/৩৩)। ইংল্যান্ড: ২৮৪ ও ৩৭৮/৩ (রুট ১৪২*, বেয়ারস্টো ১১৪*)। ফল: ইংল্যান্ড সাত উইকেটে জয়ী। সিরিজ: ২-২ এ ড্র।