ব্যর্থতার বৃত্তেই থাকল বাংলাদেশ ফুটবল দল। মালয়েশিয়ায় গতকাল এশিয়ান কাপ বাছাই পর্বে নিজেদের দ্বিতীয় ম্যাচে তুর্কমেনিস্তানের কাছে ২-১ গোলে হেরেছে জামাল ভূইয়ার দল। প্রথম ম্যাচে বাহরাইনের কাছে ২-০ গোলে হেরেছিল লাল-সবুজ জার্সিধারীরা। ওই ম্যাচে মধ্যপ্রাচ্যের দেশটির সঙ্গে এক কথায় পাত্তাই পায়নি দলটি। গতকাল ভালো খেলেও জিততে পারল না হাভিয়ের কাবরেরার দল। ২০২২ সালে এখন পর্যন্ত ছয় ম্যাচ খেলে জয়হীন বাংলাদেশ।
গতকালের হারে এশিয়ান কাপ বাছাই পর্বের প্রথম রাউন্ড থেকে বিদায়ঘণ্টা প্রায় বেজে গেছে বাংলাদেশের। আগামী মঙ্গলবার স্বাগতিক মালয়েশিয়ার বিপক্ষে শেষ ম্যাচে নামবে লাল-সবুজরা। শেষ ম্যাচে জিতলেও বাংলাদেশের পক্ষে আর ‘ই’ গ্রুপ চ্যাম্পিয়ন হওয়া সম্ভব নয়। তবে গ্রুপ রানার্সআপ হতে পারলে ক্ষীণ সুযোগ টিকে থাকবে। যদিও মালয়েশিয়া রয়েছে দুর্দান্ত ফর্মে। র্যাংকিংয়ে ১৩৪ নম্বরে থাকা তুর্কমেনিস্তানকে ৩-১ গোলে হারিয়ে বাছাই পর্ব শুরু করে ১৫৪ নম্বর র্যাংকধারী মালয়েশিয়া।
র্যাংকিংয়ে ৫৪ ধাপ এগিয়ে থাকা তুর্কমেনিস্তানের বিপক্ষে বাহরাইন ম্যাচের চেয়ে তুলনামূলক ভালো খেলেছে বাংলাদেশ। রক্ষণে ভালো খেললেও হতাশা ছিল শুধু আক্রমণভাগে। অনেকগুলো সহজ সুযোগ পেয়েও জামাল, ইব্রাহিম ও বাদশারা কাজে লাগাতে পারেননি। বাংলাদেশের অপরিপক্ব আক্রমণভাগ বারবার ব্যর্থ হয়েছে। বাংলাদেশ তাদের শেষ আট ম্যাচের একটিতেও জিততে পারেনি এবং শেষ পাঁচ ম্যাচে প্রতিপক্ষের জালে মাত্র একবার বল পাঠাতে পেরেছে!
কুয়ালালামপুরের বুকিত জলিল ন্যাশনাল স্টেডিয়ামে ‘ই’ গ্রুপের ম্যাচটিতে আগের ম্যাচের একাদশ নিয়েই মাঠে নামে বাংলাদেশ। ৪-১-৪-১ ছক সাজান বাংলাদেশের স্প্যানিশ কোচ হাভিয়ের কাবরেরা। প্রথম ম্যাচে বাহরাইনের বিপক্ষে সেট পিস থেকে গোল হজম করে বাংলাদেশ। তুর্কমেনিস্তানের বিপক্ষেও শুরুর দিকে একই ভুল হয়। সাত মিনিটের মধ্যে চারটি কর্নার পাওয়া তুর্কমেনিস্তান এগিয়ে যায় চতুর্থটি কাজে লাগিয়ে। হালমামেদভের কর্নারে আনাদুরদিয়েভ আলতিমিলাতের কোনাকুনি প্লেসিং শটে বল গড়িয়ে চলে যায় জালে। ডিফেন্ডার ইয়াসিন আরাফাত বল রুখতে ব্যর্থ হন।
শুরুতে রক্ষণ জমাট রাখার চেষ্টা করলেও গোল হজম করে বসে বাংলাদেশ। তবে দ্রুত আক্রমণে ওঠে বিপলু-বিশ্বনাথরা। এতে সফলও হয়। ১২ মিনিটে সমতায় ফেরে বাংলাদেশ। বিশ্বনাথের লম্বা থ্রো-ইন থেকে রাকিবের ব্যাক হেডে গোলকিপার ঠিকমতো বল ক্লিয়ার করতে পারেননি, গোল লাইনে দাঁড়িয়ে থেকে মোহাম্মদ ইব্রাহিম হেডে বল জড়িয়ে দেন জালে। এই গোলে উজ্জীবিত বাংলাদেশ এরপর একের পর এক আক্রমণে প্রতিপক্ষকে চাপে রাখে।
২০ মিনিটে বল নিয়ে সাজ্জাদ হোসেন বক্সে ঢুকে পড়লেও শেষ পর্যন্ত গায়ের সঙ্গে সেঁটে থাকা ডিফেন্ডারের সঙ্গে পেরে ওঠেননি। ভারসাম্য হারিয়ে পড়ে যান এই ফরোয়ার্ড। ২৩ মিনিটে দলীয় আক্রমণে যায় বাংলাদেশ। কিন্তু বক্সের মধ্যে তালগোল পাকিয়ে ফেলেন ফরোয়ার্ডরা। নষ্ট হয় সুযোগ। ৩৬ মিনিটে আবারো বিশ্বনাথের লম্বা করে নেয়া থ্রো ইনে সাজ্জাদের ব্যাক হেডের পর ইয়াসিন আরাফাত মাথা লাগানোর চেষ্টা করলে তার আগে প্রতিপক্ষের এক ডিফেন্ডার বল বাইরে পাঠিয়ে দেন।
৫৪ মিনিটে ডান প্রান্ত থেকে ইব্রাহিমের মাপা ক্রসে বক্সের ভেতর ঠিকমতো মাথা ছোঁয়াতে পারেননি ফরোয়ার্ড সাজ্জাদ। ৫৮ মিনিটে জামালের কর্নারে বল পেয়ে আকাশে মারেন ইয়াসিন আরাফাত। ৭৩ মিনিটে সামনে ছিল শুধুই গোলকিপার কিন্তু দূরের পোস্টে না মেরে গোলকিপার বরাবর শট নেন ফয়সাল আহমেদ ফাহিম। উল্টো ৭৭ মিনিটে বাংলাদেশের রক্ষণের ভুলের সুযোগ কাজে লাগিয়ে এগিয়ে যায় তুর্কমেনিস্তান। বাম প্রান্ত থেকে আন্নাদুরদিয়েভ আলতিমিরাতের পাসে গোলমুখে পা লাগিয়ে বল জালে পাঠান বদলি নামা আমানোভ।
ছয়টি গ্রুপের শীর্ষ দল উঠবে এশিয়ান কাপে। এরপর ৬টি রানার্সআপ দলের মধ্যে সেরা পাঁচটিও পাবে এশিয়ান কাপের টিকিট। এরই মধ্যে ১৩টি দল এশিয়ান কাপে খেলা নিশ্চিত করেছে, তাদের সঙ্গে বাছাই পর্ব খেলে যোগ দেবে বাকি ১১টি দল। সব মিলিয়ে ২৪টি দল প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবে ২০২৩ সালের এশিয়ান কাপে।










