আইসিসি চ্যাম্পিয়নস ট্রফিতে ‘এ’ গ্রুপ থেকে টানা দুই জয়ে সেমিফাইনাল নিশ্চিত করে ফেলেছে ভারত ও নিউজিল্যান্ড। আজ গ্রুপ চ্যাম্পিয়ন নির্ধারণের ম্যাচে মুখোমুখি হচ্ছে যেন বারুদে ঠাসা এ দুটি দল। এ যেন ফাইনালের আগে আরেক ফাইনাল! দুবাই ইন্টারন্যাশনাল ক্রিকেট স্টেডিয়ামে ম্যাচটি শুরু হবে বাংলাদেশ সময় বেলা ৩টায়।

এবারের আসরের উদ্বোধনী ম্যাচে পাকিস্তানকে ৬০ রানে হারিয়ে শুভসূচনা করে নিউজিল্যান্ড। তারা পরের ম্যাচে বাংলাদেশকে হারায় ৫ উইকেটে। প্রথম ম্যাচে টম ল্যাথাম ও উইল ইয়াং সেঞ্চুরি করেন। বাংলাদেশের বিপক্ষে নিউজিল্যান্ডের জয়ের নায়ক মাইকেল ব্রেসওয়েল। তিনি ২৬ রানে ৪ উইকেট নিয়ে বাংলাদেশকে ২৩৬ রানে আটকে দেন। এরপর রাচিন রবীন্দ্রর সেঞ্চুরিতে কিউইরা ২৩ বল বাকি থাকতে জয়ের লক্ষ্যে পৌঁছে যায়। কিউইরা পেস ও স্পিন উভয় আক্রমণেই প্রতিপক্ষকে নাজেহাল করছে।

এদিকে ভারত নিজেদের প্রথম ম্যাচে বাংলাদেশকে ৬ উইকেটে হারানোর পর চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী পাকিস্তানকেও একই ব্যবধানে হারায়। ভারতের হয়ে প্রথম ম্যাচে শুবমান গিল ও দ্বিতীয় ম্যাচে বিরাট কোহলি সেঞ্চুরি করেন। দলটির বোলিং বিভাগও আছে দারুণ ফর্মে। মোহাম্মদ শামির সঙ্গে হরষিত রানা, হার্দিক পান্ডিয়ার পেস আর কুলদীপ যাদব, রবীন্দ্র জাদেজা ও অক্ষর প্যাটেলের ঘূর্ণি মিলে ভারতের বোলিং বিভাগ ঈর্ষণীয়। অলরাউন্ডার হিসেবে রবীন্দ্র জাদেজা ও হার্দিক পান্ডিয়া খেলায় বোলিং ও ব্যাটিং উভয় বিভাগেই বাড়তি সুবিধা পায় ভারত।

আজ যেন আগুনের সঙ্গে আগুনের লড়াই। দুই দলের ব্যাটিং ও বোলিং উভয় বিভাগই উত্তুঙ্গ ফর্মে। দল হিসেবেও জয়রথে। সর্বশেষ ৫ ম্যাচেই জিতেছে ভারত ও নিউজিল্যান্ড। আজ কোনো একটি দলের জয়রথ থেমে যাবে।

ওয়ানডেতে মুখোমুখি লড়াইয়ে এগিয়ে আছে ভারত। এখন পর্যন্ত ১১৮ ম্যাচের মোকাবেলায় ভারত ৬০টি ও নিউজিল্যান্ড ৫০টি জিতেছে; ফলহীন ছিল ৭টি ম্যাচ। যদিও দুই দলের সর্বশেষ আন্তর্জাতিক ক্রিকেট লড়াইয়ে হেসেছে কিউইরা। গত অক্টোবর ও নভেম্বরে ভারতকে তাদেরই মাটিতে তিন ম্যাচের টেস্ট সিরিজে হোয়াইটওয়াশ করার কৃতিত্ব দেখায় কিউইরা।

যদিও ওয়ানডেতে সর্বশেষ পাঁচ লড়াইয়ের সবগুলোতেই জিতেছে ভারতীয়রা এবং পাঁচটিই ছিল ভারতের মাঠে। ২০২৩ সালের জানুয়ারিতে ভারতে তিন ম্যাচের হোম সিরিজ খেলে হোয়াইটওয়াশ হয় নিউজিল্যান্ড। এরপর বিশ্বকাপে দুবারের দেখায় দুটিতেই জিতেছে ভারত। প্রথমে রাউন্ড রবিন লিগের ম্যাচে ৪ উইকেটে জয়ের পর জমজমাট সেমিফাইনালে ৭০ রানে জিতেছে ভারত। সেমিফাইনালে বিরাট কোহলি ও শ্রেয়াস আইয়ারের সেঞ্চুরিতে ৪ উইকেটে ৩৯৭ রান তুলেছিল রোহিত শর্মার দল। পরে কিউইরা জয়ের সম্ভাবনা জাগালেও মোহাম্মদ শামি ৫৭ রানে ৭ উইকেট নিয়ে ভারতকে জিতিয়েছেন।

বিশ্বকাপের পর চোটের কারণে ২০২৪ সালের প্রায় পুরোটাই ওয়ানডে দলের বাইরে কাটানো মোহাম্মদ শামি আবার ফিরেছেন ৫০ ওভারের ফরম্যাটে। চ্যাম্পিয়নস ট্রফিতে দুই ম্যাচে ৫ উইকেট নিয়েছেন তিনি। আজ তার নিখুঁত লাইন-লেংথের সামনে অগ্নিপরীক্ষায় পড়তে হবে নিউজিল্যান্ডের ব্যাটারদের। সেই সঙ্গে ২০২৩ সালে ওয়াংখেড়ে স্টেডিয়ামে কিউইদের ব্যাটিং লাইনআপকে গুঁড়িয়ে দেয়ার স্মৃতিও দুঃস্বপ্ন হয়ে তাড়া করতে পারে তাদের।

শামি ও অধিনায়ক রোহিত শর্মার সামান্য চোট নিয়ে শঙ্কা ছিল। যদিও ভারতীয় ম্যানেজমেন্ট জানিয়ে দিয়েছে, দুই তারকার খেলা নিয়ে কোনো সংশয় নেই। তাতে স্বস্তির নিশ্বাস ফেলবেন ভারতীয় সমর্থকরা। কারণ ভারতের ব্যাটিং ও বোলিংয়ের দুই বড় অস্ত্র এ দুজন।

এদিকে বিরাট কোহলি মাঠে নামা মানেই নতুন নতুন রেকর্ড ভাঙা আর গড়া। আজ তার সামনে একাধিক রেকর্ড ভাঙার হাতছানি। দুবাইয়ে ৫১ রান করলেই চ্যাম্পিয়নস ট্রফিতে ভারতীয় ব্যাটারদের মধ্যে সবচেয়ে বেশি রানের মালিক হবেন তিনি, ভাঙবেন শিখর ধাওয়ানের রেকর্ড। ধাওয়ান ১০ ম্যাচে ৭০১ রান করেছেন। আর সৌরভ গাঙ্গুলী ১৩ ম্যাচে ৬৬৫ রান নিয়ে তালিকার দুইয়ে আছেন। কোহলি ১৫ ম্যাচে করেছেন ৬৫১ রান।

চ্যাম্পিয়নস ট্রফির ইতিহাসে সবচেয়ে বেশি রান করেছেন ক্রিস গেইল। ক্যারিবীয় তারকা ১৭ ম্যাচে ৭৯১ রান নিয়ে সবার ওপরে অবস্থান করছেন। এ রেকর্ড ভাঙতে কোহলিকে করতে হবে ১৪২ রান। আজকের ম্যাচ ছাড়াও তিনি সেমিফাইনালের আরেকটি সুযোগ পাবেন, কারণ ভারত এরই মধ্যে সেমিফাইনালে খেলা নিশ্চিত করেছে। আর ফাইনালে উঠলে সুযোগ আরেকটি বাড়বে।

নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে ওয়ানডেতে সবচেয়ে বেশি রান করতে কোহলির চাই ১০৬ রান। নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে সর্বোচ্চ ছয়টি করে সেঞ্চুরি আছে কোহলি, রিকি পন্টিং ও বিরেন্দর শেবাগের। পরের দুজনকে টপকে যাওয়ার সুযোগ কোহলির সামনে। ওয়ানডে ক্রিকেটে সর্বোচ্চ ১৮ হাজার ৪২৬ রান করেছেন শচিন টেন্ডুলকার। ১৪ হাজার ২৩৪ রান করে তার পরেই কুমার সাঙ্গাকারা। লংকান গ্রেটকে টপকে যেতে কোহলিকে করতে হবে আর ১৫০ রান।