ছেলেদের টেনিসে সবচেয়ে বেশি গ্র্যান্ড স্লাম শিরোপা জয়ের ইতিহাস গড়লেন রাফায়েল নাদাল। অস্ট্রেলিয়ান ওপেনে আজ মহাকাব্যিক এক ফাইনাল জিতে তিনি সবাইকে ছাড়িয়ে যান। রুশ খেলোয়াড় দানিল মেদভেদেভের বিপক্ষে দুই সেট পেছনে পড়েও শেষ পর্যন্ত নাদাল জিতেছেন ২-৬, ৬-৭ (৫/৭), ৬-৪, ৬-৪, ৭-৬ গেমে। এটা তার ক্যারিয়ারের ২১তম মেজর শিরোপা। আজ তিনি টপকে গেলেন রজার ফেদেরার ও নোভাক জোকোভিচকে। এতদিন ২০টি করে গ্র্যান্ড স্লাম জিতে যুগ্মভাবে রেকর্ড ধরে রেখেছিলেন তিনজন।

কভিড-১৯ টিকাজনিত কারণে এবার মেলবোর্নে খেলতে পারেননি এই আসরে সর্বোচ্চ নয়বারের চ্যাম্পিয়ন নোভাক জোকোভিচ। এটাই সুবিধা করে দিয়েছে নাদালকে। সুযোগ পুরো সদ্ব্যবহার তিনি করেছেন। যদিও ফাইনালটা একপেশে হয়নি, বরং ক্যারিয়ারের অন্যতম সেরা লড়াইটা তাকে করতে হলো আজ।

ইউএস ওপেন চ্যাম্পিয়ন মেদভেদেভ ক্যারিয়ারের দ্বিতীয় গ্র্যান্ড স্লাম শিরোপার আশাই করছিলেন। যদিও অদম্য নাদাল বর্নাঢ্য ক্যারিয়ারের বহু লড়াকু ম্যাচের মতো আরেকটি ম্যারাথন ম্যাচে শেষ হাসি হাসলেন। ২৫ বছর বয়সী মেদভেদেভ দুই সেট জিতে দারুণভাবে নিয়ন্ত্রণ নিয়ে নেন। যদিও এরপর চিরাচরিত ‘হার না মানা’ চরিত্র হাজির নাদালের। তিনি প্রতিটি পয়েন্টের জন্য বুক চিতিয়ে লড়লেন।

মেদভেদেভকে ধন্যবাদ জানিয়ে নাদাল বলেন, শুভ সন্ধ্যা, সবাইকে শুভসকাল। দানিল, তুমি অবিশ্বাস্য খেলেছো। আর এখানে তোমার অবস্থানে আমি কয়েকবার পড়েছি। আমার কোনো সংশয় নেই যে ক্যারিয়ারে একাধিকবার তুমি এই ট্রফিটা হাতে তুলে নেবে, কারণ তুমি অসাধারণ এক খেলোয়াড়। আমি তোমাকে অভিনন্দন জানাই। এটা ছিল আমার টেনিস ক্যারিয়ারের অন্যতম আবেগের ম্যাচ। তোমার সঙ্গে একই কোর্টে খেলতে পেরে আমি আনন্দিত। তোমার জন্য শুভকামনা থাকল।

৫ ঘণ্টা ২৪ মিনিটের এই লড়াই শেষ হয় অস্ট্রেলিয়ার স্থানীয় সময় রাত ১টায়।

এত কাছে গিয়েও পরাজয় মেনে নেয়া কষ্টের। তবু হাসলেন মেদভেদেভ। নিজের টিমকে ধন্যবাদ জানিয়ে তিনি কৌতুকও করলেন, আমি নিশ্চিত, দেশে আমার স্ত্রী খেলা দেখছিল, যদিও টিভিটা নিশ্চিতভাবেই ভাঙা হয়েছে।