ক্রিস্টিয়ানো রোনালদোর পর্তুগাল এক ম্যাচ হাতে রেখেই নকআউটের টিকিট নিশ্চিত করে ফেলে। আজ শুক্রবার রাতে শেষ ম্যাচে দক্ষিণ কোরিয়ার কাছে ২-১ গোলে হেরেও ‘এইচ’ গ্রুপ চ্যাম্পিয়ন হয়েছে পর্তুগিজরা। যোগ করা সময়ে করা গোলে নাটকীয়ভাবে উরুগুয়েকে পেছনে ফেলে নকআউটে উঠেছে দক্ষিণ কোরিয়া। ফলে ঘানাকে ২-০ গোলে হারিয়েও বিদায় নিতে হলো দুইবারের বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন উরুগুয়েকে। দুই দলের সংগ্রহ সমান ৪ পয়েন্ট করে হলেও গ্রুপ পর্বে উরুগুয়ের চেয়ে গোল বেশি করায় কোরিয়ানরা পেয়েছে নকআউটের টিকিট।

 

আল রাইয়ানের এডুকেশন সিটি স্টেডিয়ামে বাঁচা-মরার ম্যাচে পঞ্চম মিনিটেই গোল খেয়ে বসে দক্ষিণ কোরিয়া। দিওগো দালোতের পাস থেকে রিকার্ডো হোর্তা গোল করে পর্তুগালকে এগিয়ে দেন। ২৭ মিনিটে গোল পরিশোধ করেন ৩২ বছর বয়সী কিম ইয়ং-গুয়োন। এরপর একেবারে শেষ মুহূর্তে গোল করে বিশ্বকাপে টিকে থাকে লড়াকু কোরিয়ানরা। নির্ধারিত ৯০ মিনিট শেষে যোগ করা সময়ের প্রথম মিনিটে হুয়াং হি-চ্যান গোল করে কোরিয়ার জয় নিশ্চিত করেন। তাতে কাতারে কোরিয়ান রূপকথাও লেখা হয়ে যায়।

 

কোরিয়ার জয়ে ঘানাকে হারিয়েও শেষ ষোলোয় ওঠা হলো না উরুগুয়ের। আল ওয়াকরার আল জানুব স্টেডিয়ামে ২১ মিনিটে ঘানার অধিনায়ক আন্দ্রে আইয়ুর পেনাল্টি শট সেভ করেন উরুগুয়ের গোলকিপার সার্জিও রকেট। বাম প্রান্তে ঝাঁপিয়ে পড়ে তিনি আইয়ুর শট রুখে দেন। শটটি নেয়ার সময় দ্বিধাদ্বন্দ্বে ভুগছিলেন আইয়ু, অবশেষে যে শট নেন তা ছিল খুবই দুর্বল।

 

এভাবে সুযোগ হারানো ঘানাকে পরবর্তী সময়ে আক্রমণে এলোমেলো করে দেয় তারকাসমৃদ্ধ উরুগুইয়ানরা। ৬ মিনিটের ব্যবধানে (২৬ ও ৩২ মিনিট) দু-দুটি গোল করেন ঘানার ফেরার আশা শেষ করে দেন জর্জিয়ান দে আরাস্কায়েতা। প্রথমটি গোললাইনের কাছ থেকে নেয়া হেডে ও দ্বিতীয়টি দুর্দান্ত ভলিতে। তার দুটি গোলেই ছিল অধিনায়ক লুই সুয়ারেজের ছোঁয়া। পরপর দুই গোলে উরুগুয়ে যেন স্বপ্নরাজ্যে ভেসে বেড়াচ্ছিল, আর স্বর্গ থেকে পতন হয় ঘানার, যারা এ ম্যাচে ড্র করলেই শেষ ষোলোয় ওঠা নিশ্চিত ছিল। সুবর্ণ সুযোগ হারাল ৩ পয়েন্ট নিয়ে খেলতে নামা ঘানা। যদিও তাদের হারিয়েও নকআউটে ওঠা হলো না দুইবারের সাবেক বিশ্ব চ্যাম্পিয়নদের।

 

তিন ম্যাচ শেষে দক্ষিণ কোরিয়া ও উরুগুয়ে দুই দলেরই পয়েন্ট সমান ৪। গোল গড়ও উভয় দলের শূন্য। তাহলে কীভাবে আলাদা করা যাবে দল দুটিকে। এক্ষেত্রে প্রথম নিয়মটি হলো, যে দল বেশি গোল করেছে তারাই উত্তীর্ণ হবে পরের রাউন্ডে। তিন ম্যাচে উরুগুয়ের চেয়ে দুই বেশি গোল করায় দক্ষিণ কোরিয়া পায় নকআউটের টিকিট। কোরিয়া করেছে ৪ গোল, আর উরুগুয়ে করেছে ২ গোল।

 

উরুগুয়ের সঙ্গে প্রথম ম্যাচেই গোলশূন্য ড্র করে কোরিয়া। পরের ম্যাচে দুর্দান্ত খেলেও ঘানার কাছে ২-৩ গোলে হেরেছে সন হিউং মিনের দল। অবশ্য ঘানার বিপক্ষে করা দুটি গোল কাল কাজে লেগেছে পাওলো বেন্তোর দলের। পর্তুগালের জালে দুবার বল পাঠানোয় তাদের মোট গোল হয়ে যায় চারটি। এই গোলগুলোই এশিয়ান জায়ান্টদের শেষ ষোলোর টিকিট এনে দিয়েছে।

 

কোনো নাটকীয়তা না হলে ৫ ডিসেম্বর শেষ ষোলোয় ব্রাজিলের মুখোমুখি হবে দক্ষিণ কোরিয়া, আর পরদিন পর্তুগাল খেলবে ‘জি’ গ্রুপ রানার্সআপ দলের বিপক্ষে।