সার্বিয়ার বিপক্ষে ২-০ গোলের জয়ে কাতার বিশ্বকাপে শুভসূচনা পেয়েছে হট ফেভারিট ব্রাজিল। এ ম্যাচে জোড়া গোল করেন রিচার্লিসন। যদিও সেলেসাওদের স্বস্তির জয় শেষে অস্বস্তি বয়ে আনে নেইমারের ইনজুরির খবর। গোঁড়ালির চোটে পড়ায় দলের সবচেয়ে বড় এই তারকা সোমবার সুইজারল্যান্ড ম্যাচে খেলবেন না বলে আজ জানিয়েছেন ব্রাজিল দলের চিকিত্সক রদ্রিগো লাসমার। তবে তিনি দলের সঙ্গেই থাকবেন।

লাসমার জানান, নেইমারের ডান গোঁড়ালির পরীক্ষা নিরীক্ষা করার পর দেখা যায়, লিগামেন্ট ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে তার এবং সুইজারল্যান্ড ম্যাচের জন্য তিনি ফিট হয়ে উঠবেন না।

লাসমার বলেন, এ সময় শান্ত থাকা খুবই গুরুত্বপূর্ণ। প্রতিদিনই আপডেট দেয়া হবে এবং নেইমারের ব্যাপারে সেরা সিদ্ধান্তই নেয়া হবে।

ব্রাজিল দলের চিকিত্সক আরো জানান, লক্ষ্য হলো তাকে দ্রুত সেরে তোলা, কেননা টুর্নামেন্টে এখনো অনেক খেলা বাকি আছে।

সার্বিয়া ম্যাচে গোঁড়ালির চোটে পড়েন নেইমার। দল ২-০ গোলে জিতলেও বেঞ্চে বসে কেঁদেছেন তিনি। কারণ চোটের কাছে হার মানার ভয় পেয়ে বসে তাকে। ২০১৪ সালে ঘরের মাটিতে কলম্বিয়ার বিপক্ষে পিঠের মারাত্মক চোটে পড়ে ছিটকে গিয়েছিলেন তরুণ নেইমার। তার দল পরে সেমিফাইনালে জার্মানির কাছে ১-৭ গোলের বড় ব্যবধানে পরাজিত হয়।

বৃহস্পতিবার লুসাইল স্টেডিয়ামে ম্যাচ শেষে সতীর্থদের কাঁধে ভর দিয়ে লকার রুমে গিয়েছেন নেইমার। ম্যাচ শেষ হওয়ার কিছু সময় পর নেইমার তার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের একাউন্টে জয়ের জন্য দলকে অভিনন্দন জানিয়ে লিখেছেন, কঠিন ম্যাচ, কিন্তু জয় পাওয়াটা গুরুত্বপূর্ণ ছিল। দলকে অভিনন্দন, প্রথম ধাপটি অতিক্রম করা গেল। এখনো ছয়টি বাকি।

নেইমারকে নিয়ে অনিশ্চয়তায় সেলেসাওদের সম্ভাবনা নিয়েও শঙ্কা তৈরি হয়। তবে ইনস্টাগ্রামের তিনি দলের প্রতি আস্থা রাখার আহ্বান জানান। পিএসজি সুপারস্টার লিখেছেন, হৈচৈ থাকলেও সবকিছু যে ঠিক আছে তা নিয়ে বিশ্বাস করতে হবে। এটা নিশ্চিত যে, আমাদের সেরাটা বের হয়ে আসবে। সবকিছু সময়ের সঙ্গে সঙ্গে ঠিক হয়ে যাবে।

নেইমারকে নিয়ে আশাবাদী ব্রাজিল কোচ তিতে। ম্যাচ শেষে তিনি বলেন, আপনি নিশ্চিত থাকতে পারেন যে নেইমার এই বিশ্বকাপে খেলছে। আমি এ নিয়ে নিশ্চিত।

চোটে পড়লে ৭৯ মিনিটে নেইমারকে উঠিয়ে বদলি খেলোয়াড় নামানো হয়। তার ১০ মিনিট আগে সার্বিয়ার নিকোলা মিলেনকোভিচের কড়া ট্যাকলে গোঁড়ালিতে চোট পান নেইমার। ম্যাচে তিনি মোট ৯ বার ফাউলের শিকার হন। চলতি আসরে গ্রুপ পর্বের সব ম্যাচ শেষে দেখা যায়, নেইমারের চেয়ে বেশিবার ফাউলের শিকার হননি আর কোনো খেলোয়াড়। নেইমারের চোট ও দলের অবস্থা নিয়ে ব্রাজিল গোলকিপার অ্যালিসন বলেন, আমরা আশাবাদীই থাকব, এটাই এই দলের বৈশিষ্ট্য। এমন বিরূপ পরিস্থিতি দলকে আরো শক্তিশালী করে।

আগামী সোমবার সুইজারল্যান্ডের বিপক্ষে নিজেদের পরের ম্যাচ খেলবে ব্রাজিল। পাঁচবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়নরা ২ ডিসেম্বর শেষ ম্যাচ খেলবে ক্যামেরুনের বিপক্ষে। প্রথম ম্যাচে ক্যামেরুনের বিপক্ষে জিতেছে সুইজারল্যান্ড, ব্রাজিল হারিয়েছে সার্বিয়াকে।

নেইমারের চোটের দীর্ঘ লড়াই রয়েছে নেইমারের। ২০১৪ বিশ্বকাপে স্ট্রেচারে করে মাঠের বাইরে নিতে হয়েছিল তাকে। ২০১৮ বিশ্বকাপ থেকে তিনি পায়ের পাতার চোটে পড়েন এবং একাধিকবার অস্ত্রোপচার করাতে হয়। গোঁড়ালির চোটে তার খেলা হয়নি ২০১৯ সালের বিশ্বকাপে, যাতে ব্রাজিল শিরোপা জয় করে।

ব্রাজিলের হয়ে এখনো বড় কোনো শিরোপা জিততে পারেননি নেইমার। ২০১৩ সালে কনফেডারেশন্স কাপ ও ২০১৬ সালে অলিম্পিক পদক জয়ে তিনি ব্রাজিলকে সাহায্য করেন। কাতারেই শেষ বিশ্বকাপ খেলছেন তিনি। তাই বিশ্বকাপ জয়ের এটাই শেষ সুযোগ তার।