ঢাকা প্রিমিয়ার ডিভিশন ক্রিকেট লিগে গতকাল গাজী টায়ার্স ক্রিকেট একাডেমিকে ৪০ রানে অলআউট করার কৃতিত্ব দেখায় মোহামেডান স্পোর্টিং ক্লাব। পেস বোলার আবু হায়দার রনি একাই নেন ৭ উইকেট! তার বিধ্বংসী বোলিংয়ের মুখে মাত্র ১২ ওভারের মধ্যে অলআউট হয়ে যায় গাজী টায়ার্স। পরে মাত্র ৬.২ ওভারে এক উইকেট হারিয়ে জয় তুলে নেয় মোহামেডান।
বাংলাদেশের ঘরোয়া ‘লিস্ট-এ’ ক্রিকেটে এটি তৃতীয় সর্বনিম্ন দলীয় সংগ্রহের রেকর্ড। সর্বনিম্ন ৩০ রানে অলআউট হওয়ার রেকর্ডটা চট্টগ্রাম বিভাগের। ২০০২ সালে জাতীয় ক্রিকেট লিগের ওয়ানডে সংস্করণে সিলেট বিভাগের বিপক্ষে অমন ভরাডুবি ঘটেছিল চট্টগ্রামের।
এছাড়া ঢাকা প্রিমিয়ার লিগে ২০১৩ সালে নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লায় আবাহনী লিমিটেডের বিধ্বংসী বোলিংয়ের মুখে মাত্র ৩৫ রানে অলআউট হয়েছিল ক্রিকেট কোচিং স্কুল (সিসিএস)। আজ সেই প্রিমিয়ার লিগে ৪০ রানে অলআউট হলো গাজী টায়ার্স। রানের হিসাবে এটা তৃতীয় সর্বনিম্ন স্কোর হলেও ওভারের হিসাবে এটা সংক্ষিপ্ততম (১২ ওভার)। মানে এত কম ওভারে দেশের লিস্ট-এ ক্রিকেটে কোনো দল অলআউট হয়নি।
ঢাকা প্রিমিয়ার ডিভিশন ক্রিকেট লিগ ২০১৩-১৪ মৌসুম থেকে ‘লিস্ট-এ’ ক্যাটাগরিভুক্ত হয়। সেই থেকে এ প্রতিযোগিতায় তৃতীয় দল হিসেবে ৫০ রানের নিচে অলআউট হলো গাজী টায়ার্স। ২০১৭ সালে ফতুল্লায় খেলাঘরের বিপক্ষে ৪৬ রানে অলআউট হয়েছিল ভিক্টোরিয়া স্পোর্টিং ক্লাব। অর্থাৎ, প্রিমিয়ার লিগে ৫০ রানের নিচে অলআউট হওয়ার লজ্জা আছে গাজী টায়ার্স, সিসিএস ও ভিক্টোরিয়ার।
আজ গাজীকে ধসিয়ে দেয়ার মূল নায়ক রনি। বামহাতি এ পেসার ২০ রানে ৭ উইকেট নেন। ঢাকা প্রিমিয়ার লিগে এটি এক ইনিংসে দ্বিতীয় সেরা বোলিংয়ের রেকর্ড। ইয়াসিন আরাফাতের ৮ উইকেট নেয়ার নজির আছে। ২০১৮ সালে ফতুল্লায় আবাহনীর বিপক্ষে ৪০ রানে ৮ উইকেট নিয়েছিলেন গাজী গ্রুপের ইয়াসিন। আর সব মিলিয়ে বাংলাদেশের ‘লিস্ট-এ’ ক্রিকেটে রনির বোলিং তৃতীয় সেরা। ২০০৪ সালে জিম্বাবুয়ে ‘এ’ দলের বিপক্ষে বাংলাদেশ ‘এ’ দলের হয়ে ১৭ রানে ৭ উইকেট নিয়েছিলেন সাবেক স্পিনার ও বর্তমানে জাতীয় ক্রিকেট দলের নির্বাচক আবদুর রাজ্জাক। তবে সব মিলিয়ে দেশের ‘লিস্ট-এ’ ক্রিকেটে সেরা বোলিংয়ের রেকর্ডটি ধরে রেখেছেন ইয়াসিন আরাফাত।
ভয়াবহ ব্যাটিং বিপর্যয়ের এ দিনে গাজী টায়ার্সের ইফতেখার সাজ্জাদ শুধু দুই অংক ছুঁতে পেরেছেন। তাও আট নম্বরে নেমেছেন তিনি। ১৬ রান করেন তিনি। রনি ৭ উইকেট নেয়ার পর গাজী টায়ার্সের বাকি তিনটি উইকেট নেন স্পিনার নাসুম আহমেদ। রান তাড়া করতে নেমে এক উইকেট হারিয়ে জয়ের লক্ষ্যে পৌঁছে যায় মোহামেডান। ১৯ রানে অপরাজিত ছিলেন মোহামেডান অধিনায়ক ইমরুল কায়েস।
মোহামেডানের রেকর্ডময় দিনে উড়ল আবাহনীও। ফতুল্লায় লিজেন্ডস অব রূপগঞ্জকে মাত্র ৯৯ রানে অলআউট করে দিয়ে আবাহনী ৮ উইকেটের জয় তুলে নিয়েছে। জাতীয় দলের তিন পেসার তানজিম হাসান সাকিব, শরিফুল ইসলাম ও তাসকিন আহমেদ ভয়ংকর গতির ঝড় তুলে বিধ্বস্ত করেন রূপগঞ্জকে। এ তিনজন ১০ উইকেট শিকার করেন। এরপর মোসাদ্দেক হোসেন সৈকত ও এনামুল হকের ব্যাটে ভর করে ১০.৪ ওভারেই জয় নিশ্চিত করে আবাহনী। ২৩ রানে ৫ উইকেট নিয়ে ম্যাচসেরা খেলোয়াড় হয়েছেন তানজিম সাকিব।
মিরপুর শেরেবাংলা জাতীয় স্টেডিয়ামে প্রাইম ব্যাংক ক্রিকেট ক্লাবকে ৭৩ রানে হারিয়েছে শেখ জামাল ধানমন্ডি ক্লাব। আগে ব্যাট করতে নেমে সাইফ হাসানের সেঞ্চুরিতে (১১৫) ভর করে ৯ উইকেটে ২৯২ রান তোলে শেখ জামাল। এছাড়া সৈকত আলী ৪৩, ফজলে রাব্বি ৪২ ও জিয়াউর রহমান ৩৯ রান করেন। জবাবে প্রাইম ব্যাংক ২১৯ রানে অলআউট হয়। প্রাইম ব্যাংকের অধিনায়ক তামিম ইকবাল ৭০ বলে সর্বোচ্চ ৬৯ রান করেন। টিপু সুলতান ৫৩ রানে ৪ উইকেট নেন।










