কাতার বিশ্বকাপে ৩১তম দল হিসেবে খেলা নিশ্চিত করেছে অস্ট্রেলিয়া। গতকাল সোমবার দিবাগত রাতে আন্তঃমহাদেশীয় প্লে-অফে কনমেবল থেকে আশা পেরুকে টাইব্রেকারে ৫-৪ ব্যবধানে হারিয়েছে এশিয়ান ফুটবল কনফেডারেশন থেকে খেলা অস্ট্রেলিয়া। এতে পেরুর স্বপ্ন ভেঙে বিশ্বকাপের মঞ্চে পৌঁছে গেল ‘সকারু’রা। ম্যাচের মূল ৯০ মিনিটের পর অতিরিক্ত ৩০ মিনিটের খেলাও শেষ হয় গোলশূন্যভাবে। ফলে টাইব্রেকারেই মীমাংসা হয় বিজয়ী হিসেবে কে যাবে কাতারে।
এই জয়ের পর ২০০৬ সালের বিশ্বকাপ থেকে বিশ্বকাপের টানা পাঁচ আসরেই অংশগ্রহণ নিশ্চিত করল অস্ট্রেলিয়া।
আজ মঙ্গলবার দিবাগত রাতে কাতারের আল রাইয়ান স্টেডিয়ামে কাতার বিশ্বকাপের ৩২তম ও শেষ জায়গাটি দখল করতে আরেক প্লে-অফে মুখোমুখি হবে কনকাকাফের কোস্টারিকা ও ওশেনিয়ার নিউজিল্যান্ড। এই ম্যাচে যারা জিতবে বিশ্বকাপের ‘ই’ গ্রুপে যোগ দেবে তারা। কাতার বিশ্বকাপের মৃত্যুকূপও এটি। কারণ গ্রুপটিতে আছে ইউরোপের ফুটবল পরাশক্তি স্পেন, জার্মানি ও এশিয়ার পরাশিক্ত জাপান।
কাতারের আল রাইয়ান স্টেডিয়ামে সোমবার অস্ট্রেলিয়ার জয়ের নায়ক গোলকিপার অ্যান্ড্রু রেডমাইন। যিনি মাঠে নামেন শুটআউটের ঠিক আগের মিনিটে আরেক গোলকিপার ম্যাট রায়ানের বদলি হয়ে। অথচ আকষ্মিক এই পরিবর্তন অনেকেই স্বাভাবিকভাবে নিতে পারেননি। কারণ, এর আগে মাত্র একটি প্রতিযোগিতামূলক ম্যাচের অভিজ্ঞতা ছিল ৩৩ বছর বয়সী রেডমাইনের। টাইব্রেকারে ৪টি শট ঠেকাতে ব্যর্থ হলে শঙ্কাটা আরো জেঁকে বসে। আর একটি লাগে পোস্টে। তবে শুরু থেকে গোললাইনে দাঁড়িয়ে এদিক-সেদিক নেচে প্রতিপক্ষকে বিভ্রান্ত করার চেষ্টা করেছিলেন রেডমাইন। যার কৌশল শুরুতে কাজে না লাগলেও বাজিমাত করেছে সাডেন ডেথে। অ্যালেক্স ভ্যালেরার কিক ঠেকিয়ে দিয়ে নিশ্চিত করেন অস্ট্রেলিয়ার ৫-৪ গোলের জয়। তার আগে নির্ধারিত ও অতিরিক্ত সময়ের খেলা শেষ হয় গোলশূন্যতে।
এবারের আসরে অস্ট্রেলিয়া খেলবে গ্রুপ ‘ডি’তে। তাদের সঙ্গী বর্তমান চ্যাম্পিয়ন ফ্রান্স, ডেনমার্ক ও তিউনিসিয়া।
অস্ট্রেলিয়া কোচ গ্রাহাম আর্নল্ডও পরে জানালেন গোলকিপার পরিবর্তনের কারণটা ছিল কৌশলগত। তার কথায়, হ্যাঁ, ও আসলেই ভালো একজন পেনাল্টি সেভার। চেয়েছিলাম এটা প্রতিপক্ষের ওপর মানসিকভাবে প্রভাব ফেলুকে।
দলের জয়ের নায়কে পরিণত হয়েও রেডমাইন বলেছেন, আমি কোনো নায়ক নই। সবার মতো শুধু নিজের দায়িত্বটা পালন করেছি।
২০০৬ থেকে শেষ চার বিশ্বকাপ আসরেই খেলেছে ‘সকারু’রা। অবশ্য শেষ তিন আসরে গ্রুপ পর্ব থেকেই বিদায় নিয়েছিল তারা। ১৯৭৪ সালে সর্বপ্রথম বিশ্বকাপ খেলে তারা। এবার এএফসি থেকে সরাসরি বাছাইপর্ব উতরাতে পারেনি তারা।
এবার এশিয়া অঞ্চল থেকে সরাসরি বিশ্বকাপে যেতে পারেনি অস্ট্রেলিয়া। তারা সংযুক্ত আরব আমিরাতের সঙ্গে এএফসির প্লে-অফ সেমিফাইনাল খেলে আন্তঃমহাদেশীয় প্লে-অফ ফাইনালে পা রাখে। অন্যদিকে পেরু ১৯৩০ সালে বিশ্বকাপের প্রথম আসরে খেলে। এরপর ১৯৭০, ১৯৭৮, ১৯৮২ ও ২০১৮ বিশ্বকাপের মূলপর্বেও খেলেছে দলটি। এবার কনমেবল থেকে বাছাইপর্ব সরাসরি উতরাতে পারেনি তারা। আন্তঃমাহাদেশীয় ফাইনালে হেরে বিদায় নিতে হলো দলটির।










