সংযুক্ত আরব আমিরাতে ১৭তম এশিয়া কাপ টি-টোয়েন্টিতে সুপার ফোর পর্বে শুভসূচনা করেছে বাংলাদেশ। গত বৃহস্পতিবার আফগানিস্তানের বিপক্ষে শ্রীলংকার জয়ে সুপার ফোরে খেলার টিকিট নিশ্চিত হয় বাংলাদেশের। লংকানদের সাহায্য নিয়ে সুপার ফোরে ওঠা টাইগাররা এবার তাদেরই হারিয়ে দিল! গতকাল রাতে দুবাইয়ে সুপার ফোরের প্রথম ম্যাচে শ্রীলংকার ছুড়ে দেয়া ১৬৯ রান তাড়া করতে নেমে ১ বল বাকি থাকতে ৪ উইকেটের জয় তুলে নিয়েছে লিটন দাসের দল। সাইফ হাসান ও তাওহীদ হৃদয়ের দুর্দান্ত ফিফটিতে জয় পেয়েছে বাংলাদেশ।
এ জয়ে প্রতিশোধও নেয়া হলো বাংলাদেশের। গ্রুপ পর্বে শ্রীলংকা ৬ উইকেটে হারিয়েছিল লিটনদের। ২০ ওভারের ফরম্যাটে জয়-পরাজয়ের ব্যবধানও কমল দুই দলের। ২২ বারের মোকাবেলায় এটা টাইগারদের নবম জয়, সিংহলিজরা জিতেছে ১৩ বার।
দুবাই ইন্টারন্যাশনাল স্টেডিয়ামে গতকাল রাতে সুপার ফোরের প্রথম ম্যাচে জমজমাট লড়াই শেষে ১ বল বাকি থাকতে জয় তুলে নেয় বাংলাদেশ। পারভেজ হোসেন ইমনের জায়গায় একাদশে আসা সাইফ হাসান আগের ম্যাচে ৩০ রান করার পর গতকাল খেলেন ৪৫ বলে ৬১ রানের ক্ল্যাসিক ইনিংস। দুটি চার ও চারটি ছক্কায় সাজান ইনিংসটি। টি-টোয়েন্টিতে এটা তার দ্বিতীয় ফিফটি। প্রথমটি অবশ্য এশিয়ান গেমসে করা। হৃদয় ৩৭ বলে ৫৮ রান করেন। প্রায় এক বছর পর টি-টোয়েন্টিতে ফিফটি পেলেন তিনি। এটা তার চতুর্থ টি-টোয়েন্টি ফিফটি। চার বাউন্ডারি ও দুই ছক্কা মারেন হৃদয়।
নুয়ান তুষারার গতিতে পরাস্ত হয়ে দলীয় ১ রানে তানজিদ হাসান তামিম বোল্ড হয়ে যাওয়ার পর অধিনায়ক লিটন দাসকে নিয়ে ৩৪ বলে ৫৯ রানের দুর্দান্ত জুটিতে বাংলাদেশকে ভিত গড়ে দেন সাইফ। লিটন ১৬ বলে ২৩ রান করে সাজঘরে ফিরেছেন হাসারাঙ্গা ডি সিলভার শিকার হয়ে। এরপর হৃদয়ের সঙ্গে ৪৫ বলে ৫৪ রানের জুটি গড়েন সাইফ। রাজসিক ব্যাটিং করতে থাকা সাইফকে থামান হাসারাঙ্গা। দল তখন জয় থেকে ৫৫ রান দূরে, বল বাকি ৩৬টি। আত্মবিশ্বাসী বাংলাদেশ সেখান থেকে জিতেছে তাওহীদ ও শামীম হোসেনের দৃঢ়তায়। দুজন ২৭ বলে ৪৫ রানের জুটি গড়ে দলকে জয়ের কাছাকাছি নিয়ে যান। দলকে জয় থেকে মাত্র ১০ রান দূরে রেখে দুশমন্ত চামিরার বলে আউট হয়ে যান তাওহীদ।
শেষ ওভারে মাত্র ৫ রানের প্রয়োজন ছিল বাংলাদেশের। যদিও শানাকা এ ওভারে দুই-দুটি উইকেট তুলে নিয়ে উত্তেজনা তৈরি করেন। অবশ্য শেষ রক্ষা হয়নি লংকানদের। শানাকার বল গালি অঞ্চলে ঠেলে দিয়ে জয়সূচক রান নিয়ে নেন নাসুম আহমেদ।
এর আগে টস হেরে আগে ব্যাটিং করতে নামা লংকানরা দারুণ সূচনা করার পর পঞ্চম ওভারের শেষ বলে ওপেনিং জুটি ভাঙেন তাসকিন আহমেদ। বিপজ্জনক হয়ে ওঠা পাথুম নিশাঙ্কাকে (১৫ বলে ২২) ফেরান তিনি। অষ্টম ওভারে কুশল মেন্ডিসকে সাজঘরে ফেরান স্পিনার মেহেদী হাসান। নিজের পরে ওভারে কামিল মিশারাকে ফেরান তিনি।
৬৫ রানে তিন উইকেট হারানো লংকানদের টানেন দাসুন শানাকা ও কুশল পেরেরা। বাঁহাতি পেরেরা ১৬ বলে ১৬ রান করে মুস্তাফিজুর রহমানের শিকার হন। এরপর শানাকা ও চারিত আসালঙ্কার ৫৭ রানের জুটি শ্রীলংকাকে পৌঁছে দেয় সংহত অবস্থানে। দেড়শ রান ওঠার পর লংকানরা দ্রুত তিনটি উইকেট হারালেও দল পেয়ে যায় লড়াকু সংগ্রহ। মুস্তাফিজ ২০ রানে তিনটি ও মেহেদী হাসান ২৫ রানে দুটি উইকেট নেন।
সফলভাবে রান তাড়া করার পর বাংলাদেশ দলনায়ক লিটন দাস বলেন, ‘এশিয়া কাপের আগে আমরা বেশ কয়েকটি সিরিজ খেলেছি এবং সফলভাবে রান তাড়া করেছি। কাজেই আমরা জানি যে আমাদের ব্যাটিং লাইনআপ ভালো। বিশ্বাস ছিল ম্যাচটি জেতানোর মতো মেধা আছে সাইফের। আরব আমিরাতে সে ভালো করবে বলে বিশ্বাস ছিল। তার খেলা সম্পর্কে আমার ধারণা আছে।’
সুপার ফোরে বুধবার ভারতের ও বৃহস্পতিবার পাকিস্তানের মুখোমুখি হবে বাংলাদেশ। দুটি ম্যাচই দুবাইয়ে। তার আগে আজ দুবাইয়ে লড়বে ভারত ও পাকিস্তান।
সংক্ষিপ্ত স্কোর
শ্রীলংকা: ২০ ওভারে ১৬৮/৭ (শানাকা ৬৪*, কুশল ৩৪, নিশাঙ্কা ২২; মুস্তাফিজ ৩/২০, মেহেদী ২/২৫)। বাংলাদেশ: ১৯.৫ ওভারে ১৬৯/৬ (সাইফ ৬১, তাওহীদ ৫৮, লিটন ২৩, শামীম ১৪*; শানাকা ২/২১, হাসারাঙ্গা ২/২২)। ফল: বাংলাদেশ ৪ উইকেটে জয়ী। প্লেয়ার অব দ্য ম্যাচ: সাইফ হাসান (বাংলাদেশ)।










