নেপালকে সদ্যই পাঁচ ম্যাচের টেস্ট সিরিজে ৪-১ ব্যবধানে হারিয়েছে বাংলাদেশ নারী কাবাডি দল। এবার এশিয়ান চ্যাম্পিয়নশিপ খেলতে ইরান যাচ্ছে বাংলাদেশের মেয়েরা। স্বর্ণ কিংবা রৌপ্য নয়, ব্রোঞ্জ জয়ের লক্ষ্য নিয়েই ইরান যাচ্ছে বাংলাদেশ দল।

ইরানের রাজধানী তেহরান থেকে ১৭ কিলোমিটার উত্তর-পূর্বে অবস্থিত পারদিস শহরে ৪ থেকে ৯ মার্চ অনুষ্ঠিত হবে এশিয়ান নারী কাবাডি চ্যাম্পিয়নশিপ। এশিয়ার শ্রেষ্ঠত্বের লড়াইয়ে থাকছে বাংলাদেশও। ১৪ সদস্যের কন্টিনজেন্ট দেশকে প্রতিনিধিত্ব করবে। দলের কোচ কাম ম্যানেজারের দায়িত্ব পালন করবেন সুবিমল চন্দ্র দাস, কোচ হিসেবে থাকছেন শাহনাজ পারভীন মালেকা।

শ্রাবণী মল্লিক, বৃষ্টি বিশ্বাস, রুপালী সিনিয়র, স্মৃতি আক্তার, রেখা আক্তারী, মেবি চাকমা, রুপালী আক্তার, লাকী আক্তার, আঞ্জুয়ারা রাত্রি, তাহরিম, সুচরিতা চাকমা ও খাদিজা খাতুনকে নিয়ে গড়া হয়েছে বাংলাদেশ দল।

২০০৫ সালে শুরু হওয়া এশিয়ান নারী কাবাডি চ্যাম্পিয়নশিপের এটি হতে যাচ্ছে ষষ্ঠ আসর। গত পাঁচ আসরের মধ্যে ২০০৫ সালে অভিষেক আসরে ব্রোঞ্জ পদক জিতেছে বাংলাদেশ। এবার ইরানে আয়োজিত ষষ্ঠ আসরে পদকের প্রত্যাশা করা হচ্ছে। এ নিয়ে দলের কোচ শাহনাজ পারভীন মালেকা বলেন, ‘যদি বলি আমরা স্বর্ণ কিংবা রুপা জয়ের লক্ষ্য নিয়ে যাব—ওটা মোটেও বাস্তবসম্মত হবে না। বর্তমান অবস্থান বিবেচনায় ভারত ও ইরান আমাদের চেয়ে এগিয়ে আছে। এ বাস্তবতা মাথায় রেখেই খেলতে হবে। আমি বিশ্বাস করি ব্রোঞ্জ জয়ের ক্ষমতা বর্তমান দলটির রয়েছে। সে লক্ষ্য নিয়েই আমরা ইরান যাব।’

এশিয়ান চ্যাম্পিয়নশিপে ভারত শ্রেষ্ঠত্ব দেখিয়ে আসছে। এখন পর্যন্ত অনুষ্ঠিত পাঁচ আসরের মধ্যে চারবারই চ্যাম্পিয়ন হয়েছে ভারতের মেয়েরা। একবার শিরোপা জিতেছে দক্ষিণ কোরিয়া, যা ছিল চতুর্থ আসরে। সাত বছর বিরতি দিয়ে আবারো নারী কাবাডির এশিয়ান চ্যাম্পিয়নশিপ হচ্ছে তেহরানে। এবারের আসরে অংশ নেবে স্বাগতিক ইরান, ভারত, মালয়েশিয়া, থাইল্যান্ড, নেপাল, ইরাক ও বাংলাদেশ।

এশিয়ান চ্যাম্পিয়নশিপ সামনে রেখে ১০ জানুয়ারি থেকে ধানমন্ডির মহিলা ক্রীড়া কমপ্লেক্সের আবাসিক ক্যাম্পে অনুশীলন করছিল বাংলাদেশ নারী কাবাডি দল। প্রস্তুতির জন্য আরেকটু সময় পেলে ভালো হতো বলে মনে করছেন খেলোয়াড়রা। কাবাডি ফেডারেশনের নতুন কমিটিও বেশি দিন হয়নি দায়িত্বে এসেছে। তারা বলছেন, দ্রুততম সময়ে গুছিয়ে উঠতে সময় লেগেছে তাদের।

বাংলাদেশ ২০০৫ সালে প্রথম টুর্নামেন্টে ও ২০০৮ সালে তৃতীয় টুর্নামেন্টে খেলেছে। ২০০৭, ২০১৬ ও ২০১৭ সালে বাংলাদেশ অংশ নেয়নি।

২০০৫ সালে খেলোয়াড় হিসেবে ও ২০০৮ সালে অধিনায়ক হিসেবে এশিয়ান চ্যাম্পিয়নশিপ কাবাডিতে খেলেছেন মালেকা। এবার সহকারী কোচ হিসেবে যাচ্ছেন। তবে ম্যাচের সময় তিনিই মূল কোচ হিসেবে থাকবেন ডাগআউটে! ইরানের নিয়মে মেয়েদের খেলায় ছেলেরা থাকতে পারবেন না। ফলে বাংলাদেশ নারী দলের পুরুষ কোচ সুবিমল দাসকে বাইরেই থাকতে হবে।