২০২৫ সালের ইন্ডিয়ান প্রিমিয়ার লিগের (আইপিএল) নিলামের জন্য নিবন্ধন করেছেন ১ হাজার ৫৭৪ জন ক্রিকেটার। এর মধ্যে আয়োজক দেশ ভারতেরই ১ হাজার ১৬৫ জন! বাকিরা বিদেশী ক্রিকেটার। ভারত ছাড়াও ১৬টি দেশের ক্রিকেটাররা এবারের আইপিএলে দল পেতে আগ্রহ দেখিয়েছেন। বাংলাদেশের ১৩ ক্রিকেটার আইপিএল নিলামে নাম নিবন্ধন করেছেন।
আইপিএলের নিলামে বাংলাদেশ থেকে নিবন্ধন করেছেন পেসার তাসকিন আহমেদ, ব্যাটার লিটন দাস, অলরাউন্ডার সাকিব আল হাসান, পেসার হাসান মাহমুদ, পেসার তানজিম হাসান সাকিব, পেসার নাহিদ রানা, পেসার শরীফুল ইসলাম, অলরাউন্ডার রিশাদ হোসেন, ব্যাটার তাওহীদ হৃদয়, পেসার শহীদুল ইসলাম, স্পিনার শেখ মেহেদী হাসান, মেহেদী হাসান মিরাজ ও পেসার মুস্তাফিজুর রহমান।
নিলামে ‘অচেনা’ শহীদুলের ভিত্তিমূল্য ৭৫ লাখ রুপি। গত মৌসুমে চেন্নাই সুপার কিংসের হয়ে খেলা মুস্তাফিজের ভিত্তিমূল্য ২ কোটি রুপি। এছাড়া মিরাজ, তাসকিন আর সাকিবের ভিত্তিমূল্য ১ কোটি রুপি। গত মৌসুমে বাংলাদেশ থেকে শুধু মুস্তাফিজ দল পান। তাকে ২ কোটি রুপিতে দলে টানে চেন্নাই। যদিও জাতীয় দলের প্রয়োজনে তিনি পুরো আইপিএল মৌসুমে খেলতে পারেননি। হয়তো এ কারণেই তাকে এবার ধরে রাখেনি দলটি।
এ ১৩ জনের মধ্যে আইপিএল খেলেছেন সাকিব, মুস্তাফিজ ও লিটন। বাকি ১০ জনের মধ্যে কারো আইপিএল অভিজ্ঞতা নেই। ২৯ বছর বয়সী ডানহাতি পেস বোলার শহীদুল বাংলাদেশের হয়ে একটি টি-টোয়েন্টি ম্যাচ খেলে ১টি উইকেট নিয়েছেন। ২০২১ সালে মিরপুরে পাকিস্তানের বিপক্ষে ম্যাচটি খেলেন তিনি। তিনি ছাড়া বাকি ১২ জন বর্তমানে কোনো না কোনো ফরম্যাটে বাংলাদেশের হয়ে খেলেছেন এবং তাদের বেশির ভাগই এখন জাতীয় দলের হয়ে আরব আমিরাতে আফগানিস্তানের বিপক্ষে ওয়ানডে সিরিজ খেলছেন।
আইপিএলের বাংলাদেশের হয়ে সবচেয়ে বেশি ম্যাচ খেলেছেন সাকিব। তিনি কলকাতা নাইট রাইডার্স ও সানরাইজার্স হায়দরাবাদের হয়ে ৭১ ম্যাচে নিয়েছেন ৬৩ উইকেট। এছাড়া মুস্তাফিজ চেন্নাই, সানরাইজার্স, দিল্লি, মুম্বাই ও রাজস্থানের হয়ে ৫৭ ম্যাচ খেলে নিয়েছেন ৬১ উইকেট।
সাকিব ও মুস্তাফিজ ছাড়া বাংলাদেশ থেকে আর যে ক’জন আইপিএলে দল পেয়েছেন, তাদের অভিজ্ঞতা মোটেও সুখকর নয়। ২০০৮ সালে ৫০ হাজার ডলারে বেঙ্গালুরুতে আব্দুর রাজ্জাক, ২০০৯ সালে ৭৫ হাজার ডলারে মুম্বাইয়ে মোহাম্মদ আশরাফুল, ২০০৯ সালে ৬ লাখ ডলারে কলকাতায় মাশরাফি বিন মর্তুজা ও ২০১২ সালে ৫০ হাজার ডলারে পুনেতে যোগ দিয়েছিলেন তামিম ইকবাল। এর মধ্যে প্রথম তিনজন মাত্র একটি করে ম্যাচ খেলার সুযোগ পান। আর তামিম দুই মৌসুম সাইড বেঞ্চেই বসে কাটান, কোনো ম্যাচে সুযোগ মেলেনি। লিটন ২০২৩ সালে কলকাতায় ডাক পেলেও মাত্র এক ম্যাচ খেলার সুযোগ পান। ২০২৫ সালের আইপিএলে বাংলাদেশ থেকে নতুন কেউ ডাক পান কিনা, এখন তা দেখার অপেক্ষা।
আইপিএলের প্রতিটি ফ্র্যাঞ্চাইজি সর্বোচ্চ ২৫ জন ক্রিকেটারের স্কোয়াড গড়তে পারবে। প্রতি দলের বাজেট ১২০ কোটি রুপি। খেলোয়াড় ধরে রাখার পর এখন যে টাকা জমা আছে তা দিয়েই খেলোয়াড় কিনে দল গোছাতে হবে। ১০টি দলে মোট ২৫০ জন ক্রিকেটার সুযোগ পাবেন। এর মধ্যে ১০টি ফ্র্যাঞ্চাইজি আগের স্কোয়াড থেকে ধরে রেখেছে ৪৬ জনকে। এখন নিলাম থেকে দলগুলো আর ২০৪ জন ক্রিকেটারকে কেনার সুযোগ পাবে। অথচ নিবন্ধন করেছেন ১ হাজার ৫৭৪ জন!
দক্ষিণ আফ্রিকা থেকে সর্বোচ্চ ৯১ জন নিলামের জন্য নাম নিবন্ধন করেছেন। এরপর অস্ট্রেলিয়ার ৭৬ জন, ইংল্যান্ডের ৫২, নিউজিল্যান্ডের ৩৯, ওয়েস্ট ইন্ডিজের ৩৩, আফগানিস্তান ও শ্রীলংকার সমান ২৯ জন করে, বাংলাদেশের ১৩, নেদারল্যান্ডসের ১২, যুক্তরাষ্ট্রের ১০, জিম্বাবুয়ের আট, কানাডার চার, স্কটল্যান্ডের দুই এবং আরব আমিরাত ও ইতালির একজন করে খেলোয়াড় রয়েছেন।
আইপিএলের ১৮তম আসর বসবে ২০২৫ সালের মার্চ থেকে মে মাসে। এ আসরের মেগা নিলাম নিয়ে দ্বিধায় ছিল ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ড (বিসিসিআই)। যদিও সৌদি আরবের রাজধানী রিয়াদ, বন্দরনগরী জেদ্দা, ইংল্যান্ডের লন্ডন, সংযুক্ত আরব আমিরাতের দুবাই ছাড়াও পছন্দের তালিকায় ছিল সিঙ্গাপুর। যদিও পরিশেষে সৌদি আরবের জেদ্দা শহরকে বেছে নেয় বিসিসিআই। এ শহরে ২৪ ও ২৫ নভেম্বর অনুষ্ঠিত হবে এবারের নিলাম। মধ্যপ্রাচ্যে কর্মকাণ্ড আরো প্রসারিত করা এবং ক্রিকেটকে ছড়িয়ে দেয়ার লক্ষ্য নিয়েই জেদ্দায় আইপিএল নিলাম করছে ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ড।
নিলাম সামনে রেখে ধরে রাখা খেলোয়াড়ের তালিকা জমা দিতে ফ্র্যাঞ্চাইজিগুলোকে গত ৩১ অক্টোবর পর্যন্ত সময় বেঁধে দিয়েছিল বিসিসিআই। ফ্র্যাঞ্চাইজিগুলো সঠিক সময়েই নাম জমা দিয়েছে। এখানে সবচেয়ে দামি হিসেবে হেনরিখ ক্লাসেনকে ধরে রেখেছে সানরাইজার্স হায়দরাবাদ। সব মিলিয়ে ১০টি ফ্র্যাঞ্চাইজি ধরে রেখেছে ৪৬ জন খেলোয়াড়কে। এখন নিলাম থেকে ২০৪ জন খেলোয়াড় কিনবে ১০টি ফ্র্যাঞ্চাইজি, যার মধ্যে বিদেশী ৭০ জন। এ ৭০ জনের মধ্যে বাংলাদেশের কেউ কি থাকছেন?
নিলামে আলো কাড়বেন ভারতের তারকা খেলোয়াড় ঋষভ পন্ত, লোকেশ রাহুল ও শ্রেয়াস আইয়ার। এ তিনজনই ছিলেন তিনটি ফ্র্যাঞ্চাইজির অধিনায়ক। ঋষভ ছিলেন দিল্লি ক্যাপিটালসের অধিনায়ক, লোকেশ নেতৃত্ব দেন লক্ষ্ণৌ সুপার জায়ান্টকে আর শ্রেয়াস তো কলকাতাকে চ্যাম্পিয়ন করেছেন। তাদের কাউকেই দলগুলো ধরে রাখেনি। এবার নিলামে তারা সর্বোচ্চ ২ কোটি ভিত্তিমূল্যের ক্যাটাগরিতে আছেন। এ ক্যাটাগরিতে আরো আছেন রবিচন্দ্র অশ্বিন, যুজবেন্দ্র চাহাল। দুজনই আগের মৌসুমে খেলেছেন রাজস্থান রয়্যালসে। ২০২৩ সালের ওয়ানডে বিশ্বকাপে অসাধারণ পারফর্ম করার পর চোটে পড়েন মোহাম্মদ শামি। দীর্ঘ সময় চোটে থাকায় তাকে ছেড়ে দিয়েছে গুজরাট টাইটান্স। তিনিও আছেন ২ কোটি রুপির ভিত্তিমূল্য ক্যাটাগরিতে। এছাড়া ভারতীয়দের মধ্যে খলিল আহমেদ, দীপক চাহার, ভেঙ্কটেশ আইয়ার, আবেশ খান, ইশান কিশান, মুখেশ কুমার, ভুবনেশ্বর কুমার, প্রসিদ্ধ কৃষ্ণ, টি নটরাজন, দেবদূত পাড়িক্কাল, ক্রুনাল পান্ডিয়া, হার্শাল প্যাটেল, অর্শদীপ সিং, ওয়াশিংটন সুন্দর, শারদূল ঠাকুর, মোহাম্মদ সিরাজ ও উমেশ যাদব আছেন ২ কোটি রুপির ক্যাটাগরিতে।
আগেরবারের নিলামে অবিক্রীত থাকা পৃথ্বি শ’ ও সরফরাজ খান এবার ৭৫ লাখ রুপির ক্যাটাগরিতে আছেন।
গত মৌসুমে আইপিএল রেকর্ড ২৪ কোটি ৫০ লাখ রুপিতে কলকাতায় খেলা অজি পেস বোলার মিচেল স্টার্ক এবার নিলামে থাকছেন ২ কোটি রুপির ক্যাটাগরিতে। দেখা যাক, এবার নিলামে তিনি কত কোটি রুপি পান। ইংলিশ পেসার জোফরা আর্চারও আছেন ২ কোটির ক্যাটাগরিতে। তিনি ২০২৩ সালে মুম্বাই ইন্ডিয়ান্সের হয়ে পাঁচ ম্যাচ খেললেও ২০২৪ আসরে ছিলেন অনুপস্থিত।
ইংলিশ কিংবদন্তি জেমস অ্যান্ডারসন ২০১৪ সালের পর কখনো টি-টোয়েন্টি খেলেনি এবং কখনো আইপিএলের অংশও ছিলেন না। তিনিও এবার আগ্রহ দেখিয়ে নাম নিবন্ধন করেছেন। জিমি আছেন ১ কোটি ২৫ লাখ রুপি ক্যাটাগরিতে। এ গ্রীষ্মেই আন্তর্জাতিক ক্রিকেট থেকে অবসর নেয়া ইংলিশ গ্রেট এখন ইংল্যান্ড দলের পেস বোলিং কোচের দায়িত্ব পেয়েছেন।
এ তালিকায় চমক হিসেবে আছেন ইতালির ২৪ বছর বয়সী পেস বোলার টমাস ডারকা। তিনি ব্রাম্পটনের হয়ে কানাডায় গ্লোবাল টি-টোয়েন্টি লিগে খেলেছেন এবং আরব আমিরাতে আসন্ন আইএলটি-টোয়েন্টি লিগের জন্য মুম্বাই ইন্ডিয়ান্স এমিরেটস দলে জায়গা পেয়েছেন।










