গায়ানায় টানা দুই জয়ে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে ওয়ানডে সিরিজের ট্রফি নিশ্চিত করে ফেলেছে বাংলাদেশ। এটা বাংলাদেশের টানা পঞ্চম আর বিদেশের মাটিতে অষ্টম ওয়ানডে সিরিজ জয়। প্রভিডেন্স স্টেডিয়ামে গতকাল রাতে অনুষ্ঠিত হয় সিরিজের তৃতীয় ও শেষ ম্যাচ। এটি জিতলে ক্যারিবিয়ানদের বিপক্ষে টানা ১১ ম্যাচে অপরাজিত থাকবে বাংলাদেশ। আর হারলেও সিরিজ জয়ের গৌরব থাকছেই।
গত মার্চে দক্ষিণ আফ্রিকার মাটিতে প্রথমবারের মতো ওয়ানডে ম্যাচ জয়ের পর ২-১-এ সিরিজও জিতে নেয় বাংলাদেশ। এবার ওয়েস্ট ইন্ডিজে তামিমরা পেলেন আরেকটি সিরিজ জয়ের স্বাদ, যা বিদেশে অষ্টম সাফল্য।
অতিথিরা প্রথম ম্যাচে ছয় উইকেটে ও দ্বিতীয়টিতে নয় উইকেটের জয় তুলে নেয়। এক ম্যাচ হাতে রেখেই আসে সিরিজ জয়ের আনন্দ। এটা বাংলাদেশ দলের টানা পঞ্চম ওয়ানডে সিরিজ জয়ের সাফল্য। এর আগে দক্ষিণ আফ্রিকা, আফগানিস্তান, জিম্বাবুয়ে ও শ্রীলংকার বিপক্ষে ওয়ানডে সিরিজ জয় করে তামিম ইকবালের দল।
২০০৬ সালে কেনিয়ার মাঠে প্রথম ওয়ানডে সিরিজ জয় করে বাংলাদেশ। এরপর জিম্বাবুয়ের মাঠে তিনবার, দক্ষিণ আফ্রিকার মাঠে একবার ও ওয়েস্ট ইন্ডিজের মাঠে এ নিয়ে তিনবার ওয়ানডে সিরিজ জয়ের কৃতিত্ব দেখাল টাইগাররা।
দারুণ প্রত্যাবর্তন বাংলাদেশ দলের। এবারের ওয়েস্ট ইন্ডিজ সফরে ২-০ ব্যবধানে টেস্ট সিরিজ ও একই ব্যবধানে টি২০ সিরিজ হেরেছে বাংলাদেশ। দলটি যখন প্রচণ্ড সমালোচনার বানে বিদ্ধ হলো তখনই ওয়ানডে দল সমর্থকদের আনন্দে ভাসিয়ে দেশকে সিরিজ জয়ের গৌরব এনে দিল।
এবারের সিরিজ জয়ের সিংহভাগ কৃতিত্ব বোলারদের। তাদের গড়ে দেয়া ভিতের ওপর দাঁড়িয়েই দলকে জিতিয়েছেন ব্যাটাররা। প্রথম ওয়ানডেতে ৪১ ওভারের লড়াইয়ে ডানহাতি অফ স্পািনার মেহেদী হাসান মিরাজ (৩/৩৬) ও তরুণ পেসার শরিফুল ইসলামের (৪/৩৪) অনবদ্য বোলিংয়ে ভর করে স্বাগতিকদের ১৪৯ রানের বেশি করতে দেয়নি বাংলাদেশ। ওই ম্যাচে এসেছে ৬ উইকেটের জয়। দ্বিতীয় ওয়ানডেতে নিকোলাস পুরানের দলকে মাত্র ১০৮ রানে অলআউট করে টাইগাররা। এবার নায়ক বামহাতি অর্থোডক্স স্পিনার নাসুম আহমেদ। ১৯ রানে তিন উইকেট তুলে নেন তিনি।
উল্লেখ্য, টি২০ স্পেশালিস্ট নাসুম এই প্রথম ওয়ানডে উইকেট পেলেন, তাও এক ম্যাচে তিনটি। এই ম্যাচে মিরাজ নেন ২৯ রানে চারটি উইকেট। এবার বাংলাদেশের জয়টা আরো বড়—৯ উইকেটের। মাত্র ২০.৪ ওভারের মধ্যেই জয় তুলে নেয় অতিথিরা।
মিরাজ প্রথম দুই ম্যাচে সাতটি উইকেট নিয়ে বোলিং ব্রিগেডের নেতৃত্ব দেন, আর শরিফুল পাঁচটি ও নাসুম তিনটি উইকেট দিয়ে দারুণ অবদান রাখেন। তাসকিন আহমেদ, মুস্তাফিজুর রহমান ও মোসাদ্দেক হোসেনও বল হাতে দারুণ কার্যকর ছিলেন।
বোলারদের নৈপুণ্যের কারণে ওয়ানডে সিরিজ জয়ের পথে তেমন কোনো চ্যালেঞ্জের মুখে পড়তে হয়নি বাংলাদেশ ব্যাটারদের। বোলাররাই ব্যাটারদের কাজটা সহজ করে দিচ্ছেন। ১৫০ ও ১০৯ রানের দুটি সহজ টার্গেট ছুঁয়ে ফেলতে সামনে থেকে নেতৃত্ব দেন তামিম ইকবাল। তিনি দুই ম্যাচে করেন ৮৩ রান। এছাড়া নাজমুল হোসেন শান্ত ৫৭ ও মাহমুদউল্লাহ ৪১ রান করেন।
নিয়মিত একাদশের তিন খেলোয়াড়কে ছাড়াই এবার সিরিজ জিতল বাংলাদেশ। শীর্ষ অলরাউন্ডার সাকিব আল হাসান, কৃতী ব্যাটার মুশফিকুর রহিম ও ব্যাটার ইয়াসির আলী নেই এ সিরিজে। সাকিব ও মুশফিক ব্যক্তিগত কারণে আর ইয়াসির পিঠের চোটের কারণে সিরিজে খেলছেন না। তবে তাদের অভাব দলকে বুঝতেই দেননি বাকিরা।
জ্যেষ্ঠ খেলোয়াড়দের অনুপস্থিতি নিয়ে তামিম বলেছেন, সেরা একাদশের তিন খেলোয়াড় না থাকায় আত্মবিশ্বাসে ধাক্কা লেগেছিল। কিন্তু ছেলেরা তাদের অভাব বুঝতে দেয়নি। প্রত্যেকেই জয়ের জন্য ক্ষুধার্ত ছিল। টি২০ সিরিজেও হারের পর আমরা এই সফর থেকে ন্যূনতম কিছু নিয়ে ফিরতে চেয়েছিলাম। আমি মনে করি, খেলোয়াড়দের আকাঙ্ক্ষার কারণেই এ ফল আমরা পেয়েছি।
তিনি আরো বলেন, আমাদের জন্য প্রতিটি জয়ই স্পেশাল, তা অস্ট্রেলিয়া, ইংল্যান্ড, নিউজিল্যান্ড কিংবা জিম্বাবুয়ে হোক না কেন। সেঞ্চুরি কিংবা পাঁচ উইকেট নিতে হলে আমাদের কঠোর পরিশ্রম করতে হবে। এ জয় আমাদের উদযাপন করা উচিত, এ পর্যায়ে কেউই আপনাকে কিছু উপহার দিয়ে দেবে না। আপনাকে সবকিছুর জন্যই লড়াই করতে হবে।
ওয়ানডেতে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে বাংলাদেশ দলের এ সাফল্য হঠাৎ করেই আসেনি। ২০১৮ সালের ডিসেম্বরের পর ৫০ ওভারের সংস্করণে বাংলাদেশকে হারাতে পারেনি মেরুন রঙা জার্সিধারীরা। আর গতকাল পর্যন্ত এ বছর ১৪ ওয়ানডে খেলে ১০টিতেই হেরেছে দুইবারের সাবেক বিশ্ব চ্যাম্পিয়নরা। আর নিজেদের সর্বশেষ পাঁচ ওয়ানডেতেই পেয়েছে হারের স্বাদ।
গতকালের আগ পর্যন্ত এ সংস্করণে ৪৩ বারের মোকাবেলায় বাংলাদেশ ২০টি আর ওয়েস্ট ইন্ডিজ ২১টিতে জিতেছে। টেস্ট খেলুড়ে দলগুলোর মধ্যে ক্যারিবিয়ানদের বিপক্ষে জয়ের হার (৪৮.৭৮%) সবচেয়ে ভালো বাংলাদেশের। গতকাল তামিমদের সামনে ছিল ২১-২১ করার হাতছানি।










