মুলতানে প্রথম টেস্টের প্রথম ইনিংসে ৫৫৬ রানের সৌধ গড়েও শেষ পর্যন্ত ইনিংস ব্যবধানে পরাজিত হয়ে লজ্জার এক ইতিহাস গড়ে পাকিস্তান। সেই হারে বড় পরিবর্তন আসে পাকিস্তান স্কোয়াডে। পেস তারকা শাহিন শাহ আফ্রিদি ও নাসিম শাহকে বাদ দিয়ে ডাকা হয় ৩৮ বছর বয়সী বামহাতি অর্থোডক্স স্পিনার নোমান আলী ও ৩১ বছর বয়সী অফ স্পিনার সাজিদ খানকে। এ দুজন যেন হ্যামিলিনের বাঁশিওয়ালা। নাটকীয়ভাবেই ঘুরিয়ে দিলেন সিরিজের মোড়। শেষ দুই টেস্টে ইংল্যান্ডের ৪০ উইকেটের মধ্যে ৩৯টি শিকার করে তারাই পাকিস্তানকে সিরিজ জয়ের গৌরব এনে দিলেন।
মুলতানে দ্বিতীয় টেস্টে ইংল্যান্ডের ২০ উইকেট শিকার করে রেকর্ড গড়েন সাজিদ খান ও নোমান আলী। দুজন আরেকবার ইনিংসে নিলেন ১০ উইকেট। গতকাল রাওয়ালপিন্ডি টেস্টের তৃতীয় দিন ইংল্যান্ডকে ১১২ রানে অলআউট করে দিয়েছেন দুজন। নোমান ৬টি ও সাজিদ ৪টি উইকেট নেন। দুই স্পিনারের কর্তৃত্বেই পাকিস্তান পায় মাত্র ৩৬ রানের জয়ের লক্ষ্য। ১ উইকেট হারিয়ে মাত্র ১৯ বলে এই রান তুলে সিরিজ জয় নিশ্চিত করেছে স্বাগতিক দলটি।
এর আগে প্রথম ইনিংসে সাজিদ ৬টি ও নোমান ৩টি উইকেট নিয়ে ইংল্যান্ডকে ২৬৭ রানে অলআউট করেন। জবাবে পাকিস্তান প্রথম ইনিংসে ৩৪৪ রান তুলে লিড নেয়। সেঞ্চুরি করেন সৌদ শাকিল।
রাওয়ালপিন্ডির এই জয়ে ২-১-এ সিরিজ জিতে নিল পাকিস্তান। এর আগে বাংলাদেশের কাছে ২-০তে হোম সিরিজ হেরেছে শান মাসুদের দল। এবার তারা হারাল ক্রিকেটের অন্যতম শক্তিশালী দল ইংল্যান্ডকে। ২০২১ সালের পর এই প্রথম হোম সিরিজ জিতল পাকিস্তান।
সিরিজে নোমান ২০টি ও সাজিদ ১৯টি উইকেট নেন। দুই স্পিনারের পাশাপাশি এই জয়ে বড় অবদান ব্যাটার সৌদ শাকিলের। প্রথম ইনিংসে ইংল্যান্ডের ২৬৭ রানের জবাবে ১৭৭ রানে ৭ উইকেট হারিয়ে বসে পাকিস্তান। সেখান থেকে টেল-এন্ড নিয়ে লড়াই করে স্বাগতিকদের ৭৭ রানের লিড এনে দেন শাকিল। ৯৬.৪ ওভারে ৩৪৪ রানে অলআউট হয় পাকিস্তান। শাকিল অষ্টম উইকেটে নোমানকে নিয়ে ১৫১ বলে ৮৮ রান যোগ করেন। এরপর সাজিদকে নিয়ে ৭২ রানের আরেকটি দুর্দান্ত পার্টনারশিপ গড়ে দলের লিড নিশ্চিত করেন। তিনি ২২৩ বলে ৫ বাউন্ডারিতে ১৩৪ রানের ইনিংস খেলেন। সাজিদ ৪৮ বলে ৪৮ ও নোমান ৮৪ বলে ৪৫ রান করে মূল্যবান অবদান রাখেন। দুর্দান্ত এই ব্যাটিংয়ের জন্যই ম্যাচসেরার পুরস্কার জিতেছেন শাকিল।
শান মাসুদের বুকের ওপর থেকে যেন পাথর নেমে গেল। জয় শেষে তিনি বলেন, ‘লম্বা সময় পরে পেলাম প্রথম জয়, এরপর সিরিজ জয়। সতীর্থরা যে যার জায়গা থেকে সর্বোচ্চ চেষ্টা করেছে দলকে জেতাতে। এই জয় স্পেশাল। জয়টি আমরা উৎসর্গ করছি পাকিস্তানের মানুষকে, যারা শুরু থেকে আমাদের সঙ্গে ছিল। আশা করি এই জয় আমাদের সমর্থকদের মুখে হাসি ফেরাবে এবং আমরা সবসময় তাদের পাশে পাব।’
ইংল্যান্ড দলনায়ক বেন স্টোকস বলেছেন, ‘হতাশাজনক। গত দুই ম্যাচে আমরা কিছু চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হই, যা আমরা উতরাতে পারিনি। এই কৃতিত্ব পাকিস্তানের।’
দুই দলের কারোরই বিশ্রাম নেই। ইংলিশরা এখন ছুটবে ক্যারিবীয় দ্বীপদেশে। সেখানে ওয়েস্ট ইন্ডিজের সঙ্গে সীমিত ওভারের সিরিজ খেলবে তারা। এরপর টেস্ট সিরিজ খেলতে যাবে নিউজিল্যান্ড সফরে। পাকিস্তান যাবে অস্ট্রেলিয়া, জিম্বাবুয়ে ও দক্ষিণ আফ্রিকা সফরে। এরপর নতুন বছরে হোম সিরিজ খেলবে ওয়েস্ট ইন্ডিজের সঙ্গে।










