ডিয়েগো আর্মান্দো ম্যারাডোনা। ১৯৮২ থেকে ২০১৮, ফুটবল বিশ্ব দেখেছে আর্জেন্টাইন সোনালী বালকের দীপ্ত পদচারণা। কখনো নীল-সাদা জার্সিতে ইতিহাস লিখে আনন্দে ভাসিয়েছেন দেশবাসীকে, কখনো ইতিহাস ভাঙতে দেখে নিজেই চোখের জলে ভেসেছেন। খেলোয়াড়ি জীবনে আল্পনা এঁকেছেন সবুজ গালিচায়, কোচের চেয়ারে বসে ডাগ-আউট মাতিয়েছেন আবার সমর্থক হিসেবে স্ট্যান্ড থেকে চিৎকারে উজ্জীবিত করেছেন দেশের ছেলেদের। 

বেদুইনের দেশ কাতারে বসেছে এবারের সবচেয়ে ব্যয়বহুল ফুটবাল বিশ্বকাপ। কী নেই সেখানে, নেই শুধু ম্যারাডোনা। ফুটবলের সবচেয়ে উদযাপিত শিল্পীকে ছাড়াই প্রথমবার ফুটবল উৎসবে মেতেছে বিশ্ব। তার শূন্যতাকেই বোধহয় সবচেয়ে বেশি মিস করছে সবাই। তবে প্রাক্তনের অভাব সবচেয়ে বেশি ভোগাচ্ছে বর্তমানদের!  

১৯৮২ সালে শুরু হয়েছিল ম্যারাডোনার ‘স্বপ্ন সফর’। খেলোয়াড়, কোচ বা কেবলই সমর্থক। তিনি যেন ছিলেন লা আলবেসেলেস্তের অক্সিজেন। কিন্তু ২০২০ সালের ২৫ নভেম্বর, বাড়িতে চিকিৎসারত অবস্থাতেই প্রয়াত হন ফুটবল ঈশ্বর। তার শূন্যতাকেই বোধহয় সবচেয়ে বেশি মিস করছে বিশ্ব। 


ফিফা সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনো তাই বললেন, ‘ডিয়েগো অমর। তিনি এখনো আমাদের সঙ্গেই রয়েছেন। ফুটবলকে ভালোবাসতে শিখিয়েছেন ম্যারাডোনা।’ একই সঙ্গে ইনফান্তিনো ঘোষণা করেন, ‘এবার থেকে প্রতি বিশ্বকাপে একটি নির্দিষ্ট দিন সংরক্ষিত থাকবে। ফুটবলের সর্বোচ্চ মঞ্চে সেদিন ফুটবল নয়, উদযাপন করা হবে ম্যারাডোনাকে। 

কাতারের রাজধানী দোহায় ম্যারাডোনার একটি বিশাল ম্যুরাল আঁকা হয়েছে। ঘটনাচক্রে তার কয়েক কিলোমিটার দূরেই লুসাইল স্টেডিয়ামে ধাক্কা খায় নীল-সাদা জার্সিধারীরা। সৌদি আরবের কাছে ২-১ গোলে হেরে মেসিদের ট্রফি জয়ের স্বপ্ন খানিকটা নড়ে গিয়েছে। 

আজ মধ্যরাতে ওই স্টেডিয়ামেই ফের নামবেন মেসিরা। যে মেক্সিকোতে গিয়ে আর্জেন্টিনার ঝাণ্ডা উড়িয়েছিলেন ম্যারাডোনা, মরণবাঁচন ম্যাচে সেই মেক্সিকোর বিরুদ্ধেই নামবেন তার উত্তরসূরিরা। ম্যারাডোনাহীন বিশ্বকাপে আর্জেন্টাইনদের গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচে ডিয়েগোর অনুপ্রেরণাতেই কি বিশ্বকাপের দৌড়ে ফিরবেন মেসিরা?