বিশ্বকাপের প্রথম ম্যাচ ব্রাজিলের জয় দিয়ে শুরু হলেও নেইমারের ইনজুরি ছিল অপ্রত্যাশিত। তারকা খেলোয়াড় নেইমার জুনিয়রের ডান পায়ের চোট লাগায় গ্রুপ পর্বের বাকি দুটি ম্যাচে তাকে পাবে না তিতের দল। এমনো হতে পারে অ্যাঙ্কেলের ইনজুরিতে নেইমারকে এ বিশ্বকাপে আর দেখা যাবে না। দলের মেডিকেল দল নেইমারের ইনজুরির কথা নিশ্চিত করেছেন। এরপর সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে একটি আবেগী বার্তা দেন নেইমার। 

নেইমার ফেসবুকে লিখেছেন, ব্রাজিলের জার্সি পরে আমি যে গর্ব ও ভালোবাসা অনুভব করি তা বর্ণনাতীত। ঈশ্বর যদি আমাকে জন্মের জন্য একটি দেশ বেছে নেয়ার সুযোগ দেন, তা হবে ব্রাজিল। আমার জীবনে কোনো কিছুই সহজ ছিল না। আমাকে সবসময় আমার স্বপ্ন ও লক্ষ্য পূরণে ছুটতে হয়েছে। কখনো কারো ক্ষতি কামনা করিনি বরং সাহায্য করেছি।

তিনি আরো বলেছেন, বিশ্বকাপে আজ আমার ক্যারিয়ারের সবচেয়ে কঠিন মুহূর্তে পড়েছি। আমি ইনজুরিতে পড়েছি। হ্যাঁ, এটা বিরক্তিকর, এটি কষ্ট দেয়। তবে আমি নিশ্চিত যে আমি ফিরে আসার সুযোগ পাব। কারণ আমি আমার দেশ এবং আমার সতীর্থদের সাহায্য করার জন্য যথাসাধ্য চেষ্টা করব। 

নেইমার গ্রুপ পর্ব থেকে ছিটকে যাওয়ায় তার জায়গায় রিয়াল মাদ্রিদ ফরোয়ার্ড রদ্রিগোকে কাজে লাগাতে পারেন তিতে। সার্বিয়ার বিপক্ষে ২-০ গোলের জয়ী ম্যাচে বদলি হিসেবে খেলেছিলেন তিনি। যদিও গোল-অ্যাসিস্টে কোনো অবদান রাখতে পারেননি তিনি। রদ্রিগোকে না খেলালে সার্বিয়ার বিপক্ষে আক্রমণভাগের ডানপ্রান্তে খেলা রাফিনহাকে দেখা যেতে পারে। সে ক্ষেত্রে আক্রমণভাগের ডানপ্রান্তে খেলতে পারেন অ্যান্তোনি। 

সার্বিয়ার সঙ্গে ম্যাচে গোড়ালির চোটে পড়েন নেইমার। দল ২-০ গোলে জিতলেও বেঞ্চে বসে কেঁদেছেন তিনি। কারণ চোটের কাছে হার মানার ভয় পেয়ে বসে তাকে। ২০১৪ সালে ঘরের মাটিতে কলম্বিয়ার বিপক্ষে পিঠের মারাত্মক চোটে পড়ে ছিটকে গিয়েছিলেন তরুণ নেইমার। তার দল পরে সেমিফাইনালে জার্মানির কাছে ১-৭ গোলের বড় ব্যবধানে পরাজিত হয়।

নেইমারকে নিয়ে আশাবাদী ব্রাজিল কোচ তিতে। ম্যাচ শেষে তিনি বলেন, আপনি নিশ্চিত থাকতে পারেন যে নেইমার এ বিশ্বকাপে খেলছে। আমি এ নিয়ে নিশ্চিত।

আগামী সোমবার সুইজারল্যান্ডের বিপক্ষে নিজেদের পরের ম্যাচ খেলবে ব্রাজিল। পাঁচবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়নরা ২ ডিসেম্বর শেষ ম্যাচ খেলবে ক্যামেরুনের বিপক্ষে। প্রথম ম্যাচে ক্যামেরুনের বিপক্ষে জিতেছে সুইজারল্যান্ড, ব্রাজিল হারিয়েছে সার্বিয়াকে।

চোটের দীর্ঘ লড়াই রয়েছে নেইমারের। ২০১৪ বিশ্বকাপে স্ট্রেচারে করে মাঠের বাইরে নিতে হয়েছিল তাকে। ২০১৮ বিশ্বকাপ থেকে তিনি পায়ের পাতার চোটে পড়েন এবং একাধিকবার অস্ত্রোপচার করাতে হয়। গোড়ালির চোটে তার খেলা হয়নি ২০১৯ সালের বিশ্বকাপে, যাতে ব্রাজিল শিরোপা জয় করে।

ব্রাজিলের হয়ে এখনো বড় কোনো শিরোপা জিততে পারেননি নেইমার। ২০১৩ সালে কনফেডারেশন্স কাপ ও ২০১৬ সালে অলিম্পিক পদক জয়ে তিনি ব্রাজিলকে সাহায্য করেন। কাতারেই শেষ বিশ্বকাপ খেলছেন তিনি। তাই বিশ্বকাপ জয়ের এটাই শেষ সুযোগ তার।