উইমেন্স ইউরোপিয়ান চ্যাম্পিয়নশিপের ফাইনাল আজ। ওয়েম্বলি স্টেডিয়ামে মহারণে নামছে স্বাগতিক ইংল্যান্ড ও আটবারের চ্যাম্পিয়ন জার্মানি। বাংলাদেশ সময় রাত ১০টায় খেলাটি শুরু হবে। সনি টেন-২ খেলাটি সরাসরি সম্প্রচার করবে।
ফুটবলে বিধ্বংসী এক দলের নাম জার্মানি। সেটি পুরুষ কিংবা নারী উভয় দলের ক্ষেত্রেই। যারা নির্দয়, গোল উৎসব করে প্রতিপক্ষকে ভাসাতে পছন্দ করে। এটি ইংল্যান্ডের চেয়ে ভালো কেই-বা জানে। ২০০৯ সালের ইউরোর ফাইনালে ফিনল্যান্ডের অলিম্পিক স্টেডিয়ামে ইংলিশদের ৬-২ গোলে বিধ্বস্ত করেছিল জার্মানরা। এক যুগ পর আবারো ওই দলটির বিপক্ষেই ফাইনালে মুখোমুখি হচ্ছে ইংল্যান্ড। আগের হিসাব যাই হোক, শক্তি-সামর্থ্যে এবারের ইংল্যান্ড দলটি অন্য সময়ের চেয়ে অনেক শক্তিশালী।
ইউরোয় জার্মান নারীদের ভয়ংকর আধিপত্য। ১৯৮৪ সালে শুরু হয় ইউরোপ-সেরার এ প্রতিযোগিতা। এ পর্যন্ত ১২ আসরের মধ্যে আটবারই শিরোপা জিতেছে জার্মানরা! চোখ কপালে ওঠার বিষয় হলো ফাইনালে উঠে কখনো হারেনি তারা। অন্যদিকে ইংল্যান্ড ১৯৮৪ ও ২০০৯ সালে ফাইনাল খেলে দুবারই শিরোপাবঞ্চিত হয়েছে।
এবারো জার্মানরা অপ্রতিরোধ্য। কোনো ম্যাচ না হেরে উঠেছে ফাইনালে। পুরো প্রতিযোগিতায় এখন পর্যন্ত হজম করেছে মাত্র একটি গোল। বিপরীতে পাঁচ ম্যাচে প্রতিপক্ষের জালে পাঠিয়েছে ১৩ গোল। এর মধ্যে ছয়টি গোলই করেছেন অধিনায়ক আলেকসান্দ্রা পপ। ভল্ফসবুর্গের এ ফরোয়ার্ড জ্বলে উঠলে ইংলিশদের দুঃখের কারণ হতে পারেন। আসরের শুরু থেকে টানা পাঁচ ম্যাচেই গোল পেয়েছেন পপ। সেমিফাইনালে শক্তিশালী ফ্রান্সকে ২-১ গোলে হারানোর ম্যাচে জোড়া গোল করেন তিনি।
এবারের আয়োজক ইংল্যান্ডও অনবদ্য খেলে যাচ্ছে। পাঁচ ম্যাচে প্রতিপক্ষের জালে ২০ বার বল পাঠিয়েছে তারা, যা চলতি আসরে সর্বোচ্চ। গ্রুপ পর্বে নরওয়েকে ৮-০ গোলে, উত্তর আয়ারল্যান্ডকে ৫-০ গোলে ও সেমিফাইনালে সুইডেনকে ৪-০ গোলে উড়িয়ে দেয় তারা। বিপরীতে হজম করেছে মাত্র একটি গোল।
ঘরের মাঠে শিরোপার অন্যতম দাবিদার ইংলিশ নারীরা। ছয় গোল করে আলেকসান্দ্রা পপের সঙ্গে গোল্ডেন বুটের লড়াইয়ে আছেন ইংল্যান্ডের বেথ মিডও। বরং গোলের সঙ্গে পাঁচটি অ্যাসিস্ট করে পপের চেয়ে কিছুটা এগিয়ে আছেন আর্সেনাল ফরোয়ার্ড। তার সতীর্থ অ্যালেসিয়া রুশোও আছেন দারুণ ফর্মে। ম্যানইউ মিডফিল্ডার ৪ গোলের পাশাপাশি একটি অ্যাসিস্ট করেছেন।
কৌশলের লড়াই হবে ডাগআউটে দাঁড়ানো দুই কোচ মার্টিনা ভস-টেকলেনবার্গ ও সারিনা উইম্যানের মধ্যেও। তারাও আভাস দিয়েছেন কঠিন লড়াইয়ের। জার্মানি কোচ ভস-টেকলেনবার্গ বলেছেন, এটি একটি উপভোগ্য ফাইনাল হবে। আমরা ওয়েম্বলিতে ৮০ থেকে ৯০ হাজার দর্শকের সামনে খেলব, যারা আমাদের বিপক্ষে থাকবে। আমরা এটি বুঝতে পেরেছি এবং সেভাবেই চ্যালেঞ্জটি গ্রহণ করেছি। ইংল্যান্ড এ টুর্নামেন্টে প্রতিটি খেলায় অবিশ্বাস্য খেলেছে এবং তারা খুবই আত্মবিশ্বাসী। এটি একটি দুর্দান্ত ফুটবল উৎসব হবে।
ইংল্যান্ডের কোচ সারিনা উইম্যান বলেছেন, আমরা সব সময় বলেছি, জাতিকে অনুপ্রাণিত করতে চাই।









