অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে টি২০ বিশ্বকাপ আসন্ন। একে সামনে রেখে ডমিনিকার উইন্ডসর পার্কে গতকাল রাতেই শুরু হয়ে গেছে বাংলাদেশ ও ওয়েস্ট ইন্ডিজের মধ্যকার তিন ম্যাচের টি২০ সিরিজ। সিরিজের প্রথম দুটি টি২০ এই মাঠেই। আজ একই সময় সিরিজের দ্বিতীয় ম্যাচ। এটা ছিল আন্তর্জাতিক টি২০ ক্রিকেটে বাংলাদেশের ১২৬তম ম্যাচ। এর আগের ১২৫ ম্যাচে টাইগারদের হারের পাল্লাটাই ভারী। ৪৪ জয়ের বিপরীতে হার ৭৯টি।
২০০১ সালে টেস্ট আঙিনায় পা রাখা বাংলাদেশ সেই অর্থে পাঁচদিনের ক্রিকেটে কখনই নিজেদের শক্তির জানান দিতে পারেনি। সাদা পোশাকের ক্রিকেটে ১৩৪ টেস্টে জয় মাত্র ১৬টিতে, জয়ের হার ১১.৯৪ শতাংশ। ওয়ানডেতে বাংলাদেশের জয়ের হার ৩৬.১৭%। ৩৯৪ ম্যাচ খেলে ১৪০টি জিতেছে টাইগাররা।
বিবর্ণ সংক্ষিপ্ত ফরম্যাটের রেকর্ডও। এখানে বাংলাদেশের জয়ের শতকরা হার ৩৫.৭৭। অথচ ভারত (৬৬.১৪), পাকিস্তান
(৬৪.০৫), অস্ট্রেলিয়া
(৫৪.৪), নিউজিল্যান্ড
(৫২.৫৬), দক্ষিণ
আফ্রিকা (৫৮.৩৩) ও ইংল্যান্ডের (৫৪.৫৪) মতো দলগুলোর প্রত্যেকেরই জয়ের হার পঞ্চাশের ওপরে। এমনকি অপেক্ষাকৃত নবীন দল আফগানিস্তানের জয়ের হারও ঈর্ষণীয় (৬৮.৬১%), যা
বাংলাদেশের প্রায় দ্বিগুণ। আফগানরা ৯৪টি টি২০ ম্যাচ খেলে ৬৪টিতে জিতেছে, হার ২৯টি।
সর্বোচ্চ আন্তর্জাতিক টি২০ ম্যাচ খেলেছে পাকিস্তান। ১৯০ ম্যাচ খেলে ১১৭টিতে জিতেছে তারা, হার ৬৫টি। সাবেক বিশ্ব চ্যাম্পিয়নদের জয়ের হার ৬৪.০৫।
চলমান এ সিরিজের আগে টি২০ ক্রিকেটে ওয়েস্ট ইন্ডিজের সঙ্গে ১৩টি ম্যাচ খেলে ৫টি জিতেছে বাংলাদেশ, হেরেছে ৭টিতে। তবে সর্বশেষ ২০১৮ সালের ওয়েস্ট ইন্ডিজ সফরে ২-১-এ টি২০ সিরিজ জয়ের কৃতিত্ব দেখায় বাংলাদেশ। সেবার সেন্ট কিটসে ওয়েস্ট ইন্ডিজ জিতলেও যুক্তরাষ্ট্রের লডারহিলে পরপর দুই ম্যাচ জিতে সিরিজ জয় নিশ্চিত করে বাংলাদেশ।
এবার ওয়েস্ট ইন্ডিজের মাঠে টি২০ সিরিজ খেলতে নামার আগে মাহমুদউল্লাহর দলকে নিশ্চিতভাবেই প্রেরণা দিচ্ছে ২০১৮ সালের সেই সিরিজ জয়। যদিও সীমিত ওভারের সিরিজ শুরুর আগে টেস্টে বাজেভাবে হেরেছে সাকিব আল হাসানের নেতৃত্বাধীন দল।
পাঁচ বছর পর আন্তর্জাতিক ক্রিকেট ফিরছে উইন্ডসর পার্কে। এখানে সর্বশেষ ২০১৭ সালে উত্তেজনাপূর্ণ টেস্টে ওয়েস্ট ইন্ডিজকে ১০১ রানে হারিয়েছিল পাকিস্তান। এরপর ২০১৭ সালে ঘূর্ণিঝড়ে লণ্ডভণ্ড হয় ডমিনিকা আর উইন্ডসর পার্ক। এরপর কভিড-১৯ মহামারী এখানে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট আয়োজন আরেক ধাপ পিছিয়ে দেয়। অবশেষে অপেক্ষা ঘুচল। এই মাঠে ওয়েস্ট ইন্ডিজ ও বাংলাদেশের দুটি টি২০ ম্যাচ রাখা হয়েছে।
এর আগে এই মাঠে তিন ফরম্যাট মিলিয়ে মোট ১১টি আন্তর্জাতিক ম্যাচ অনুষ্ঠিত হয়েছে। এখানে ২০০৯ সালে ওয়েস্ট ইন্ডিজকে দুটি ওয়ানডেতে হারানোর কৃতিত্ব দেখায় বাংলাদেশ। একটিতে স্পিনার আব্দুর রাজ্জাক ও আরেকটিতে অধিনায়ক সাকিব আল হাসান ম্যাচসেরা হয়েছিলেন। বলাবাহুল্য, ওই দুটি ওয়ানডে ছাড়া উইন্ডসর পার্কে আর কোনো ম্যাচ খেলা হয়নি বাংলাদেশ দলের। ১৩ বছর পর আবার এই মাঠে খেলতে নামল টাইগাররা। দেখা যাক, ২০০৯ সালের সাফল্যের পুনরাবৃত্তি ঘটাতে পারেন কিনা মাহমুদউল্লাহরা।
অস্ট্রেলিয়া, শ্রীলংকা, নিউজিল্যান্ড, ভারত ও পাকিস্তানের মতো বড় দলকে টি২০তে পরাজিত করতে পারলেও এখনো ইংল্যান্ড ও দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে জয় আসেনি। দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে ৭ ম্যাচে জয়হীন বাংলাদেশ। আর ইংল্যান্ডের বিপক্ষে টাইগাররা খেলেছে মাত্র একটি ম্যাচ। ভারতের বিপক্ষে সংক্ষিপ্ত ফরম্যাটে খুব ভালো করতে পারেনি বাংলাদেশ। ১১ ম্যাচের মধ্যে টাইগারদের জয় মাত্র একটিতে, হার ১০টি।
এছাড়া পাকিস্তানের সঙ্গে ১৫ ম্যাচে দুটি, শ্রীলংকার সঙ্গে ১২ ম্যাচে চারটি, নিউজিল্যান্ডের সঙ্গে ১৫ ম্যাচে তিনটি, অস্ট্রেলিয়ার সঙ্গে ১০ ম্যাচে চারটি জয় পেয়েছে বাংলাদেশ। জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে সর্বোচ্চ ১৬টি টি২০ ম্যাচ খেলেছে বাংলাদেশ, জয় এসেছে ১১টি, যা শতকরা ৬৮.৭৫ শতাংশ।










