এ রেসে ওপরের সারিতে আছেন আর্জেন্টিনার অধিনায়ক লিওনেল মেসি, ফ্রান্সের অধিনায়ক কিলিয়ান এমবাপ্পে ও ওসমান দেম্বেলে, নরওয়ের আর্লিং হালান্ড ও ব্রাজিলের ভিনিসিয়ুস জুনিয়র।
গ্রুপ পর্ব শেষে ৬ গোল নিয়ে গোল্ডেন বুটের দাবি জোরালো করেছেন ৩৮ বছর বয়সী মেসি। চার গোল করেছেন মোট চারজন—এমবাপ্পে ও দেম্বেলে, হালান্ড ও ভিনিসিয়ুস জুনিয়র।
মেসি চলতি বিশ্বকাপে আলজেরিয়ার বিপক্ষে প্রথম ম্যাচেই করেন হ্যাটট্রিক। অস্ট্রিয়ার বিপক্ষে দ্বিতীয় ম্যাচ থেকে করেন জোড়া গোল। প্রথম দুই ম্যাচে তিনি করেন ৫ গোল। এ পথে তিনি রোনালদো নাজারিও, মিরোস্লাভ ক্লোসার মতো গ্রেটকে টপকে বিশ্বকাপে সর্বোচ্চ গোলদাতার আসনে বসেন। গতকাল জর্ডানের বিপক্ষে ফ্রি কিক থেকে করেন আরো একটি গোল। চলতি বিশ্বকাপে এটা তার ষষ্ঠ ও সব মিলিয়ে বিশ্বকাপে ১৯তম গোল।
মেসির পারফরম্যান্সে উদ্দীপ্ত হয়েই কিনা এমবাপ্পে টানা দুই ম্যাচে জোড়া গোল করেন। তিনি মেসিকে চ্যালেঞ্জই ছুড়ে দেন। বিশ্বকাপ ইতিহাসে ১৬ গোল করে এমবাপ্পে টপকে যান রোনালদো নাজারিওকে, আর ছুঁয়ে ফেলেন ক্লোসাকে। যদিও তৃতীয় ম্যাচে নিষ্প্রভ ছিলেন ফ্রান্স অধিনায়ক। তিনি গোল না পেলেও নরওয়ের বিপক্ষে ফ্রান্সের হয়ে হ্যাটট্রিক করেন ওসমান দেম্বেলে। ফলে এমবাপ্পের সঙ্গে এবারের গোলের রেসে নাম লেখান বর্তমান ব্যালন ডি’অরজয়ী ওসমান দেম্বেলেও।
এ তিনজনের বাইরে আছেন হালান্ড ও ভিনিসিয়ুস। ইরাকের বিপক্ষে দুটি ও সেনেগালের বিপক্ষে দুটি গোল করেন ম্যানচেস্টার সিটির গোলমেশিন হালান্ড। টানা দুই জয়ে নকআউটের টিকিট পেয়ে যাওয়ায় নরওয়ের কোচ ফ্রান্সের বিপক্ষে শেষ ম্যাচে একাদশে আনেন নয়টি পরিবর্তন, বেঞ্চে বসিয়ে রাখেন হালান্ডকে। ফলে গোলসংখ্যা আর বাড়ানোর সুযোগ পাননি দীর্ঘদেহী এ স্ট্রাইকার।
ব্রাজিলের নকআউটে ওঠার কাজটা সহজ করে দেয়া ভিনিসিয়ুস করেছেন ৪ গোল। মরক্কোর সঙ্গে ১-১ গোলে ড্র করা প্রথম ম্যাচে ব্রাজিলের একমাত্র গোলদাতা ভিনিসিয়ুস। হাইতির বিপক্ষে করেন একটি গোল। স্কটল্যান্ডের বিপক্ষে শেষ ম্যাচে তিনি করেন জোড়া গোল। রিয়াল মাদ্রিদ সুপারস্টার ভালোভাবেই আছেন গোল্ডেন বুটের রেসে। তিন গোল করেছেন ব্রাজিলের ম্যাথিউস কুনিয়া, কানাডার জোনাথন ডেভিড, কঙ্গোর ইওহানে উইসা, ইংল্যান্ডের হ্যারি কেন, জার্মানির ডেনিজ উনদাভ, মরক্কোর ইসমায়েল সাইবারি, নেদারল্যান্ডসের ব্রায়ান ব্রবি, নিউজিল্যান্ডের এলিজাহ জাস্ট, সেনেগালের ইসমাইলা সার ও সুইজারল্যান্ডের ইয়োহান মানজাম্বি।
এছাড়া ২৩ জন করেছেন দুটি করে গোল এবং একটি গোল করেছেন মোট ১০৫ জন। আত্মঘাতী গোল হয়েছে মোট ১২টি। গ্রুপ পর্ব পর্যন্ত মোট ৭২ ম্যাচে ২১৫ গোল হয়েছে। প্রতি ম্যাচে গড়ে গোল হয়েছে ২.৯৯। গ্রুপ পর্বে সর্বোচ্চ ১০ গোল করেছে তিনটি দেশ—জার্মানি, ফ্রান্স ও নেদারল্যান্ডস। এছাড়া আর্জেন্টিনা, কানাডা, নরওয়ে, সেনেগাল ও যুক্তরাষ্ট্র করেছে আটটি করে গোল।
তিন ম্যাচ খেলে কোনো গোল করতে পারেনি পানামা। উত্তর আমেরিকান দেশটি ‘এল’ গ্রুপে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে ইংল্যান্ড, ক্রোয়েশিয়া ও ঘানার সঙ্গে।









