সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ বক্সারদের একজন তিনি। রিঙে আমেরিকান গ্রেট ফ্লয়েড মেওয়েদারসহ বহু নামী বক্সারকে হারিয়েছেন। কিন্তু রাজনীতির মাঠে অসহায় আত্মসমর্পণ করতে হলো তাকে। ফিলিপাইনের সদ্য প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে লড়াই করে হেরে গেছেন কিংবদন্তি বক্সার ম্যানি প্যাকিয়াও। ফিলিপাইনের ১৭তম প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হয়েছেন ফার্দিনান্দ মার্কোস জুনিয়র। যিনি দেশটির সাবেক স্বৈরশাসক ফার্দিনান্দ মার্কোসের ছেলে। আর সদ্য বিদায়ী প্রেসিডেন্ট রদ্রিগো দুতার্তের মেয়ে সারা দুতার্তে ভাইস প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হয়েছেন।

 

প্রেসিডেন্ট পদে লড়াই করেন ১০ জন। মার্কোসের প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী ছিলেন সাবেক ভাইস প্রেসিডেন্ট ও স্বতন্ত্র প্রার্থী লেনি লবরেদো।

নতুন প্রেসিডেন্টকে অভিনন্দন জানিয়েছেন প্যাকিয়াও। তিনি আশা করছেন, গরিব-দুঃখীর পাশে থাকবেন মার্কোস জুনিয়র। আজ বুধবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এক ভিডিও বার্তায় প্যাকিয়াও বলেছেন, আমি পরাজয় মেনে নিতে জানি। আমি শুধু আশা করি যে, আমি এ লড়াইয়ে হেরে গেলেও আমার সহকর্মী যারা সংগ্রাম করছে, তারা জিতবে।

 

রাজনৈতিক দল পিআরওএমডিআই থেকে প্রেসিডেন্ট নির্বাচন করেন প্যাকিয়াও। নির্বাচনের মূল লড়াইয়ের আগেই সমীক্ষায় হারের আভাস পান এই বক্সার। যেখানে তিনি মাত্র ৬.৬ শতাংশ ভোট পেয়েছিলেন।

 

গত বছর বক্সিং থেকে অবসরে যাওয়ার পর প্রেসিডেন্ট নির্বাচন করার কথা জানান ৪৩ বছর বয়সী প্যাকিয়াও। প্রার্থী হিসেবে মনোনীত হওয়ার পর তিনি বলেছিলেন, আমি একজন যোদ্ধা। রিংয়ের ভেতরে-বাইরে সবসময় একজন যোদ্ধা হিসেবেই থাকতে চাই। দারিদ্র্য, দুর্নীতি ও মাদকের বিরুদ্ধে দাঁড়ানোর ঘোষণা দেন তিনি। এরপরও জনগণ তাকে বেছে নেয়নি।

 

জীবনের ২৬টি বছর বক্সিং রিংয়ে কাটিয়েছেন প্যাকিয়াও। এই দীর্ঘ সময়ে তিনি ৭২টি লড়াইয়ে অংশ নিয়েছেন। এর মধ্যে ৬২টি জয় রয়েছে ঝুলিতে। ৩৯ বার প্রতিপক্ষ বক্সারকে নকআউট করেছেন। ২৩টি ম্যাচে পয়েন্টের সিদ্ধান্তে তিনি জয়ী বলে ঘোষিত হয়েছেন। ১২ বার বিশ্বচ্যাম্পিয়ন হয়েছেন ফিলিপাইনের এই বক্সার। ক্যারিয়ারে মাত্র আটটি ম্যাচ হেরেছেন তিনি। দুটি ম্যাচ অমীমাংসিতভাবে শেষ হয়েছে।

দ্য স্ট্রেইট টাইমস