মাসখানেক আগেও ব্যালন ডি’অরের দাবিদার হিসেবে জোরেশোরে শোনা গিয়েছিল এ মৌসুমে রিয়াল মাদ্রিদের চ্যাম্পিয়নস লিগ ও লা লিগা জয়ের দুই কারিগর ভিনিসিউস জুনিয়র ও জুড বেলিংহামের নাম। দারুণ এক মৌসুম কাটিয়ে সব ধরনের ফুটবল থেকে বিদায় নেয়া টনি ক্রুসের কথাও কেউ কেউ ভেবেছিলেন। কিন্তু সদ্য সমাপ্ত ইউরো চ্যাম্পিয়নশিপ ও কোপা আমেরিকার পর ব্যালন ডি’অরের হিসাব নিয়ে নতুন করে ভাবতে হচ্ছে। স্পেনকে ইউরো জিতিয়ে টুর্নামেন্ট সেরা ফুটবলারের মুকুট পরা মিডফিল্ড জেনারেল রদ্রির সামনে যেন ম্লান বাকিরা। তাই প্রশ্ন আসছে, ব্যালন ডি’ অর কি বাগিয়েই ফেললেন রদ্রি?

ক্লাব এবং দেশের জার্সিতে স্মরণীয় আরো একটি মৌসুম কাটালেন লা রোহাদের এই নাম্বার সিক্সটিন। ২০২২-২৩ মৌসুমে পেপ গার্দিওলার দলকে প্রথমবারের মতো চ্যাম্পিয়নস লিগের স্বাদ পাইয়ে দেয়ার সঙ্গে হয়েছিলেন প্লেয়ার অব দ্য সিজন। ফাইনালে ইন্টার মিলানের বিপক্ষে জয়সূচক একমাত্র গোলটিও এসেছিল তার পা থেকে। গতবারের মতো এ মৌসুমেও একই রকম কার্যকর ছিলেন তিনি। গতবারের ব্যালন ডি'অরেও বেলিংহাম, ভিনিসিউস ও মেসির সঙ্গে লড়েছেন রদ্রি। বিষয়টা সোজা, তিনি এখন আর বিশ্বসেরা মিডফিল্ডার নন, তিনি বিশ্বসেরা ফুটবলার। ম্যাচকে তার মতো করে নিয়ন্ত্রণ, ম্যাচের তার মতো প্রভাব রাখা ফুটবলার এখন সত্যিই নেই। ডিফেন্সের সঙ্গে আক্রমণভাগের যোগসূত্র স্থাপন, ডিফেন্স চেরা পাস কিংবা বড় মঞ্চে বক্সের বাইরে থেকে বুলেট গতির শটে ম্যাচের মোড় ঘুরিয়ে ফেলা-সবই করেন তিনি। পূর্বসূরি সের্হিও বুস্কেটসের মতো তার পায়েও রেশমি পরশ-কখনোই যেন হারান না বল। সিডিএমের ভূমিকাটা তেমন গ্ল্যামারাস নয় বলে অতিমানবীয় পারফরমেন্সের তুলনায় পাদপ্রদীপের আলোয় কমই আসেন এই স্প্যানিয়ার্ড।

তবে এবারের ইউরোতে আর রদ্রিকে উপেক্ষা করা যায়নি। যে পুরস্কার সাধারণত আক্রমণভাগের ফুটবলারের জন্যই অনেকটা বরাদ্দ, সেটাও পেলেন এই সিডিএম। ইংল্যান্ডের ভার্সেটাইল মিডফিল্ডার ডেকলান রাইসকে হটিয়ে গোল ডটকমের করা স্পেন-ইংল্যান্ডের সম্মিলিত একাদশেও সিডিএমের ভূমিকায় রদ্রি। রাইস ভালো, কিন্তু রদ্রি নিজের যে মান তৈরি করেছেন তাতে ধারেকাছেই নেই এখন আর কেউ। ব্যালন ডি’অর কি উপেক্ষা করতে পারবে রদ্রিকে? সাবেক টটেনহাম হটস্পারের বেলজিয়ান ডিফেন্ডার ইয়ান ভার্তোঙ্গেন তো সামাজিক প্ল্যাটফর্ম এক্সে দেয়া পোস্টে বলেই দিলেন, রদ্রি, ব্যালন ডি’অর কনফার্মড।

বাকিটুকুর জন্য কেবল এখন সময়ের অপেক্ষা।