ডমিনিকায় সিরিজের দ্বিতীয় টি২০তে ৩৫ রানে হেরেছে বাংলাদেশ। প্রথম ম্যাচ বৃষ্টির কারণেও পরিত্যক্ত হলেও এই জয়ে তিন ম্যাচের সিরিজে ১-০ তে এগিয়ে গেল স্বাগতিক ওয়েস্ট ইন্ডিজ। আর হারের পেছনে বোলিং ও ব্যাটিংয়ের ঘাটতি দেখছেন বাংলাদেশ দলের অধিনায়ক মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ।
রোববার উইন্ডসর পার্কে টস জিতে আগে ব্যাটিংয়ের
সিদ্ধান্ত নেন ওয়েস্ট ইন্ডিজের অধিনায়ক নিকোলাস পুরান। নির্ধারিত ২০ ওভারে ৫ উইকেট
হারিয়ে ১৯৩ রান সংগ্রহ করে স্বাগতিকরা। ওপেনার ব্রেন্ডন কিং ৪৩ বলে ৫৭, পুরান ৩৪ ও রভম্যান পাওয়েল অপরাজিত ২৮ বলে ৬১
রানের ঝড়ো ইনিংসে খেলেন।
জবাবে বাংলাদেশ ২০ ওভারে ৬ উইকেট হারিয়ে ১৫৮
রান কতে সক্ষম হয়।
এ রান তাড়ায় ৩ ওভারের মধ্যে বাংলাদেশ হারায় ৩
উইকেট। এরপর তাদের ব্যাটিংয়ে লড়াই করা বা চ্যালেঞ্জ নেয়ার তাড়নাই আর দেখা যায়নি।
ধীরগতির ব্যাটিংয়ে ৫২ বলে ওপরাজিত ৬৮ রান করেন সাকিব আল হাসান। ২৭ বলে ৩৪ রান করেন
আফিফ হোসেন। নুরুল হাসান সোহান ১৩ বলে ৭ ও ১১ বলে ১৫ রান করেন মোসাদ্দেক হোসেন।
ম্যাচ শেষে মাহমুদউল্লাহর বিশ্লেষণে শুরুতেই
উঠে এলো বোলিংয়ের ঘাটতি। শুরুর বোলিং নিয়ে অধিনায়ক জানালেন আফসোস। ১৫ থেকে ১৭, এই তিন ওভারে ৫৫ রান তোলে ওয়েস্ট ইন্ডিজ।
মাহমুদউল্লাহ বলেন, শুরুটা যথেষ্ট ভালো করতে পারিনি আমরা। শুরুর
দিকে অনেক বেশি আলগা বল করেছি, যা ওদের মোমেন্টাম দিয়ে
দেয়। মাঝের ওভারগুলোতে উইকেট নিয়ে আবার মোমেন্টাম আমরা ফিরে পাই। তবে রভম্যান তা
আবার আমাদের কাছ থেকে নিয়ে নেয়। অবিশ্বাস্য ইনিংস খেলেছে সে।
বাংলাদেশ অধিনায়ক বলেন, বোলিংয়ে আমরা কয়েকটি ওভারে বেশি রান দিয়ে
ফেলেছি। ওটাতেও সমস্যা নেই,
টি২০ কয়েকটি ওভারে বেশি রান হতেই পারে। তবে যেভাবে আমাদের
পরিকল্পনা ছিল, যে জায়গায় বল করার কথা, সেখানে আমরা করিনি। ওটা সম্ভবত একটা দিক।
বোলিং যেমন একটি দিক, আরেকটি দিক তেমনি ব্যাটিং। দ্বিতীয় ওভারেই
বাংলাদেশ হারায় দুই ওপেনার লিটন কুমার দাস ও এনামুল হককে। তৃতীয় ওভারে একটি ছক্কা
ও চারের পর বিদায় নেন অধিনায়ক মাহমুদউল্লাহও। সেখান থেকে আর ঘুরে দাঁড়াতে পারেনি দল। সাকিব
আল হাসান ফিফটি ও আফিফ হোসেন ৩৪ রান করলেও তা কেবল ম্যাচে একটু দীর্ঘায়িত করে, কিন্তু
কখনোই মনে হয়নি জিততে পারে বাংলাদেশ।
অধিনায়ক এখানে কাঠগড়ায় তুললেন সাকিব ছাড়া দলের
অন্য ব্যাটসম্যানদের। রিয়াদ বলেন, ব্যাটিংয়েও আমরা যথেষ্ট ভালো ছিলাম না। সাকিব
ভালো ব্যাট করেছে, তবে অন্য প্রান্তে আর কারো অবদান রাখা জরুরি
ছিল। পাওয়ার প্লের সুবিধা নিতে হতো। এরপর সেই মোমেন্টাম বয়ে নিয়ে যেতে হতো। কিন্তু
সাকিব ও আফিফ ভালো খেলেছে,
আর কোনো ব্যাটার কিছু
করতে পারেনি।
ইনিংসের মাঝপথে টানা ৪৫ বলে কোনো বাউন্ডারি
আসেনি বাংলাদেশের। টি২০ ক্রিকেটে এটি বিরলই। দুইশর কাছাকাছি রান তাড়ায় এই পরিসংখ্যান
অবিশ্বাস্যও মনে হতে পারে।










