অনেকটা নিয়মরক্ষার হলেও কোপা আমেরিকার তৃতীয় স্থান অর্জনের লড়াইয়ে রোমাঞ্চকর এক ম্যাচ উপহার দিল উরুগুয়ে ও কানাডা। প্রথমবার কোপায় খেলতে নেমেই দারুণ চমক দেখিয়ে সেমিফাইনালে উঠে আসে কানাডা। শেষ চারে আর্জেন্টিনার কাছে হার মানে জেসে মার্শের দল। তৃতীয় স্থান নির্ধারণী ম্যাচেও দুর্দান্ত লড়াইয়ে নির্ধারিত সময়ে শক্তিশালী উরুগুয়ের বিপক্ষে ২-২ গোলে সমতায় রাখে তারা। এরপর ফল নিষ্পত্তিতে ভিন্ন মহাদেশের দুই দলের লড়াই গড়ায় টাইব্রেকারে। যেখানে ৪-৩ ব্যবধানে জয় পেয়েছে লুইস সুয়ারেজের উরুগুয়ে।

 

ফাইনালে উঠতে না পারলেও ব্যাংক অব আমেরিকা স্টেডিয়াম থেকে সান্ত্বনার তৃতীয় স্থান নিয়েই কোপা অভিযান শেষ করল কোপার ১৫ বারের চ্যাম্পিয়নরা।

 

এ ম্যাচের মাত্র অষ্টম মিনিটেই উরুগুয়েকে লিড এনে দেন বেন্তাকুর। তবে সেই উল্লাস বেশিক্ষণ স্থায়ী হয়নি। কারণ ১৪ মিনিটেই সমতায় ফেরে কানাডা। তরুণ ফুটবলার ইসমাইল কোনে দারুণ এক ফ্লিকে গোল করেন।

 

উভয় দলই সেই সমতা থেকে বেরোনোর পথ খুঁজছিল। তবে আক্রমণ-পাল্টা আক্রমণেও কাঙ্ক্ষিত গোলের দেখা মিলছিল না। ম্যাচের ৮০তম মিনিটে আসে সেই সমতা ভাঙা গোল। দলের বড় তারকা জোনাথন ডেভিডই এবার কানাডাকে লিড এনে দেন। মনে হচ্ছিল তৃতীয় স্থান বুঝি দখলে নিল উত্তর আমেরিকানরা। তবে সেটি আর সম্ভব হয়নি। রোমাঞ্চ কিছুটা বাকি রেখেছিল উরুগুয়ে। নির্ধারিত ৯০ মিনিটের খেলা শেষে যোগ করা সময়ের ৫ মিনিট চলছিল। তৃতীয় মিনিটেই কানাডার ডিবক্সে রক্ষণচেরা রদ্রিগেজের পাস, এক টাচে সেটিকে গোলে পরিণত করেন অভিজ্ঞ সুয়ারেজ।

 

টাইব্রেকারে কানাডা আর সেই একই দাপট ধরে রাখতে পারল না। মূল ম্যাচে গোল পাওয়া ইসমাইল কোনে ও দলটির সবচেয়ে বড় তারকা আলফনসো ডেভিস মিস করেছেন পেনাল্টি শ্যুটআউটে। অন্যদিকে, চার শটের প্রতিটিতেই গোল করেছেন সুয়ারেজরা। ফলে ৪-৩ গোলের জয় নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রে কোপা অভিযান শেষ করল উরুগুয়ে। নিজেদের শেষ ম্যাচে অভিজ্ঞ সুয়ারেজই হলেন ম্যাচসেরা। এর আগে ২০১১ সালে উরুগুয়ের হয়ে কোপা আমেরিকা শিরোপা জয় করেন সুয়ারেজ।

 

সেমিফাইনালে উরুগুয়ে হেরেছে কলম্বিয়ার কাছে, আর কানাডাকে হারায় আর্জেন্টিনা। সোমবার ভোর ৬টায় মিয়ামিতে কোপার ফাইনালে মুখোমুখি হবে আর্জেন্টিনা ও কলম্বিয়া।