সাত বছর পর প্রথম দ্বিপক্ষীয় সিরিজ খেলতে বাংলাদেশে এসেছে ভারতীয় ক্রিকেট দল। আজ ঢাকার মিরপুর শেরেবাংলা স্টেডিয়ামে প্রথম ওয়ানডে। ৭ ডিসেম্বর একই মাঠে দ্বিতীয় ও চট্টগ্রামের জহুর আহমেদ চৌধুরী স্টেডিয়ামে ১০ ডিসেম্বর সিরিজের তৃতীয় ও শেষ ওয়ানডে অনুষ্ঠিত হবে।
সাবেক বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন ভারতের সঙ্গে ৩৬টি ওয়ানডে ম্যাচে মুখোমুখি হয়েছে বাংলাদেশ। এসব ম্যাচে ভারত ৩০টিতে ও বাংলাদেশ ৫টি জিতেছে। টাইগারদের জেতা ৫ ম্যাচের ৪টিই অনুষ্ঠিত হয় বাংলাদেশের মাঠে। বাংলাদেশের মাটিতে ২২ ম্যাচের মধ্যে ১৭টিই জিতেছে ভারতীয়রা।
২০০০ সালে ঢাকায় বাংলাদেশের প্রথম টেস্ট ম্যাচের প্রতিপক্ষ ছিল ভারত। যদিও তারা বাংলাদেশে ওয়ানডে খেলেছে আরো ১২ বছর আগে। ১৯৮৮ সালের অক্টোবরে উইলস এশিয়া কাপে ম্যাচে চট্টগ্রাম স্টেডিয়ামে মুখোমুখি হয় দুটি দেশ। ওই ম্যাচে ভারতীয় দলে ছিলেন তিরাশির বিশ্বকাপজয়ী দলের অধিনায়ক কপিল দেব ছাড়াও দিলিপ ভেংসরকার, মোহাম্মদ আজহারউদ্দিন, নভজোৎ সিং সিধু, ক্রিস শ্রীকান্ত, মহিন্দর অমরনাথের মতো কিংবদন্তি ক্রিকেটার। তাদের সঙ্গে ন্যূনতম লড়াইও করতে পারেনি গাজী আশরাফ হোসেন লিপুর নেতৃত্বাধীন বাংলাদেশ। আজহার হোসেন, হারুনুর রশিদ, আতহার আলী খান, মিনহাজুল আবেদিন ও আমিনুল ইসলামরা অসহায় আত্মসমর্পণ করেন।
সেই শুরু। এর পরও দেশে ও দেশের বাইরে মিলিয়ে আরো টানা ১১টি হারের পর অবশেষে ২০০৪ সালে ভারতের বিপক্ষে প্রথম জয় আসে টাইগারদের। বঙ্গবন্ধু স্টেডিয়ামে আফতাব আহমেদের হাফ সেঞ্চুরি ও মাশরাফি বিন মর্তুজার অলরাউন্ড নৈপুণ্যে ভারতকে ১৫ রানে হারিয়েছিল বাংলাদেশ। ৩৯ বলে হার না মানা ৩১ রান করার পর ৩৬ রানে দুই উইকেট নেন মাশরাফি, সঙ্গে দুটি ক্যাচ। ভারতের বিপক্ষে বাংলাদেশের প্রথম জয়ের নায়ক তাই মাশরাফি। বিশ্বকাপে ভারতের বিপক্ষে বাংলাদেশের একমাত্র জয়ের নায়কও মাশরাফি। ২০০৭ সালে ত্রিনিদাদের পোর্ট অব স্পেনে ৩৮ রানে চার উইকেট নিয়ে ভারতকে বিধ্বস্ত করেছিলেন মাশরাফি।
এরপর ঘরের মাঠে ভারতের কাছে আরো ১১টি হারের বিপরীতে তিনটি ম্যাচে জয়লাভ করে বাংলাদেশ। ২০১২ সালে ঢাকার মিরপুর শেরেবাংলা স্টেডিয়ামে ৫ উইকেটে এবং ২০১৫ সালে একই মাঠে যথাক্রমে ৭৯ রানে ও ৬ উইকেটের জয় তুলে নেয় বাংলাদেশ। ওই দুটি জয়ে তিন ম্যাচের সিরিজও নিশ্চিত করে টাইগাররা। সেবার তৃতীয় ও শেষ ম্যাচে ৭৭ রানের জয় তুলে নিয়ে ব্যবধান কমায় ভারত (১-২)।
১৯৮৮ সালের ২৭ অক্টোবর চট্টগ্রামে প্রথম ওয়ানডে ম্যাচে মুখোমুখি হয় ভারত ও বাংলাদেশ। দুদল সর্বশেষ মুখোমুখি হয় ২০১৯ সালের ওয়ানডে বিশ্বকাপ ম্যাচে, বার্মিংহাম শহরে। ওই ম্যাচে বাংলাদেশকে ২৮ রানে হারায় ভারত।
২০১৫ সালের ওই সিরিজের পর আজ ফের বাংলাদেশের মাঠে ওয়ানডে সিরিজে খেলতে নামছে ভারত। ভারতের সর্বশেষ সফরের দলে যারা ছিলেন তাদের মধ্যে এবারের সফরে টিকে আছেন তিনজন—রোহিত শর্মা, বিরাট কোহলি ও শিখর ধাওয়ান। ওয়ানডেতে বাংলাদেশের বিপক্ষে সর্বোচ্চ রান সংগ্রাহক কোহলি ও রোহিত আছেন এই সিরিজে। কোহলি ১২ ম্যাচে ৬৮০ ও রোহিত ১৩ ম্যাচে ৬৬০ রান করেছেন। বাংলাদেশের বিপক্ষে দুজনই করেছেন সমান তিনটি করে সেঞ্চুরি। ২২ ম্যাচে ৬২৮ রান করে বাংলাদেশের মুশফিকুর রহিম তিনে ও তামিম ইকবাল ১৯ ম্যাচে ৫৯৬ রান করে চারে অবস্থান করছেন। উইকেট শিকারের তালিকায় শীর্ষ পাঁচজনের মধ্যে চারজনই বাংলাদেশের! মাশরাফি (২৩), মুস্তাফিজুর
রহমান (২০), সাকিব
আল হাসান (১৯) ও মোহাম্মদ রফিক (১৮) শীর্ষ চারটি স্থান দখল করেছেন। ১৬ উইকেট নিয়ে পঞ্চম স্থানে ভারতের সাবেক পেসার অজিত আগারকার। এই সিরিজেই শীর্ষে উঠে যেতে পারেন মুস্তাফিজ কিংবা সাকিব।
অবশ্য ২০১৬ সালেও বাংলাদেশে খেলে গেছে ভারত। সেটা ছিল এশিয়া কাপ টি২০। ওই আসরের ফাইনালে স্বাগতিক বাংলাদেশকে ৮ উইকেটে হারায় ভারত।
টি২০ ক্রিকেটেও ভারতের কর্তৃত্ব। এই ফরম্যাটে ১২টি লড়াইয়ের মধ্যে ১১টিই জিতেছে ভারত, বাংলাদেশ জয় পেয়েছে একটি। দুই দেশের দ্বৈরথে তিনটি টি২০ অনুষ্ঠিত হয় বাংলাদেশে, যার সবগুলো জিতেছে ভারত।
এটা বাংলাদেশে ভারতের ষষ্ঠ টেস্ট ট্যুর। ২০০০ সালে বাংলাদেশের ইতিহাসে প্রথম টেস্টের প্রতিপক্ষ ছিল ভারত। বঙ্গবন্ধু স্টেডিয়ামে ঐতিহাসিক সেই টেস্টে ভারতের কাছে ৯ উইকেটে হেরে যায় বাংলাদেশ। সব মিলিয়ে ১১ টেস্টের দ্বৈরথে ভারত জিতেছে ৯টি, ড্র হয় বাকি ২টি টেস্ট।
ওয়ানডে সিরিজ শেষে বাংলাদেশে দুটি টেস্ট খেলবেন রোহিত ও কোহলিরা। ১৪ ডিসেম্বর জহুর আহমেদ চৌধুরী স্টেডিয়ামে শুরু হবে প্রথম টেস্ট। এরপর ২২ ডিসেম্বর থেকে মিরপুরে শুরু হবে দ্বিতীয় ও শেষ টেস্ট।










