সেন্ট লুসিয়া টেস্টে ১০ উইকেটের বড় ব্যবধানে হারল বাংলাদেশ। সোমবার বৃষ্টিবিঘ্নিত চতুর্থ দিন নিজেদের দ্বিতীয় ইনিংসে ১৮৬ রানে গুটিয়ে যায় বাংলাদেশ। তাতে মাত্র ১৩ রানের টার্গেট পায় ওয়েস্ট ইন্ডিজ। স্বাগতিকরা কোনো উইকেট না হারিয়েই ২.৫ ওভারে সহজ জয় তুলে নেয়। এর ফলে জয়ে দুই ম্যাচের সিরিজ ২-০তে জিতে নিল ক্যারিবিয়ানরা।

 

এটা টেস্টে বাংলাদেশের ১০০তম পরাজয়। ২০০০ সাল থেকে ২০২২ পর্যন্ত ১৩৪টি টেস্ট খেলে মাত্র ১৬টি জিতেছে বাংলাদেশ, হার ১০০টি, আর ড্র হয়েছে ১৮টি।

 

সেন্ট লুসিয়ার ড্যারেন স্যামি স্টেডিয়ামে ৬ উইকেটে ১৩২ রান নিয়ে চতুর্থ দিন (বাংলাদেশ সময় সোমবার দিবাগত রাত ১টা) ব্যাটিংয়ে নামা বাংলাদেশের ইনিংস হার এড়াতে প্রয়োজন ছিল ৪২ রান। তবে মেহেদী হাসান মিরাজ, এবাদত হোসেন, শরিফুল ইসলাম ও খালেদ আহমেদরা প্রত্যেকেই হতাশ করেন দলকে এবং ইনিংস হারের শঙ্কা জাগে। এরপরও বাংলাদেশ ইনিংস হার এড়াতে সমর্থ হয় নুরুল হাসান সোহানের বীরত্বপূর্ণ ব্যাটিংয়ে ভর করে। তিনি ৫০ বলে ৬০ রানের হার না মানা ইনিংস খেলে দলকে ১৮৬ রান পর্যন্ত টেনে নিয়ে যেতে সমর্থ হন। ৬টি চার ও ২টি ছক্কার সাহায্যে সাহসী এই ইনিংস খেলেন বাংলাদেশ দলের উইকেটকিপার। উল্লেখ্য, প্রথম টেস্টের দ্বিতীয় ইনিংসেও তিনি দলের দুঃসময়ে হাফসেঞ্চুরি করেন এবং তার ও সাকিবের ব্যাটে ভর করেই ওয়েস্ট ইন্ডিজকে ৮৪ রানের টার্গেট দিতে সমর্থ হয়েছিল দল। এবার অবশ্য নুরুলের নিঃসঙ্গ লড়াইটা প্রতিপক্ষকে চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দেয়ার মতো সংগ্রহ এনে দিতে পারেনি।

 

এ নিয়ে গোটা সিরিজেই বাংলাদেশের ব্যাটাররা যাচ্ছেতাই ব্যাটিং করলেন। প্রথম টেস্টের দুই ইনিংসে যথাক্রমে ১০৩ ও ২৪৫ এবং দ্বিতীয় টেস্টের দুই ইনিংসে যথাক্রমে ২৩৪ ও ১৮৬ রান করে সফরকারী দলটি।

 

হার শেষে বিমর্ষ সাকিব আল হাসান বললেন, আমাদের ভাবনাই থাকে যে, টেস্ট ম্যাচ মানেই কঠিন চ্যালেঞ্জ। যা হোক, এখন লম্বা বিরতির পর আমরা ঘরের মাঠে খেলব। ব্যাটিং নিয়ে আমি বিচলিত নই। আমাদের মানসিকভাবে শক্ত হতে হবে। গত ৩-৪ বছরে ফাস্ট বোলিং বিভাগে আমরা উন্নতি করেছি। এখন ম্যাচ জিততে চাইলে একটি দল হিসেবে খেলতে হবে আমাদের।

 

টেস্ট সিরিজে অসহায় আত্মসমর্পণ করা বাংলাদেশের সামনে এখন সীমিত ওভারের সিরিজে ঘুরে দাঁড়ানোর সুযোগ। ২ জুলাই শুরু হবে তিন ম্যাচের টি২০ সিরিজ। এরপর ১০ জুলাই থেকে রয়েছে তিন ম্যাচের ওয়ানডে সিরিজ।

 

সাকিব বললেন, সাদা বলের ক্রিকেটে আমরা একটি প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ দল। আশাকরি, সিরিজে প্রতিদ্বন্দ্বিতা হবে।

    

সংক্ষিপ্ত স্কোর

বাংলাদেশ: ২৩৪ ও ১৮৬। ওয়েস্ট ইন্ডিজ: ৪০৮ ও ১৩/০। ফল: ওয়েস্ট ইন্ডিজ ১০ উইকেটে জয়ী। ম্যান অব দ্য ম্যাচ ও ম্যান অব দ্য সিরিজ: কাইল মায়ার্স (ওয়েস্ট ইন্ডিজ)। সিরিজ: ওয়েস্ট ইন্ডিজ ২-০ ব্যবধানে জয়ী।