রুদ্ধশ্বাস লড়াই শেষে জাপানকে টাইব্রেকারে হারিয়ে কাতার বিশ্বকাপের কোয়ার্টার ফাইনালে জায়গা করে নিল গতবারের রানার্সআপ ক্রোয়েশিয়া। আজ আল জানুব স্টেডিয়ামে ১২০ মিনিটে দুর্দান্ত লড়াই করা জাপানিরা পেনাল্টি শুটআউটে প্রথম দুটি শটেই গোল করতে ব্যর্থ হয়। পরে আরো একটি শট মিস করলে এই সুযোগে ক্রোয়াটরা জিতেছে ৩-১ গোলের ব্যবধানে।
এর আগে ক্রোয়াটদের সঙ্গে দুর্দান্ত লড়াই করে এশিয়ান জায়ান্ট
জাপান। ম্যাচে নির্ধারিত ৯০ মিনিটে দল দুটিকে আলাদা করা যায়নি। ১-১ গোলে সমতায়
থাকার পর ম্যাচ গড়ায় অতিরিক্ত সময়ে। কিন্তু অতিরিক্ত সময়ের ৩০ মিনিটেও কেউ হারেনি, কোনো গোল হয়নি।
এদিন শুরু থেকেই আক্রমণাত্বক ফুটবল খেলে জাপান। তারই ধারাবাহিকতায় ৪৩ মিনিটে জাপানকে এগিয়ে দেন দাইজেন মায়েদা। কর্নার থেকে গোলের সূত্রপাত। কর্নারের পর বলে শেষ ক্রস নেন রিতসু দোয়া, যা কয়েক খেলোয়াড়ের গায়ে লাগার পর মায়েদার পায়ের কাছে পড়ে, তিনি কোনো ভুল না করে ক্রোয়েশিয়ার জালে পাঠান। জাপানের জার্সিতে বড় কোনো আসরে এটাই তার প্রথম গোল।
অবশ্য দ্বিতীয়ার্ধের খেলা শুরুর ১০ মিনিটের মধ্যে গোল
পরিশোধ করে লড়াকু ক্রোয়েশিয়া। জোসিপ জুরানোভিচের পুল ব্যাকে বল পেয়ে ডান প্রান্ত
থেকে দেজান লভরেনের বাড়ানো ক্রসে লাফিয়ে জোরালো হেড নেন পেরিসিচ, বল নিচের কোনা দিয়ে জালে আশ্রয় নেয়।
এটা জাতীয় দলের হয়ে পেরিসিচের ৩৩তম গোল। শুধু ডেভর সুকার (৪৫) সব ধরণের প্রতিযোগিতা মিলে তার চেয়ে বেশি গোল করেছেন।
তিনি কাল ছুঁয়ে ফেলেন মারিও মান্দজুকিচকে। আর বিশ্বকাপে সুকারের সময় ছয় গোল
পেরিসিচের। ইউরো ও বিশ্বকাপ মিলে ক্রোয়াটদের মধ্যে সর্বোচ্চ ১০ গোল তার, ৯ গোল সুকারের।
সমতা এনে আত্মবিশ্বাসী ক্রোয়াটরা সংঘবদ্ধ আক্রমণে যেতে
থাকে। তারই ধারাবাহিকতায় ৬৩ মিনিটে অধিনায়ক লুকা মডরিচ ২০ গজ দূর থেকে অবিশ্বাস্য
এক হাফ ভলি নিয়েছিলেন, যা জাপানের গোলকিপার আলতো টোকায় বারের ওপর দিয়ে
পাঠিয়ে দেন।
পরে আর কোনো দলই গোল করতে না পারায় খেলা গড়ায় অতিরিক্ত
সময়ে। উল্লেখ্য, বিশ্বকাপ ও ইউরো মিলে নকআউটে ক্রোয়েশিয়ার সর্বশেষ
সাতটি ম্যাচের মধ্যে ছয়টিই গড়ায় অতিরিক্ত সময়ে, ব্যতিক্রম ছিল
২০১৮ সালের ফাইনাল।
উল্লেখ্য, জাপান এর আগে
কখনই বিশ্বকাপের নকআউট ম্যাচে প্রথমার্ধে লিড নিতে পারেনি। আর ক্রোয়েশিয়া কখনই শেষ
ষোলোর ম্যাচে হারেনি।










