বিশ্বকাপের ডামাঢোলের মাঝে ক্লাব ফুটবল নিয়ে আলোচনায় এলেন পর্তুগালের ফরোয়ার্ড ক্রিস্টিয়ানো রোনালদো। সাম্প্রতিক এক সাক্ষাৎকার বিতর্কের জেরে ম্যানচেস্টার ইউনাইটেড ছাড়লেন তিনি। খবর বিবিসি।

ওই সাক্ষাৎকারে ক্লাবের সমালোচনা করেছিলেন ৩৭ বছর বয়সী এই ফুটবল সেলিব্রিটি। টিম ম্যানেজার এরিক টেন হাগের প্রতি কোনো ধরনের শ্রদ্ধা নেই বলে বিস্ফোরক মন্তব্য করেন তিনি।

তবে গতকাল মঙ্গলবার রাতে রোনালদো ও ম্যানইউ দুইপক্ষই জানিয়েছে, পারস্পরিক সম্মতির ভিত্তিতে এ সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে।

ক্লাবের পক্ষ থেকে বিবৃতিতে বলা হয়, ওল্ড ট্র্যাফোর্ডে অবদান রাখার জন্য ক্লাব তাকে ধন্যবাদ জানাচ্ছে। পাশাপাশি রোনালদো, তার পরিবার ও ভবিষ্যতের জন্য শুভকামনা জানাচ্ছি।

আরো জানানো হয়, টেন হাগের অধীনে ম্যানচেস্টার ইউনাইটেড অগ্রযাত্রা বজায় রাখবে।

ম্যানেজার হিসেবে টেন হ্যাগের প্রথম মৌসুমে প্রিমিয়ার লিগে ইউনাইটেড পঞ্চম স্থানে রয়েছে।

এদিকে দল ছেড়ে আসা প্রসঙ্গে রোনালদো টুইটারে লেখেন, ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডের সঙ্গে আলোচনার পর আমরা পারস্পরিক সম্মতিতে মেয়াদ শেষ হওয়ার আগেই চুক্তি ছিন্ন করার সিদ্ধান্ত নিয়েছি। আমি ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডকে ভালোবাসি এবং সমর্থকদেরও।

এই ভালোবাসা কখনো বদলাবে না উল্লেখ করে বলেন, আমার মনে হয়েছে নতুন চ্যালেঞ্জের খোঁজ করার এটাই সঠিক সময়।

রোনালদো বর্তমানে পর্তুগালের সঙ্গে কাতারে আছেন এবং আগামীকাল বৃহস্পতিবার ঘানার বিপক্ষে ‘এইচ’ গ্রুপের খেলায় নিজ দলের নেতৃত্ব দেবেন।

এর আগে গত সোমবার সাম্প্রতিক বিতর্ক নিয়ে কাতারে সংবাদমাধ্যমে বলেন, ইউনাইটেডের সঙ্গে এ ঘটনা পর্তুগাল দলে প্রভাব ফেলবে না। তবে ওই বিষয়ে পরে কথা বলবেন।

বিশ্বকাপের আগে ওই বিস্ফোরক সাক্ষাৎকারে ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদো দাবি করেন, তার সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতা করা হয়েছে। ম্যানচেস্টারের ম্যানেজার তাকে ক্লাব থেকে তাড়াতে চান বলেও বোমা ফাটান সিআর সেভেন।

২০২১ সালের আগস্টে জুভেন্টাস থেকে সাবেক ক্লাব ম্যানইউতে ফিরে আসেন রোনালদো। তবে ম্যানইউ চ্যাম্পিয়ন্স লিগে উঠতে ব্যর্থ হওয়ায় তিনি চলে যাওয়ার পরিকল্পনা করেন। তা নিয়ে ক্লাবের ঊর্ধ্বতন মহল ও ম্যানেজারের সঙ্গে তিক্ততা তৈরি হয়।

ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডের হয়ে ৩৪৬টি খেলায় ১৪৫টি গোল করেন রোনালদো। সর্বশেষ গত ৬ নভেম্বর অ্যাশটন ভিলার সঙ্গে খেলায় তাকে দেখা যায়। ওই ম্যাচে ৩-১ গোলে হারে ম্যানইউ।