সেই ম্যাচে ১০ মিনিটের মধ্যেই গোল পেয়ে যায় পশ্চিম জার্মানি। এরপর দুই দলই খেলা থামিয়ে দেয়। কোনো আক্রমণ নেই, গোলের চেষ্টাও করেনি কোনো দল। ম্যাচটি এভাবেই শেষ হয়ে যায় এবং দুই দল উঠে যায় পরের রাউন্ডে, অস্ট্রিয়ার চেয়ে গোল ব্যবধানে পিছিয়ে থাকায় বিদায় নিতে হয় নবাগত আলজেরিয়াকে। সেই স্মৃতি মাথায় রেখেই কানসাস সিটিতে গতকালের অস্ট্রিয়া-আলজেরিয়া ম্যাচটি নিয়ে ছিল নানা জল্পনা-কল্পনা। যদিও দুই দল ড্রয়ের জন্য নিষ্ক্রিয় ফুটবল খেলেনি। বরং রীতিমতো থ্রিলার দেখেছেন কানসাসের অ্যারোহেড স্টেডিয়ামের ৬৯ হাজার দর্শক। এ থ্রিলারই আলজেরিয়া ও অস্ট্রিয়াকে এনে দিয়েছে নকআউটের টিকিট, আর এবারের আসর থেকে বিদায় করে দিয়েছে ইরানকে।
আগের দিনই মিসরের বিপক্ষে ম্যাচে ইরানের যোগ করা সময়ের গোল মিলিমিটারের মতো অফসাইডে বাতিল করে দেয় ভিএআর। জিতলেই ইরান উঠে যেত নকআউটে। ম্যাচটি ড্র হওয়ার পর ইরান কোচ আমির ঘালেনোই বলছিলেন, অন্যায়ের শিকার হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে দুর্ভাগ্যও তাদের সঙ্গী। এ দুর্ভাগ্যের চূড়ান্ত রূপ দেখা গেল গতকাল কানসাস সিটিতে আলজেরিয়া ও অস্ট্রিয়া ম্যাচে। ২-২ গোলে সমতায় থাকা ম্যাচে যোগ করা সময়ের তৃতীয় মিনিটে রিয়াদ মাহরেজ গোল করলে নিশ্চিতভাবেই তা আনন্দের ঢেউ তুলেছিল তেহরানসহ ইরানের সর্বত্র। আলজেরিয়া জিতলেই যে তাদের সঙ্গে ইরানও জায়গা পেত নকআউট পর্বে।
কিন্তু ভাগ্য সহায় হলো না এ যাত্রায়ও। যোগ করা সময় শেষ হতে ১ মিনিটের মতো বাকি। তখনই আলজেরিয়ার অধিনায়ক মাহরেজ ডিফেন্স চেরা একটি পাস থেকে গোল করে বসেন। তার এ গোলে চিত্রনাট্য সম্পূর্ণ পাল্টে যায়। নকআউটে পা দেয়ার কাছাকাছি থাকা অস্ট্রিয়া বাদ পড়ে যাচ্ছিল। মানে, হারলেই তারা বিদায় নেবে, সেই জায়গায় চলে যাবে ইরান। যদিও আলজেরিয়ার উদযাপন থামার অল্প সময় পরই ক্রস থেকে হেডারে গোল করে অস্ট্রিয়াকে অন্তহীন আনন্দে ভাসান সাসা কালাদজিক। এ গোলটি বাঁচিয়ে দেয় ‘ডাস টিম’কে, সেই সঙ্গে তাদের এনে দেয় নকআউটের টিকিট।
৩-৩ গোলের ড্রয়ে অস্ট্রিয়া ও আলজেরিয়া দুই দলই নকআউট পর্বে জায়গা করে নিয়েছে। উভয় দলের সংগ্রহ সমান ৪ পয়েন্ট। গোল ব্যবধানে এগিয়ে থাকায় ‘জে’ গ্রুপ রানার্সআপ অস্ট্রিয়া। আর্জেন্টিনা পূর্ণ ৯ পয়েন্ট নিয়ে গ্রুপ চ্যাম্পিয়ন। আলজেরিয়া হয়েছে গ্রুপে তৃতীয়। তৃতীয় হওয়া ১২টি দলের মধ্যে ষষ্ঠ স্থানে থাকায় আলজেরিয়াও পেয়েছে নকআউটের টিকিট। সেই সঙ্গে টুর্নামেন্ট থেকে নাটকীয়ভাবে বিদায় নিল ইরান।
অ্যারোহেড স্টেডিয়ামে শুরু থেকেই ছিল আক্রমণ-পাল্টা আক্রমণ। জমজমাট ম্যাচে আলজেরিয়া দু-দুবার কামব্যাক করে। ম্যাচের ২৮ মিনিটে অস্ট্রিয়াকে এগিয়ে দেন মার্কো আরনাউতোভিচ। ৪৫ মিনিটে সমতা আনেন রফিক বেলঘালি। ৫৫ মিনিটে মার্সেল সাবিৎজার আবারো এগিয়ে দেন অস্ট্রিয়াকে। এবার আলজেরিয়ার ত্রাতা হয়ে আসেন অধিনায়ক মাহরেজ। ৬০ মিনিটে তার গোলে দ্বিতীয়বারের মতো সমতায় ফেরে ‘ডেজার্ট ওয়ারিয়র্স’রা। এরপর ৯০ মিনিট শেষে যোগ করা সময়ের মহানাটকীয়তায় আলজেরিয়া কিংবা অস্ট্রিয়ার কেউই হারেনি, হেরে গেছে ইরান।
১৯৮২ সালের পর এ প্রথম বিশ্বকাপের নকআউট পর্বে উঠল অস্ট্রিয়া। নকআউটে তাদের প্রতিপক্ষ ইউরোপিয়ান চ্যাম্পিয়ন ও ২০১০ আসরের বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন স্পেন। বৃহস্পতিবার রাতে লস অ্যাঞ্জেলেসে পরাশক্তি স্পেনের মুখোমুখি হবে দলটি। কাকতালীয়ভাবে সেই বিরাশির পর এ প্রথমবার বিশ্বকাপের নকআউট পর্বে নাম লেখাল অস্ট্রিয়া। যদিও এবার ‘ইচ্ছেকৃতভাবে’ ড্র করার কিংবা হেরে যাওয়ার অভিযোগ ওঠেনি তাদের বিরুদ্ধে। ইরান কেবল নিজেদেরই ভাগ্যবিড়ম্বিত ভাবতে পারে।









