ইংলিশ প্রিমিয়ার লিগের গ্রীষ্মকালীন দলবদল শুক্রবার শুরু হয়েছে। ক্লাবগুলো চাইলেই এখন খেলোয়াড় সই করাতে পারবে। অবশ্য কিছু ক্লাব এরই মধ্যে গ্রীষ্মের দলবদলে খেলোয়াড় সই করার আগাম ঘোষণা দিয়ে রেখেছে, তাদের চুক্তি কার্যকর হবে ১ জুলাই, যখন অধিকাংশ খেলোয়াড়ের সঙ্গে তাদের পুরনো ক্লাবের চুক্তির মেয়াদ শেষ হয়ে যাবে। গ্রীষ্মকালীন দলবদল শেষ হবে বাংলাদেশ সময় ১ সেপ্টেম্বর দিবাগত ভোর ৪টায়।

ম্যানচেস্টার সিটি এরই মধ্যে ৫১.২ মিলিয়ন পাউন্ডে বরুশিয়া ডর্টমুন্ড থেকে নরওয়েজিয়ান ফরওয়ার্ড আর্লিং হাল্যান্ডকে কেনার ঘোষণা দিয়েছে। যদিও খেলোয়াড়টি ব্যক্তিগত সুযোগ-সুবিধা কী পাবেন, সে ব্যাপারে ক্লাবের সঙ্গে এখনো চূড়ান্ত সমঝোতায় পৌঁছাননি।

হাল্যান্ডের মতো গোলমেশিন যখন ইতিহাদে আসছেন ঠিক তখনই দুজন তারকা বিদায়ও নিতে পারেন। তারা হলেন ফরওয়ার্ড রহিম স্টার্লিং ও মিডফিল্ডার বার্নার্দো সিলভা।

পেপ গার্দিওলার দল দুর্দান্ত একটি মৌসুম কাটিয়েছে এবার। ইংলিশ প্রিমিয়ার লিগ শিরোপা জয়ের পাশাপাশি চ্যাম্পিয়ন্স লিগেরও সেমিফাইনাল খেলেছে। এর পরও কেন ইতিহাদ ছাড়তে চাইছেন ২৭ বছর বয়সী স্টার্লিং তিনি মূলত হতাশ ‘প্লেয়িং টাইম’ নিয়ে। এ তারকাকে এখন মাঝেমধ্যেই মাঠে নামতে হয় বদলি খেলোয়াড় হিসেবে। এমনকি চ্যাম্পিয়ন্স লিগ সেমিফাইনালে রিয়ালের বিপক্ষে দুই লেগেই তিনি বদলি হিসেবে সুযোগ পেয়েছেন। সদ্য সমাপ্ত মৌসুমে সব ধরনের প্রতিযোগিতায় তিনি ১৭টি গোল করেন স্টার্লিং। যদিও সব সময় প্রথম একাদশে খেলার সুযোগ পাননি। কিন্তু ইংল্যান্ডের হয়ে ৭৪টি আন্তর্জাতিক ম্যাচ খেলা এ তারকা বদলি হিসেবে খেলাটা মেনে নিতে পারছে না।

এ অসন্তোষ প্রকাশ হতে থাকলেই তাকে দলে ভেড়াতে আগ্রহ প্রকাশ করতে থাকে কিছু ক্লাব। ইংলিশ ক্লাব চেলসি ও জার্মানির বায়ার্ন মিউনিখ তাকে দলে ভেড়াতে চায়। তাকে কিনতে ৬০ মিলিয়ন পাউন্ড খরচ করতে প্রস্তুত চেলসি। যদিও ব্লুজদের কোচ টমাস টুখেলের কাছে নাকি স্টার্লিংয়ের একটাই চাওয়া, তাকে বেঞ্চে বসিয়ে রাখা যাবে না।

২০১৫ সালে ৪৯ মিলিয়ন পাউন্ডে লিভারপুলের কাছ থেকে স্টার্লিংকে কিনেছে ম্যানসিটি। সেই থেকে তিনি দলটির হয়ে দুর্দান্ত সফলতা পেয়েছেন। চারটি লিগ শিরোপা, চারটি লিগ কাপ এবং একটি করে এফএ কাপ ও কমিউনিটি শিল্ড জিতেছেন তিনি। মাঝের এ সময় ইউরোপিয়ান প্রতিযোগিতায় ইংল্যান্ড ও ম্যানসিটি উভয় দলের হয়ে রানার্সআপ হওয়ার কৃতিত্ব দেখিয়েছেন তিনি।

ম্যানসিটিতে তার চুক্তির মেয়াদ শেষ হবে ২০২৩ সালে। তার মানে, বিনা পয়সায় ছেড়ে দেয়ার পরিবর্তে পেপ গার্দিওলার দল তাকে এ গ্রীষ্মেই বিক্রি করতেও পারে। সেক্ষেত্রে ক্লাব ৫০ থেকে ৬০ মিলিয়ন পাউন্ড চাইতে পারে তার জন্য।

সদ্যই টড বোয়েলির নেতৃত্বাধীন একটি কনসোর্টিয়াম ৪২৫ কোটি পাউন্ডে চেলসির মালিকানায় যুক্ত হয়েছেন। নতুন মালিক নিশ্চিতভাবেই স্টার্লিংয়ের মতো তারকা খেলোয়াড়কে স্কোয়াডে যুক্ত করতে চাইবে।

সিটির পর্তুগিজ তারকা সিলভাকে চায় বার্সেলোনা। ২০২১-২২ মৌসুমে কোনো ট্রফিই জিততে পারেনি কাতালানরা। স্প্যানিশ ক্লাবটি আগামী মৌসুমের জন্য তাই স্কোয়াডের শক্তি বৃদ্ধিতে মরিয়া। এ মিশনে তাদের অন্যতম টার্গেট ম্যানসিটির পর্তুগিজ মিডফিল্ডারটি। তাকে নিয়ে সুপারএজেন্ট হোর্হে মেন্দেসের সঙ্গে বার্সার প্রতিনিধিদের বৈঠকও হয়েছে।

সংকট হতে পারে দলবদল ফি নিয়ে। তার জন্য ন্যূনতম ১০০ মিলিয়ন ইউরো ফি চাইতে পারে ম্যানসিটি। লা লিগা ও উয়েফার আর্থিক বিধিনিষেধের জন্য এ অর্থ দেয়া বার্সার জন্য এখন কঠিনই। ডাচ খেলোয়াড় ফ্রেঙ্কি ডি ইয়াংকে বিক্রি করতে পারলে অবশ্য সিলভাকে কেনার কাজটি সহজ হবে। ইয়াংয়ের জন্য ৬০ মিলিয়ন ইউরোর একটি প্রস্তাব রয়েছে, সঙ্গে আরো ২০ মিলিয়ন ইউরো যোগ হবে।

দলবদলের আগেই যেসব চুক্তি হলো:

চেলসি ছেড়ে স্প্যানিশ ক্লাব রিয়াল মাদ্রিদে নাম লিখিয়েছেন জার্মান ডিফেন্ডার আন্তোনিও রুডিগার, আর আর্সেনাল থেকে অলিম্পিক লিওঁতে ফিরে গেছেন ফরাসি স্ট্রাইকার আলেক্সান্ডার লাকাজেত্তে। দুজনই ফ্রি এজেন্ট হিসেবে গেছেন, কাজেই তাদের জন্য নতুন ক্লাবের কোনো অর্থ ব্যয় করতে হয়নি।

অ্যাস্টন ভিলা দলবদল শুরুর আগে বেশ কয়েকটি চুক্তি সম্পন্ন করেছে। মার্সেই থেকে মিডফিল্ডার বউবাকার কামারাকে দলে ভিড়িয়েছে বিনা ফিতে। বার্সেলোনা থেকে ১৭ মিলিয়ন পাউন্ডে ব্রাজিলিয়ান ফরওয়ার্ড ফিলিপ্পে কুতিনহোকে কিনেছে অ্যাস্টন ভিলা। আর রোমার গোলকিপার রবিন ওলসেনকে দলে ভিড়িয়েছে লন্ডনের ক্লাবটি। এছাড়া সেভিয়ার ডিফেন্ডার দিয়েগো কার্লোসকেও ২৬ মিলিয়ন পাউন্ডে সই করানোর ঘোষণা দিয়েছে ভিলা। আবার সফল ধার মৌসুম শেষে ১৫ মিলিয়ন পাউন্ডে ডিফেন্ডার ম্যাট টার্গেটকে নিউক্যাসলের কাছে বিক্রি করেছে ভিলা।

৫ মিলিয়ন পাউন্ডে ফুলহাম থেকে ১৯ বছর বয়সী অ্যাটাকিং মিডফিল্ডার ফাবিও কারভালহোকে দলভুক্ত করেছে লিভারপুর। ফ্রি এজেন্ট হিসেবে টটেনহামে যোগ দেবেন ক্রোয়েশিয়ার উইঙ্গার আইভান পেরিসিক ও গোলকিপার ফ্রেজার ফস্টার।

লিভারপুল ছেড়ে যাবেন সেনেগালিজ স্ট্রাইকার সাদিও মানে। এবারের চ্যাম্পিয়ন্স লিগ ফাইনাল শেষেই তিনি ঘোষণা দিয়েছেন, আসন্ন দলবদলে অন্য কোনো ক্লাবে যোগ দেবেন। তিনি নাম লেখাতে পারেন বায়ার্ন মিউনিখে। বাভারিয়ান ক্লাবটি হারাতে পারে রবার্ট লেভানডভস্কিকে, যার সম্ভাব্য গন্তব্য বার্সেলোনা।

এছাড়া ম্যানইউর পল পগবা, হেসে লিনগার্ড, রিয়াল মাদ্রিদের গ্যারেথ বেল, বার্সেলোনার ওসমান দেম্বেলে আছেন দলবদলের আলোচনায়।

ইংল্যান্ড ও ফ্রান্সে গ্রীষ্মকালীন দলবদল ১০ জুন থেকে ১ সেপ্টেম্বর, ইতালিতে ১ জুলাই থেকে ২ সেপ্টেম্বর, জার্মানিতে ১ জুলাই থেকে ১ সেপ্টেম্বর এবং স্পেনে ১ জুলাই থেকে ২ সেপ্টেম্বর। বিবিসি, মার্কা ও মেইল অনলাইন