ডারবানের কিংসমিডে শুক্রবার ৫০ বলে ১০৭ রানের বিস্ফোরক ইনিংস খেলে ভারতকে জিতিয়েছেন সাঞ্জু স্যামসন। তার ব্যাটে ভর করে ভারত ৮ উইকেটে ২০২ রানের সৌধ গড়ে। এরপর ভারতের স্পিনাররা দক্ষিণ আফ্রিকাকে অলআউট করে দেন ১৪১ রানে। ৬১ রানের জয় পাওয়া ভারত আজই সিরিজ নিশ্চিত করে ফেলতে পারে। রাত ৮টায় গেবেরহায় দ্বিতীয় টি-টোয়েন্টি।
গত মাসে হায়দরাবাদে বাংলাদেশের বিপক্ষে ৪৭ বলে ১১১ রানের দানবীয় ইনিংস খেলা সাঞ্জুর ব্যাট আবারো হাসল। প্রথম ভারতীয় ও বিশ্বের চতুর্থ ক্রিকেটার হিসেবে ছেলেদের টি-টোয়েন্টিতে টানা দুটি সেঞ্চুরি করলেন তিনি। এর আগে মাত্র তিনজন—ফ্রান্সের গুস্তাভ মেকিয়ান, দক্ষিণ আফ্রিকার রাইলি রুশো ও ইংল্যান্ডের ফিল সল্ট এ কীর্তি গড়েন।
২৭ বলে ফিফটি করা সাঞ্জু পরের ৫০ রান করেছেন মাত্র ২০ বলে। ৭টি চার ও ১০টি ছক্কায় ইনিংসটি সাজান তিনি। টি-টোয়েন্টিতে টানা দুই ম্যাচে সেঞ্চুরি করার কৃতিত্ব দেখান তিনি। দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে এটা ভারতের হয়ে দ্রুততম টি-টোয়েন্টি সেঞ্চুরি।
ভারতের বেশির ভাগ রানই এসেছে বাউন্ডারি থেকে: ১৭টি চার ও ১৩টি ছক্কা। এর মধ্যে সাঞ্জু একাই মারেন ১০টি ছক্কা। স্পিনে ২৭ বল খেলে ৫৮ রান তুলেছেন তিনি। অধিনায়ক সূর্যকুমার যাদবের সঙ্গে ৩৭ বলে ৬৬ ও তিলক ভার্মার সঙ্গে ৩৪ বলে ৭৭ রানের দুটি বিস্ফোরক জুটি গড়ে ভারতকে রানসৌধ গড়ে দেন সাঞ্জু।
জুলাইয়ে শ্রীলংকার বিপক্ষে ব্যাক-টু-ব্যাক ম্যাচে ‘ডাক’ মারার পরও তার ওপর আস্থা রাখেন অধিনায়ক সূর্যকুমার যাদব ও কোচ গৌতম গম্ভীর। ওই দুজনের ওপর কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে সাঞ্জু বলেন, ‘ব্যর্থতার সেই সময় তারা যেভাবে যোগাযোগ রেখে উৎসাহ জুগিয়েছেন, তা খুবই গুরুত্বপূর্ণ ছিল। খারাপ সময়ে একজন খেলোয়াড় হারিয়েও যেতে পারে। ওই সময় গৌতম ভাই ও সূর্য আমাকে অসংখ্যবার ফোন করে নানা পরামর্শ দিয়েছে। তারা বলেছে, স্পিনে তোমার খেলা বিপজ্জনক দেখাচ্ছিল। কাজেই কেরালার স্পিনারদের খুঁজে নাও এবং এবড়োথেবড়ো উইকেটে তাদের বলে অনুশীলন করো। যখন দুটি ডাকের পরও ভারতীয় দলের অধিনায়ক আপনাকে ফোন করে তখন বুঝতে হবে আপনার ওপর তার আস্থা আছে এবং তিনি চান যে আপনি ভালো করুন। এসব ছোট ছোট জিনিসই বড় ভূমিকা রাখে। আমার ওপর আস্থা রাখায় আমি কৃতজ্ঞ। মনে হয়, আমি টিম ম্যানেজমেন্টকে আস্থার প্রতিদান দিতে পেরেছি।’
সাঞ্জু স্যামসনের ক্যারিয়ারের ‘হিট’-এর চেয়ে ‘মিস’ই বেশি! ২০১৫ সালে ভারতের জার্সিতে অভিষেক হলেও পরের পাঁচ বছরে আর কোনো ম্যাচ খেলেননি। যদিও ঘরোয়া ক্রিকেটে তিনি নিয়মিত পারফর্ম করে গেছেন। কেরালার হয়ে রান করেছেন, আইপিএলে প্রথমে দিল্লি ডেয়ারডেভিলস (এখন নাম দিল্লি ক্যাপিটালস) ও পরে রাজস্থান রয়্যালসের হয়ে দুর্দান্ত পারফর্ম করে গেছেন।
২০২১ সাল থেকে তিনি রাজস্থানের অধিনায়কও। যদিও ভারতীয় দলে সুযোগ মেলে কদাচিৎ। সুযোগ এলেও তিনি নিজেকে মেলে ধরতে ব্যর্থ হয়েছেন। নিজেকে নিয়ে সংশয়ের কথা তিনি স্বীকারও করেছেন।
সাঞ্জু বলেন, ‘আমার ক্যারিয়ারে সাফল্যের চেয়ে ব্যর্থতাই বেশি। যখন এমন ব্যর্থতার মধ্য দিয়ে যাবেন তখন নিজের ওপর আপনার সংশয় তৈরি হবে। মানুষ যখন এ নিয়ে কথা বলতে শুরু করে তখন আপনিও ভাবতে শুরু করবেন। সাঞ্জু, তুমি তো আইপিএলে ভালো করো, তাহলে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে কী হয়? কিন্তু অনেক বছরের অভিজ্ঞতা থেকে বুঝি, আমার সামর্থ্য কতটা। উইকেটে কিছুটা সময় থাকতে পারলে জানি, স্পিন ও পেস বলে আমার শট খেলার সক্ষমতা আছে। আমি জানি, দলে অবদান রাখতে ও দলকে জেতাতে পারি।’










