সম্প্রতি দক্ষিণ আফ্রিকা সফরে দুই টেস্টেই ধরাশায়ী হয় বাংলাদেশ। এবার ঘরের মাঠে শ্রীলংকার কাছে ১-০তে সিরিজ পরাজয়। টেস্ট দলের টানা ব্যর্থতায় কাঠগড়ায় ওঠেন অধিনায়ক মুমিনুল হক। সঙ্গে নিজের ব্যাটিং নিয়েও সামলোচনার মুখে পড়েন তিনি। এমন পরিস্থিতিতে জাতীয় দলের নেতৃত্ব আর করতে চান না মুমিনুল। আজ মঙ্গলবার বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি) প্রেসিডেন্ট নাজমুল হাসান পাপনের সঙ্গে তার বাসায় বৈঠকে এ কথা জানিয়েছেন এই ক্রিকেটার।
পাপনের সঙ্গে বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের মুমিনুল
বলেন, আমি শুধু বলেছি যে
অধিনায়ক হিসেবে দলে অবদান রাখতে পারছি না। আমার মনে হয়, এ মুহূর্তে
আর কাউকে দায়িত্ব দেয়া উচিত। আমি আমার কথা বলে এসেছি, এখন ওনাদের
ব্যাপারে কী সিদ্ধান্ত নেয়। আপাতত আমি চাচ্ছি ব্যাটিংয়ে মনোযোগ দিতে। তা আমার
জন্যই ভালো। সামনেই বোর্ড মিটিং, ওনারা
সিদ্ধান্ত নেবেন।
শ্রীলংকার বিপক্ষে মিরপুর টেস্টে প্রথম ইনিংসে ২৫ রানে ৫টি ও দ্বিতীয় ইনিংসে ২৩ রানে ৪টি উইকেটের পতন ঘটে বাংলাদেশের। দলের এমন পারফরম্যান্সে প্রচণ্ড চাপ তৈরি হয় নেতৃত্বের ওপর। সাকিব আল হাসান ও কোচ রাসেল ডোমিঙ্গো দুঃসময়ে মুমিনুলের পাশে থেকে তার প্রতি সমর্থন দেন। যদিও এর দুদিন পর বোর্ড পরিচালক খালেদ মাহমুদ সুজন আর ক্রিকেট অপারেশন্স পরিচালক জালাল ইউনুসের কথায় এমন সুর ছিল যে, মুমিনুলের সরে যাওয়া উচিত।
শ্রীলংকা সিরিজ শেষে মুমিনুলের সঙ্গে সংক্ষিপ্ত বৈঠক হয় পাপনের। এরপর তিনি আইপিএল ফাইনাল দেখতে ভারত যান। সেখান থেকে ফেরার পর কাল আবার মুমিনুলের কথা শোনেন। সেখানেই টেস্ট দলনায়ক নেতৃত্ব থেকে সরে দাঁড়ানোর ইচ্ছা প্রকাশ করেন।
মুমিনুলের নেতৃত্বে এখন পর্যন্ত ১৭টি টেস্ট খেলেছে বাংলাদেশ, এর মধ্যে তিনটিতে জিতেছে টাইগাররা, হেরেছে ১২টি, আর ড্র হয়েছে দুটি ম্যাচ। গত জানুয়ারিতে নিউজিল্যান্ডের মাটিতে ঐতিহাসিক টেস্ট সিরিজ জয় এসেছে মুমিনুলের নেতৃত্বে। যদিও এরপর পাঁচ টেস্টের চারটিতেই বাজেভাবে হেরেছে দল।
বৃহস্পতিবার বোর্ড সভায়
মুমিনুলের ব্যাপারে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেয়া হবে এবং তার জায়গায় হয়তো আসছেন নতুন
অধিনায়ক। তার জায়গায় সাকিবের আসার জোর সম্ভাবনা রয়েছে বলে বিভিন্ন সূত্র
জানিয়েছেন। তার মানে, নতুন অধিনায়কের নেতৃত্বেই
জুনে ওয়েস্ট ইন্ডিজ সফরে টেস্ট খেলতে যাচ্ছে বাংলাদেশ।










