২০ নভেম্বর কাতারে শুরু হবে ফিফা বিশ্বকাপ ২০২২। অংশগ্রহণকারী ৩২ দলের খেলোয়াড়দের এ সময় জাতীয় দলের সঙ্গেই অনুশীলনে থাকার কথা যাতে তারা কন্ডিশনের সঙ্গে মানিয়ে নিতে পারেন কিংবা কোচের কৌশলও রপ্ত করতে পারেন। কিন্তু এখনো অধিকাংশ ফুটবলার নিজ নিজ ক্লাবের হয়ে ঘরোয়া লিগ নিয়ে ব্যস্ত! এমনকি আজও আছে লিগের খেলা। তার মানে, ইউরোপের লিগ শেষ হওয়ার মাত্র ছয়দিন পরই ফুটবলের মহাযজ্ঞ শুরু। শেষ মুহূর্তে খেলোয়াড়দের লিগে খেলতে হচ্ছে বলে ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে ফুটবলারদের বৈশ্বিক ইউনিয়ন ফিফপ্রো। তারা মনে করে, লিগের এই ঠাসা সূচি ফুটবলারদের জন্য ‘সহ্যের সীমা ছাড়ানো’
পর্যায়ে চলে গেছে।
শুক্রবার এক বিবৃতিতে ফিফপ্রো বলেছে, কাজের অতিরিক্ত চাপ খেলোয়াড়দের শারীরিক ও মানসিকভাবে ক্ষতির মুখে ফেলছে, যা তাদের ক্যারিয়ারের আয়ুকেই ঝুঁকিপূর্ণ করে তুলছে।
ইউরোপের ফুটবলে সম্প্রতি যোগ হয়েছে নেশনস লিগ ও ইউরোপা কনফারেন্স লিগ। এগুলো সূচিকে আরো ব্যস্ত করে তুলেছে। সব মিলিয়ে খেলোয়াড়দের কাজের চাপ নিয়ে ফিফপ্রোর একটি প্রতিবেদন প্রকাশিত হবে এ সপ্তাহে। তাতে উঠে আসবে কীভাবে এ চাপ ও ব্যস্ত সূচি ২০২২ বিশ্বকাপের ওপর প্রভাব ফেলবে।
ফিফপ্রোর প্রতিবেদনে দেখানো হয়েছে, টটেনহামের দক্ষিণ কোরিয়ার তারকা সন হিউং-মিন অক্টোবরে প্রায় ৬০০ মিনিট খেলেছেন, প্রতি তিন-চারদিনে একটি ম্যাচ খেলেছেন। এছাড়া বলা হয়েছে, এ মৌসুম শুরুর পর থেকে এখন পর্যন্ত ক্লাব ও দেশের হয়ে ১ লাখ ৪৬ হাজার কিলোমিটার ভ্রমণ করেছেন এবং ১৩২টি টাইম জোন অতিক্রম করেছেন।
গত ১ নভেম্বর মার্সেইয়ের বিপক্ষে চ্যাম্পিয়ন্স লিগ ম্যাচ খেলার সময় অক্ষিকোটরের হাড় ভেঙে যায় তার। এই চোটে তার বিশ্বকাপ অংশগ্রহণই এখন অনিশ্চিত।
প্রতিবেদনে আরো বলা হয়েছে, সেনেগালিজ ফরোয়ার্ড সাদিও মানের কথা, যিনি গত মৌসুমের শুরু থেকে এখন পর্যন্ত লিভারপুল ও বায়ার্নের হয়ে ৯৩ ম্যাচ খেলেছেন। গত বুধবার ভেরডার ব্রেমেনের বিপক্ষে তিনি ইনজুরিতে পড়েন, যা তার বিশ্বকাপ অনিশ্চিত করে তুলেছে। যদিও মানেকে স্কোয়াডে রেখেছেন সেনেগাল কোচ।
ফিফপ্রোর জেনারেল সেক্রেটারি জোনাস বায়ের-হফম্যান বলেন, কিছু কিছু খেলোয়াড়ের কথা থেকেই বোঝা যায় বিষয়টি নিয়ে কতটা উদ্বিগ্ন তারা এবং ড্রেসিংরুমের হিসেবে এটি আরো অনেক অনেক বেশি, কেননা অনেকেই প্রকাশ্যে কথা বলে না।
লিগে ইনজুরিতে পড়ে বিশ্বকাপ অনিশ্চিত হয়ে পড়ার শঙ্কা যেমন রয়েছে, তেমনি বিশ্বকাপ খেলার পর ধকল ও চোট থেকে সেরে ওঠার মতো যথেষ্ট সময় নেই বলেও সমালোচনা উঠছে। ১৮ ডিসেম্বর ফাইনাল শেষ হওয়ার দুদিন পরই ইংলিশ কারাবাও কাপের চতুর্থ রাউন্ড শুরু হবে। আর প্রিমিয়ার লিগ মাঠে ফিরবে ২৬ ডিসেম্বর।










