গত ৫ আগস্ট রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর কয়েক দফায় বদলে দেয়া হয়েছে দেশের অনেক ক্রীড়া স্থাপনার নাম। সর্বশেষ চট্টগ্রামের জহুর আহমেদ চৌধুরী স্টেডিয়ামের নাম বদলে রাখা হয়েছে বীরশ্রেষ্ঠ শহীদ ফ্লাইট লে. মতিউর রহমান ক্রিকেট স্টেডিয়াম। এছাড়া নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লায় খান সাহেব ওসমান আলী ক্রিকেট স্টেডিয়ামের নাম এখন থেকে শহীদ রিয়া গোপ ক্রিকেট স্টেডিয়াম। গত বছর গণ-আন্দোলন চলাকালে বাসার বারান্দায় খেলার সময় গুলিতে নিহত হয় নারায়ণগঞ্জের ছয় বছরের শিশু রিয়া গোপ। তার স্মরণেই বদলানো হয়েছে সবশেষ ২০১৫ সালে টেস্ট আয়োজন করা ফতুল্লা স্টেডিয়ামের নাম।

গতকাল জাতীয় ক্রীড়া পরিষদের (এনএসসি) সচিব আমিনুল ইসলাম স্বাক্ষরিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে দুটি স্টেডিয়ামের নাম পরিবর্তনের কথা জানানো হয়েছে। এদিন বিভাগীয়, জেলা ও উপজেলা পর্যায় মিলিয়ে মোট ২০টি ক্রীড়া স্থাপনার নাম বদলেছে এনএসসি। বিভাগীয় পর্যায়ে রাজশাহীর শহীদ কামারুজ্জামান স্টেডিয়ামের নাম বদলে রাখা হয়েছে বিভাগীয় ক্রিকেট স্টেডিয়াম।

এর আগে গত মাসে বঙ্গবন্ধু জাতীয় স্টেডিয়ামের নাম পরিবর্তন করে জাতীয় স্টেডিয়াম, ঢাকা রাখা হয়। চলতি মাসে পূর্বাচলে নির্মাণাধীন শেখ হাসিনা আন্তর্জাতিক ক্রিকেট স্টেডিয়ামের নাম বদলে ন্যাশনাল ক্রিকেট গ্রাউন্ড (এনসিজি) রাখার সিদ্ধান্ত নেয় বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড।

মুসলিম লীগের রাজনীতি করা জহুর আহমেদ চৌধুরী বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের প্রতিষ্ঠাকালীন সদস্য ছিলেন। মুক্তিযুদ্ধে অবদানের জন্য ২০০১ সালে মরণোত্তর স্বাধীনতা পুরস্কারে ভূষিত হন চট্টগ্রামের এ রাজনীতিবিদ। আর মোহাম্মদ ওসমান আলী ১৯৪২ থেকে ১৯৪৭ পর্যন্ত মুসলিম লীগের নারায়ণগঞ্জ শাখার সভাপতি ছিলেন। ১৯৪৯ সালে আওয়ামী মুসলিম লীগ প্রতিষ্ঠায় সহায়তা করেন। ভাষা আন্দোলন, ছয় দফা আন্দোলন, অসহযোগ আন্দোলনেও ভূমিকা রাখেন তিনি। ২০১১ সালে মরণোত্তর স্বাধীনতা পুরস্কার পান তিনি।