সুযোগ ছিল এবার কোয়াড্রাপল বা চারটি শিরোপা জয়ের। কিন্তু প্রিমিয়ার লিগে মৌসুমের একেবারে শেষ রাউন্ডে গিয়ে ম্যানচেস্টার সিটির কাছে হার মানে ইয়ুর্গেন ক্লোপের দল। ব্যবধান ছিল মাত্র দুই পয়েন্টের। এরপরও মাথা উঁচু করে মৌসুম শেষ করার সুযোগ রয়েছে অল রেডদের। সেজন্য আগামীকাল শনিবার প্যারিসে জিততে হবে চ্যাম্পিয়নস লিগ মুকুট। সামনে বাধা চ্যাম্পিয়নস লিগের ইতিহাসে সবচেয়ে বেশি ১৩ বারের চ্যাম্পিয়ন রিয়াল মাদ্রিদ। ম্যাচটি শুরু হবে বাংলাদেশ সময় রাত ১টায়।
এরই মধ্যে কারাবাও কাপ ও এফএ কাপ শিরোপা
জিতে নিয়েছে লিভারপুল। দুটিতেই তারা তুমুল লড়াই শেষে টাইব্রেকারে হারায় চেলসিকে।
যদিও লিগ শিরোপার রেসে তারা অল্পের জন্য ম্যানসিটির কাছে হার মানে। এবার মহাদেশীয়
শ্রেষ্ঠত্বের লড়াই তাদের। এই ম্যাচে ২০১৮ সালের ফাইনালে হারের প্রতিশোধ নিতে চান
লিভারপুল খেলোয়াড়রা। যদিও দলটির জার্মান কোচ ইয়ুর্গেন ক্লোপ খেলায় প্রতিশোধের বিষয়
দেখেন না।
রিয়ালকে ফাইনালে পেয়েই লিভারপুল ফরোয়ার্ড
মোহাম্মদ সালাহ ঘোষণা দেন, এবার তারা
প্রতিশোধ নিতে চান। এবার গোলকিপার আদ্রিয়ানও প্রতিশোধের কথা বলেছেন। প্রতিশোধ
প্রশ্নে ক্লোপ সংবাদ সম্মেলনে বললেন, আমি
প্রতিশোধে বিশ্বাস করি না। আমি যেটা বুঝি, প্রতিশোধ
ভালো কোনো চিন্তা হতে পারে না। আমার মনে হয়, সালাহ যা
বলেছে, সে এবার কাজটি ঠিকঠাক
করতে চায় এবং আমারও চাওয়া সেটি। আমরা যদি জিতিও, তবে তা
২০১৮ সালের কারণে নয় মোটেও।
ইউরোপে ১৩ বার মুুকুট জয় করেছে রিয়াল, আর লিভারপুল মহাদেশের শ্রেষ্ঠত্ব পেয়েছে
ছয়বার। ২০১৮ সালের ফাইনালে লিভারপুলকে ৩-১ গোলে হারিয়ে ১৩তম শিরোপা জিতে নেয় রিয়াল
মাদ্রিদ। পরের বছরই অবশ্য শিরোপার স্বাদ পায় ক্লোপের দল। গত বছর চ্যাম্পিয়নস লিগ
শিরোপা জিতেছে ইংলিশ দল চেলসি। তারা হারিয়েছিল ম্যানসিটিকে। আরেকবার ইংলিশ কোনো
দলের চ্যাম্পিয়নস লিগ জয়ের সুযোগ তৈরি হয়েছে। যদিও এজন্য তাদের রিয়ালের মতো
পরাশক্তিকে হারাতে হবে প্যারিস ফাইনালে।
রিয়াল কোচ কার্লো অ্যানচেলত্তি বলেছেন, তার দলের সাফল্যের নেপথে রয়েছে খেলোয়াড়দের নম্রতা। এই দলের অনেকেরই রয়েছে চারটি চ্যাম্পিয়নস লিগ জয়ের রেকর্ড। তবু তাদের কেউই এ নিয়ে খুব অহমিকা দেখাননি। তবে তাদের আকাঙ্ক্ষার কোনো ঘাটতিও নেই। ক্রিস্টিয়ানো রোনালদোর মতো মহাতারকার বিদায়ের পরও দলটি অবিশ্বাস্য সাফল্য পাচ্ছে। খেলোয়াড়দের মধ্যকার ঐক্যই শক্তিতে রূপ নিচ্ছে বলে মনে করেন কোচ এবং তারা একটি ‘দল’ হিসেবে পারফর্ম করে ফাইনালে জায়গা করে নিয়েছে।
একদিকে মোহাম্মদ সালাহ ও সাদিও মানে, অন্যদিকে করিম বেনজেমা ও ভিনিসিয়ুস জুনিয়র।
এই চারজন দুই দলের তুরুপের তাস। এরা ছাড়াও দুই দলে আরো একঝাঁক খেলোয়াড় রয়েছেন যারা
ম্যাচে ব্যবধান গড়ে দিতে পারেন।
লিভারপুলের স্প্যানিশ গোলকিপার আদ্রিয়ান নিজ
দেশের ক্লাব রিয়াল মাদ্রিদের বিপক্ষে ২০১৮ সালের ৩-১ গোলে হারের প্রতিশোধ নিতে
চান। তিনি বলেন, প্রতিশোধের
আকাঙ্ক্ষা আমাদের সবার মধ্যে। আমি তো কিয়েভ ফাইনালের পরপর এসেছি (লিভারপুলে), কিন্তু
এরপরও আপনার মধ্যে আকাঙ্ক্ষা আসবে, কারণ
খেলাটিই এমন। সালাহ ওই ম্যাচে ভয়াবহ চোটে পড়ে এবং সে এবার ফাইনাল জিততে মরিয়া। তার
চোট নিয়ে খানিকটা অস্বস্তি ছিল, যদিও সে
নিজেকে তৈরি করেছে। অতীতের যেকোনো সময়ের চেয়ে বেশি তৈরি সে এবং ভয়ংকর ফর্মে রয়েছে।
অবশ্য ২০১৮ সালের ফাইনালের পরও তাদের দেখা
হয়েছে। গত আসরের কোয়ার্টার ফাইনালে লিভারপুলকে বিদায় করে দেয় রিয়াল। আবার
সেমিফাইনালে গিয়ে মাদ্রিদ জায়ান্টরা হেরে যায় চেলসির কাছে, যারা শেষ পর্যন্ত চ্যাম্পিয়ন হয়।
আদ্রিয়ানের মতো লিভারপুলের স্কোয়াডটি
বিশ্বের মধ্যে সবচেয়ে প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ। নিজেদের সেরা ফরোয়ার্ড কিনা? এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেছেন, কেবল বিশ্বের সেরা ফরোয়ার্ডই নয়, আমাদের সবচেয়ে প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ
স্কোয়াড। গত তিন বছরে আমরা প্রিমিয়ার লিগ, চ্যাম্পিয়নস
লিগ ও ক্লাব বিশ্বকাপ জিতেছি এবং এটি আমাদের শক্তির গভীরতার কথাই বলে। আক্রমণভাগে
আমাদের অবশ্যই ডিনামাইট আছে, এটাই
আমাদের শক্তির সবচেয়ে বড় জায়গা।
লিভারপুল আক্রমণভাগে দিয়েগো জোতা, লুইস দিয়াজ যোগ দেবেন মানে, সালাহ ও রবার্তো ফিরমিনোর সঙ্গে। এছাড়া
বেঞ্চে তৈরি থাকবেন ডিভোক ওরিগি, তাকুমি
মিনামিনো।
এরপর রিয়ালকে ফেভারিট মানছেন তিনি। কারণও
তিনি বললেন, ইতিহাস ও
শিরোপার সংখ্যা বিবেচনায় রিয়াল মাদ্রিদ ফেভারিট। তাদেরই সবচেয়ে বেশি ইউরোপিয়ান
শিরোপা রয়েছে। দুটি সেরা দল মুখোমুখি হচ্ছে এবং দুটিই এ মুহূর্তে সেরা ফর্মে। তবে
আমি মনে করি, চাপটা
তাদের ওপরই বেশি থাকবে।
বিবিসি ও মার্কা










