এ বছর আফ্রিকান নেশন্স কাপ জয়ের পর এবার ২৩তম ফিফা বিশ্বকাপে সবার আগে জায়গা করে নিল কোয়ার্টার ফাইনালে। গতকাল রাতে যুক্তরাষ্ট্রের হিউস্টনে শেষ ষোলোর প্রথম ম্যাচে সহস্বাগতিক কানাডাকে ৩-০ গোলে হারিয়ে দেয় ফুটবলের নতুন শক্তি মরক্কো।
এর মধ্য দিয়ে আফ্রিকার ইতিহাসে প্রথম দল হিসেবে দুটি বিশ্বকাপের কোয়ার্টার ফাইনালে ওঠার কৃতিত্ব দেখাল মরক্কো। গত বিশ্বকাপে সেমিফাইনালে ফ্রান্সের কাছে হেরে যান আশরাফ হাকিমিরা।
আজ্জেদিন উনাহির জোড়া গোল মরক্কোকে এনে দেয় শেষ আটের টিকিট। যোগ করা সময়ে সুফিয়ান রহিমি দলের হয়ে তৃতীয় গোল করেন। ‘আটলাস লায়ন্স’রা এদিন নিজেদের সেরা ফর্মে না থাকলেও সুযোগ কাজে লাগিয়ে কাঙ্ক্ষিত জয় তুলে নেয়।
ম্যাচের প্রথম ৪৫ মিনিট চেষ্টা করেও গোলের দেখা পায়নি দুই দল। এ সময় বলের দখলে মরক্কো এগিয়ে থাকলেও সুযোগ বেশি তৈরি করে কানাডা। বিরতির পর ডেডলক ভাঙে মরক্কো। ৫০ মিনিটে আশরাফ হাকিমির পাস থেকে উনাহি এগিয়ে দেন মরক্কোকে। বক্সের ডান প্রান্তে হাকিমি ফ্রিকিক থেকে সরাসরি শট না নিয়ে বল পাঠান বক্সের কাছাকাছি থাকা উনাহিকে, যিনি মাটি কামড়ানো শটে বল জালে জড়ান।
এরপর রিয়াল মাদ্রিদ তারকা ব্রাহিম ডিয়াজের ম্যাজিক। তার কৃতিত্বে পরের দুটি গোল পায় মরক্কো। ৮২ মিনিটে ডিয়াজের পাস থেকে ব্যবধান ২-০ করে দেন উনাহি। থ্রু পাস থেকে বল পেয়ে ডিয়াজ সামনে এগিয়ে গিয়ে বল বাড়িয়ে দেন উনাহিকে, যিনি বিন্দুমাত্র ভুল না করে জোরালো শটে নিজের ও দলের দ্বিতীয় গোলটি করেন।
ম্যাচের ৯৮ মিনিটে রহিমির করা তৃতীয় ও শেষ গোলটিও আসে তার অ্যাসিস্ট থেকে। দারুণ ফিনিশিংয়ে গোলটি করেন তিনি।
প্রথমার্ধে মরক্কো তাদের স্বভাবসুলভ গতিময় খেলার তুলনায় বেশ ধীরগতির ফুটবল খেলে। এ অর্ধে কানাডা বেশকিছু সুযোগ তৈরি করলেও গোল আদায় করে নিতে পারেনি। তারা যখন গোলের জন্য মরিয়া হয়ে খেলতে থাকে ততক্ষণে অনেক দেরি হয়ে যায়। মরক্কোর ডিফেন্স শেষ দিকে গোলবার অক্ষত রাখতে সমর্থ হয়। সমতায় ফিরতে মরিয়া কানাডা ৭৮ মিনিটে দুজন ও ৮৭ মিনিটে দুজন এবং ৬৩ মিনিটে একজন খেলোয়াড়কে পরিবর্তন করে। এর সুফল তারা পায়নি, উল্টো ৮২ মিনিটে সেই সুযোগই কাজে লাগায় মরক্কো। বল দখলে নিয়েই দ্রুত পাল্টা আক্রমণে গিয়ে গোল আদায় করে নেয়।
গতকাল রাত ৩টায় শেষ ষোলোর ম্যাচে মুখোমুখি হয় ফ্রান্স ও প্যারাগুয়ে। এ ম্যাচের বিজয়ী দলের বিপক্ষে বোস্টনে ৯ জুলাই রাত ২টায় কোয়ার্টার ফাইনাল খেলবে মরক্কো।










