সমন্বিত হেভিওয়েট শিরোপা পুনরুদ্ধারের মিশন সফল হলো না ব্রিটিশ বক্সার অ্যান্থনি জসুয়ার। সৌদি আরবের জেদ্দায় শনিবার রাতের লড়াইয়ে বিচারকদের বিভক্ত সিদ্ধান্তে তাকে হারিয়েছেন ইউক্রেনের বক্সার আলেকসান্দর ইউসিক।
এ নিয়ে ব্যাক-টু-ব্যাক লড়াইয়ে জসুয়াকে হারানোর কৃতিত্ব দেখালেন
৩৫ বছর বয়সী ইউসিক। গত বছর সেপ্টেম্বরে টটেনহাম হটস্পার্স স্টেডিয়ামের জসুয়াকে
সর্বসম্মত সিদ্ধান্তে হারিয়েছিল তিনি। এবার সেই হারের প্রতিশোধ নেয়ার লক্ষ্যে
জেদ্দায় খেলতে নেমেছিলেন ৩২ বছর বয়সী ব্রিটিশ তারকা। যদিও এবারো ফল একই—তিনি পরাজিত।
এই দুই তারকার লড়াই সামনে রেখে লোহিত সাগর তীরবর্তী জেদ্দা সরগরম হয়ে
ওঠে। এবার জসুয়াও ছিলেন বেশ উজ্জীবিত। গতবারের চেয়ে এদিন বেশ উন্নতি করেন তিনি, রিংয়ে ছিলেন
অনেক আগ্রাসী। যদিও ইউক্রেনিয়ানের মেধা ও প্রজ্ঞার কাছে তাকে হার মানতে হয়েছে। নবম
রাউন্ড ছিল জসুয়ার সেরা রাউন্ড। এ সময় তিনি ইউসিককে ভূপাতিত করেন। যদিও
ইউক্রেনিয়ান বক্সার দশম রাউন্ডে প্রবল বিক্রমে ফিরে এসে উপুর্যপুরি ঘুষিতে কুপোকাত
করেন জসুয়াকে।
দুজন বিচারক ১১৫-১১৩ এবং ১১৬-১১২ স্কোর দিয়েছেন ইউসিকের পক্ষে, অন্যদিকে এক
বিচারক জসুয়াকে ১১৫-১১৩ পয়েন্টে এগিয়ে রাখেন। দুজনের কিছু কিছু রাউন্ডে
হাড্ডাহাড্ডি লড়াই হয়। যদিও যোগ্যতম খেলোয়াড় হিসেবে ইউসিকই জয়লাভ করেন।
ম্যাচ শেষে জসুয়ার আচরণ হতাশ করে সবাইকে। তিনি ইউসিকের দুটি বেল্ট তুলে নিয়ে রিংয়ের বাইরে ফেলে দেন এবং দ্রুতলয়ে ড্রেসিংরুমের দিকে হেঁটে যান। যদিও কিছুক্ষণ পর ফিরে এসে সেগুলোকে রিংয়ের মধ্যে রাখেন এবং আবেগঘন বক্তব্য দেন।
তিনি বলেন, ওটা ছিল স্রেফ আবেগ। ইউসিক ভয়ানক এক যোদ্ধা। আপনারা যদি আমার গল্প জানেন, তবে এই আবেগের বিষয়টি বুঝতে পারবেন। আমি তো আর অপেশাদার বক্সার নই। আমি জেলে যাচ্ছিলাম এবং জামিন পাই ও এরপর অনুশীলন শুরু করি। এ কারণেই আবেগটা দেখতে পেয়েছেন। কিন্তু যে লোকটি আজ আমাকে হারাল, যে কতটা কঠোর পরিশ্রম করেছে, নিশ্চয়ই তার ফল পেয়েছে। বিশ্বের হেভিওয়েট চ্যাম্পিয়ন হিসেবে তাকে সবার অভিনন্দন জানানো উচিত সবার।
গত বছর লন্ডনে ডাব্লিউবিএ (সুপার), ডাব্লিউবিও এবং আইবিএফ শিরোপা জয় করেন
ইউসিক। সেই শিরোপাগুলো এবার ধরে রাখলেন তিনি।
রাশিয়ার আক্রমণে বিধ্বস্ত, বিপর্যস্ত ইউক্রেনের এই বক্সার জয় শেষে বলেন, এই জয় আমি
উত্সর্গ করছি আমার পরিবার, আমার দেশ, আমার টিম আর আমার দেশকে রক্ষায় যেসব
সেনারা যুদ্ধ করছে তাদের প্রতি। আপনাদের সবাইকে অনেক অনেক ধন্যবাদ।










