দুবাই ইন্টারন্যাশনাল ক্রিকেট স্টেডিয়ামে আজ নবম আইসিসি চ্যাম্পিয়নস ট্রফির ফাইনালে মুখোমুখি হবে ভারত ও নিউজিল্যান্ড। চ্যাম্পিয়নস ট্রফিতে ভারত তৃতীয় ও নিউজিল্যান্ড দ্বিতীয় শিরোপার আশায় খেলবে। শিরোপা নির্ধারণী এ লড়াই শুরু হবে বাংলাদেশ সময় বেলা ৩টায়।
এবারের আসরের মূল আয়োজক পাকিস্তান হলেও ভারতীয় ক্রিকেট দল পাকিস্তানে খেলতে যেতে চায়নি বলে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট কাউন্সিল (আইসিসি) ‘হাইব্রিড’ মডেলে এবারের আসরটি আয়োজন করতে বাধ্য হয়। ভারত তাদের সব ম্যাচই সংযুক্ত আরব আমিরাতের দুবাইয়ে খেলবে বলে সিদ্ধান্ত হয়। এরই মধ্যে গ্রুপ পর্বের তিনটি ও সেমিফাইনালসহ চারটি ম্যাচ দুবাইয়ে খেলেছে রোহিত শর্মার দল। আজ ফাইনালও সেই একই ভেন্যুতে। এবারো কি ফল তাদের পক্ষেই যাচ্ছে?
ফাইনালে ওঠার পথে গ্রুপ পর্বে বাংলাদেশ ও পাকিস্তানকে ৬ উইকেটে এবং নিউজিল্যান্ডকে ৪৪ রানে হারিয়ে দেয় ভারত। এরপর সেমিফাইনালে তারা অস্ট্রেলিয়াকে হারায় ৪ উইকেটে। অন্যদিকে গ্রুপ পর্বে পাকিস্তানকে ৬০ রানে ও বাংলাদেশকে ৫ উইকেটে হারায় নিউজিল্যান্ড। দুবাইয়ে গ্রুপের শেষ ম্যাচে তারা হেরে যায় ভারতের কাছে। আজ আবারো সেই মাঠে ভারতের মুখোমুখি কিউইরা। কেন উইলিয়ামসনরা কি টানা দ্বিতীয়বারের মতো হারবেন, না হারাবেন প্রতিপক্ষকে?
আইসিসি আসরে সেরা দলগুলোর মধ্যে থাকবে ভারত ও নিউজিল্যান্ড। জয়ের দিক থেকে সবার ওপরে ভারত, যুগ্মভাবে তিনে নিউজিল্যান্ড। ভারত ৮৬ ম্যাচ খেলে ৭০টি জয় তুলে নিয়েছে, আর নিউজিল্যান্ড ৭৭ ম্যাচ খেলে জিতেছে ৪৫টি। ৭৭টি ম্যাচ খেলে অস্ট্রেলিয়া ৪৯টি জিতে দুইয়ে অবস্থান করছে। আর দক্ষিণ আফ্রিকা ৪৫টি জয় নিয়ে দক্ষিণ আফ্রিকার সঙ্গে যুগ্মভাবে তিনে অবস্থান করছে। ৮০ ম্যাচ খেলে ৪১টি জয় নিয়ে এর পরেই ইংল্যান্ড।

সবচেয়ে ধারাবাহিক দল ভারত। ২০১১ থেকে শুরু করে টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপসহ মোট ১৪টি আইসিসি আসর অনুষ্ঠিত হয়েছে। এর মধ্যে ২০১২ ও ২০২১ সালের টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ ছাড়া বাকি ১২টিতে নকআউট পর্বে উঠেছে ভারত। তারা সেমিফাইনালে চারবার হেরেছে, রানার্সআপ হয়েছে পাঁচবার, চ্যাম্পিয়ন তিনবার।
একই সময় নিউজিল্যান্ড নকআউট পর্বে উঠেছে মোট আটবার। এর মধ্যে চারবার সেমিফাইনাল খেলে তিনবার রানার্সআপ হয়েছে কিউইরা। ২০১৫ ও ২০১৯ সালের ওয়ানডে বিশ্বকাপ ফাইনালে এবং ২০২১ সালের টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ ফাইনাল কিউইরা হেরেছে। ২০২১ সালের আইসিসি টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপ ফাইনালে ভারতকে হারিয়ে শিরোপা উদযাপন করে ব্ল্যাক ক্যাপসরা। এ সময়ের মধ্যে ভারত ও নিউজিল্যান্ডের চেয়ে বেশিবার সেমিফাইনাল খেলেনি কোনো দেশ। তারা উভয়ই সর্বোচ্চ চারবার করে সেমিফাইনাল খেলেছে। দক্ষিণ আফ্রিকাও খেলেছে চারবার। এছাড়া ইংল্যান্ড তিনবার ও অস্ট্রেলিয়া দুবার সেমিফাইনাল খেলেছে।
২০১১ সালের পর সাদা বলের টুর্নামেন্টে মোট পাঁচবার গ্রুপ পর্বে কোনো ম্যাচ না হেরে নকআউট পর্বে উঠেছে ভারত। এর মধ্যে দুবার অপরাজিত চ্যাম্পিয়ন হয়েছে তারা—২০১৩ সালের আইসিসি চ্যাম্পিয়নস ট্রফি ও ২০২৪ সালের টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ। নিউজিল্যান্ড ২০১৫ সালের ওয়ানডে বিশ্বকাপ ও ২০১৬ সালের টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ নকআউট পর্বে অপরাজিত থাকার গৌরব অর্জন করে।
২০১১ থেকে ওয়ানডে বিশ্বকাপ ও চ্যাম্পিয়নস ট্রফির গ্রুপ পর্বে মোট ৩৮টি ম্যাচ খেলেছে ভারত, যার মধ্যে তারা মাত্র তিনটিতে হেরেছে, ‘টাই’ করে একটিতে। ৩৭ ম্যাচে ২৩ জয় নিয়ে তাদের পরেই অস্ট্রেলিয়া। ১৪ জয়ের পর সর্বশেষ ২০১৯ সালের বিশ্বকাপে তারা হেরেছে ইংল্যান্ডের কাছে।
ব্যক্তিগত পারফরম্যান্সে আইসিসি আসরে ভারতের দুই উজ্জ্বলতম তারকা হলেন বিরাট কোহলি ও রোহিত শর্মা। কোহলি রেকর্ড তিনটি আইসিসি টুর্নামেন্টের সেরা খেলোয়াড় হয়েছেন। ২০১৪ ও ২০১৬ সালের টি-টোয়েন্টি ও ২০২৩ সালের ওয়ানডে বিশ্বকাপে ‘প্লেয়ার অব দ্য টুর্নামেন্ট’ হওয়ার গৌরব অর্জন করেন ওয়ানডে ক্রিকেটে সবচেয়ে বেশি সেঞ্চুরি ও তৃতীয় সর্বোচ্চ রানের মালিক কোহলি। ২০২৩ বিশ্বকাপে তিনি করেছেন ৭৬৫ রান, যা এ টুর্নামেন্টের ইতিহাসে সর্বোচ্চ। টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে সর্বোচ্চ ১ হাজার ২৯২ রান করেছেন তিনি। ১ হাজার ২২০ রান করে তার পরেই রোহিত শর্মা। এছাড়া চ্যাম্পিয়নস ট্রফির ইতিহাসে সর্বোচ্চ রান সংগ্রাহক ক্রিস গেইলের চেয়ে মাত্র ৪৫ রান দূরে তিনি।
ওয়ানডে বিশ্বকাপে রেকর্ড সাতটি সেঞ্চুরি রোহিত শর্মার, যা গত আসরগুলোয় ভারতের সাফল্যের পেছনে মূল্যবান অবদান রেখেছে। এর মধ্যে আবার পাঁচটিই করেছেন ২০১৯ সালের বিশ্বকাপে। এক আসরে পাঁচটি সেঞ্চুরি রোহিত ছাড়া আর কারো নেই। টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে ভারতের হয়ে সর্বোচ্চ ৫০টি ছক্কা মেরেছেন রোহিত। টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে সর্বোচ্চ ৬৩টি ছক্কার রেকর্ডটা ক্রিস গেইলের।
আইসিসি চ্যাম্পিয়নস ট্রফিতে ভারতের হয়ে সর্বোচ্চ ২০ উইকেট শিকার করেছেন স্পিনার রবীন্দ্র জাদেজা। ২০১৩ সালে শিরোপা জয়ের পথে তিনি টুর্নামেন্টসেরা খেলোয়াড় হওয়ার গৌরব অর্জন করেন। সবচেয়ে বেশি উইকেট নিয়ে পেয়েছিলেন ‘গোল্ডেন বল’ও। ২০২৩ সালের ওয়ানডে বিশ্বকাপে ২৪ উইকেট শিকার করেন মোহাম্মদ শামি, যা আইসিসি আসরে ভারতের হয়ে রেকর্ড। আত্মবিশ্বাসী এ পেস বোলার আজ ফাইনালেও ভারতের অন্যতম ভরসার নাম।
ভারতের যেমন কোহলি, নিউজিল্যান্ডেরও আছেন কেন উইলিয়ামসন। তার কীর্তি উপেক্ষা করার কোনো সুযোগই নেই। আইসিসি ইভেন্টে তার চেয়ে বেশি রান নিউজিল্যান্ডের আর কেউ করতে পারেননি। ২০১৯ বিশ্বকাপে সর্বোচ্চ রান করেন উইলিয়ামসন, যা যুগ্মভাবে কিউইদের হয়ে সর্বোচ্চ। ২০২৩ আসরে রাচিন রবীন্দ্র করেন উইলিয়ামসনের সমান ৫৭৮ রান।
নিউজিল্যান্ডকে এ আসরে নেতৃত্ব দেয়া স্পিনার মিচেল স্যান্টনার ২০১৬ সালে অভিষেক আসরে ১০ উইকেট নিয়ে কিউইদের সেমিফাইনালে তুলতে সাহায্য করেন। চলতি আসরেও তিনি সাত উইকেট নিয়েছেন ৪.৮৫ গড়ে। দেশের হয়ে অবদান রেখেছেন গতি বোলার ম্যাট হেনরিও। ২০১৯ সালের সেমিফাইনালে তিনি ৩৭ রানে ৩ উইকেট নেন। চলতি আসরে সর্বোচ্চ ১০ উইকেট নিয়েছেন তিনি। এর মধ্যে পাকিস্তান ম্যাচেই নেন ৫ উইকেট।










