বাংলাদেশ টেস্ট দলের নেতৃত্বে ফিরলেন সাকিব
আল হাসান। মুমিনুল হক সরে দাঁড়ানোয় তার জায়গায় কৃতি এ অলরাউন্ডারকে দায়িত্ব দিয়েছে
বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি)। আজ দুপুরে বিসিবির
বোর্ডসভায় এ সিদ্ধান্ত নেয়া হয়। সাকিবের ডেপুটি করা হয়েছে লিটন কুমার দাসকে। এ
দুজনের নেতৃত্বেই চলতি মাসে ওয়েস্ট ইন্ডিজের মাটিতে দুই টেস্টের সিরিজ খেলবে
বাংলাদেশ।
সম্প্রতি দক্ষিণ আফ্রিকা সফরে দুই টেস্টেই
ধরাশায়ী হয় বাংলাদেশ। এরপর ঘরের মাঠে শ্রীলংকার কাছে ১-০তে সিরিজ পরাজয়। টেস্ট
দলের টানা ব্যর্থতায় কাঠগড়ায় ওঠেন অধিনায়ক মুমিনুল। সঙ্গে নিজের ব্যাটিং নিয়েও
সমালোচনার মুখে পড়েন তিনি। এমন পরিস্থিতিতে জাতীয় দলের নেতৃত্ব ছাড়ার ইচ্ছা ব্যক্ত
করেন তিনি।
শ্রীলংকার বিপক্ষে মিরপুর টেস্টে প্রথম
ইনিংসে ২৫ রানে ৫টি ও দ্বিতীয় ইনিংসে ২৩ রানে ৪টি উইকেটের পতন ঘটে বাংলাদেশের।
দলের এমন পারফরম্যান্সে প্রচণ্ড চাপ তৈরি হয় নেতৃত্বের ওপর। তাতে সরেই যেতে হলো
মুমিনুলকে।
মুমিনুলের নেতৃত্বে ১৭টি টেস্ট খেলেছে
বাংলাদেশ, এর মধ্যে
তিনটিতে জিতেছে টাইগাররা, হেরেছে ১২টি, আর ড্র হয়েছে দুটি ম্যাচ। গত জানুয়ারিতে নিউজিল্যান্ডের মাটিতে ঐতিহাসিক
টেস্ট সিরিজ জয় এসেছে মুমিনুলের নেতৃত্বে। যদিও এরপর পাঁচ টেস্টের চারটিতেই
বাজেভাবে হেরেছে দল।
মুমিনুল চলে যাওয়ায় ফের নেতৃত্বে ফেরা
সাকিবের। আসন্ন ওয়েস্ট ইন্ডিজ সফরেই তার নেতৃত্বে টেস্ট খেলবে বাংলাদেশ।
কাকতালীয়ভাবে প্রথমবার ওয়েস্ট ইন্ডিজ সফরেই টেস্ট দলকে নেতৃত্ব দিয়েছিলেন সাকিব।
মাশরাফির ডেপুটি হিসেবে ওয়েস্ট ইন্ডিজ সফরে যায় বাংলাদেশ। সফরে মাশরাফি চোটে পড়লে
নেতৃত্ব কাঁধে পড়ে সাকিবের এবং তার নেতৃত্বে ঐতিহাসিক সিরিজও জয় করে বাংলাদেশ।
সাকিব ছিলেন বাংলাদেশের সপ্তম টেস্ট অধিনায়ক। এরপর ২০১৮ থেকে ২০২০ সালের মাঝে ৫টি টেস্টে দলকে নেতৃত্ব দিয়েছেন তিনি। সব মিলে, সাকিবের নেতৃত্বে ১৪ টেস্ট খেলে বাংলাদেশ ৩টি জিতেছে, হেরেছে ১১টি। এছাড়া সাকিবের নেতৃত্বে বাংলাদেশ ৫০টি ওয়ানডে ম্যাচ খেলে ২৩টিতে জয় পেয়েছে, হেরেছে ২৬টি। টি২০তে খারাপ রেকর্ড সাকিবের; তার নেতৃত্বে ৭টি জয় আর ১৪টি পরাজয় বাংলাদেশের।
ওয়েস্ট ইন্ডিজ সফরে এবার দুটি টেস্ট এবং সমান তিনটি করে ওয়ানডে ও টি২০ ম্যাচ খেলবে বাংলাদেশ। ১৬ জুন অ্যান্টিগায় শুরু হবে প্রথম টেস্ট। সেদিনই তৃতীয়বারের মতো বাংলাদেশ টেস্ট দলের অধিনায়ক হিসেবে যাত্রা হবে সাকিবের।
নির্বাচক মিনহাজুল আবেদীন নান্নু, হাবিবুল বাশার ও আব্দুর রাজ্জাকের মেয়াদ ২০২৩ সালের ওয়ানডে বিশ্বকাপ পর্যন্ত বাড়িয়েছে বিসিবি।










