তৃতীয় বাছাই ওনস জাবের প্রথম আরব ও প্রথম আফ্রিকান নারী হিসেবে টেনিসের গ্র্যান্ড স্লাম ফাইনালে উঠে ইতিহাস গড়লেন। আজ দুই সন্তানের মা জার্মানির তাতিয়ানা মারিয়াকে ৬-২, ৩-৬, ৬-১ গেমে হারিয়ে উইম্বলডন ফাইনালে উঠলেন জাবের।


ফাইনালে তিনি খেলবেন কাজাখস্তানের এলেনা রিবাকিনার বিপক্ষে, যিনি আজ আরেক সেমিফাইনালে ৬-৩, ৬-৩ গেমে হারান দুইবারের গ্র্যান্ড স্লামজয়ী রোমানিয়ার সিমোনা হালেপকে। শনিবার মেয়েদের ফাইনাল। 

 প্রথম তিউনিস হিসেবে ডাব্লিউটিএ ফাইনাল, গ্র্যান্ড স্লাম কোয়ার্টার ফাইনাল, র্যাংকিংয়ের শীর্ষ ৫০, ডাব্লিউটিএ শিরোপা জয়, শীর্ষ দশে ওঠার পর এবার গ্র্যান্ড স্লাম ফাইনালে উঠলেন তিনি।

 

১০৩ নম্বর র্যাংকধারী তাতিয়ানা সর্বনিম্ন র্যাংকধারী হিসেবে গ্র্যান্ড স্লাম ফাইনালে ওঠার স্বপ্ন দেখছিলেন। যদিও রূপকথা লিখে চলা ওনস জাবেরের কাছে তার সেই স্বপ্ন ভেঙে গেল।

 

দুই প্রতিদ্বন্দ্বী ভালো বন্ধুও। মারিয়াকে ‘বারবিকিউ বাডি’ বলে অভিহিত করেন জাবের। এমনকি, মায়ামিতে খেলতে গেলে তাতিয়ানার বাসায় থাকেন তিনি। এবার উইম্বলডনের সেন্টার কোর্টে লড়তে হলো একে অপরের বিপক্ষে। ম্যাচ শেষে একে অপরকে আলিঙ্গনে বাঁধলেন।



 ২৭ বছর বয়সী জাবের শনিবার ফাইনালে খেলবেন। আজ আরেক সেমিফাইনালে লড়বেন সিমোনা হালেপ ও এলেনা রিবালিনা।

 

ক্যারিয়ারে প্রথমবারের মতো কোনো গ্র্যান্ড স্লাম ফাইনালে ওঠার পর ওনস জাবের বললেন, বছরের পর বছর ধরে যে কঠোর পরিশ্রম করেছি, আজ তার ফল এলো, আর স্বপ্ন পূরণ হলো। পরিশ্রম কাজে লেগেছে বলে আমি খুশি, যদিও এখনো একটি ম্যাচ বাকি রয়েছে।

 

তিউনিসিয়ায় ‘মিনিস্টার অব হেসিনেস’ নামে পরিচিত জাবের তার টেনিস সাফল্য দিয়ে ক্রমেই তিউনিসিয়া, আরব ও আফ্রিকায় তুমুল জনপ্রিয় হয়ে উঠছেন। এ নিয়ে তিনি বললেন, তিউনিস নারী হিসেবে আজ এখানে আমি গর্বিত। জানি, এ মুহূর্তে তিউনিসিয়ার মানুষ কতটা উন্মত্ত হয়ে যাবে। আমি যতটা পারি দেশের মানুষকে অনুপ্রাণিত করি এবং আমি চাইব আরব ও আফ্রিকা অঞ্চল থেকে যেন আরো বেশি মানুষ ট্যুর টেনিসে অংশ নিতে পারে।